পাবনার
বেড়ায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যমুনা নদীর
প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে
পড়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধের টপ কয়েক জায়গায় ৩-৪ ফুট করে দেবে গেছে।
প্রতিরক্ষা বাঁধের কোল ঘেষে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন,
সিসি ব্লক চুরি ও
ধবসে যাওয়ায় বাঁধের মাটি বের হয়ে গেছে। ফলে আগামী বর্ষায় মওসুমে যমুনার
প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান স্্েরাতের টানে ও ঢেউয়ের আঘাতে এসব স্থানে মারাত্মক
ভাঙন দেখা দেবে বলে নদী পাড়ের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। নদী
প্রতিরক্ষা বাঁধটি সরেজমিন ঘুড়ে দেখা যায়, বেড়ার মোহনগঞ্জ এলাকায় ৩টি
পয়েন্টে নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের টপ ৮ ফুট দৈর্ঘে ২ থেকে ৩ ফুট করে দেবে
গেছে। সিসি ব্লক আলগা হয়ে পড়েছে। মোহনগঞ্জের ভাটিতে মালদাহপাড়ায় ২টি
পয়েন্টে ১০ ফুট ধৈর্ঘে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বাঁধের টপ দেবে গেছে। এর
সামান্য দুরে বাঁধের টপ থেকে স্লোপের নিচ পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে
ব্লক চুরি হয়ে যাওয়ায় মাটি বেড়িয়ে পড়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধের নিচে নদীতে
ফেলা সাপোটিং ব্লক অনেক জায়গা থেকে চুরি হয়ে গেছে। মোহনগঞ্জ ও মালদাহপাড়ায়
প্রতিরক্ষা বাঁধের সাথে লাগানো দুটি ইট ভাটার লোড ট্রাক চলাচল করছে।
ট্রাকের ঝাঁকুনিতে প্রতিরক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ছে। নাকালিয়া বাজার
পয়েন্টে সিসি ব্লক ধ্বসে গেছে। এছাড়া মোহনগঞ্জ থেকে কৈটোলা পর্যন্ত
প্রতিরক্ষা বাঁধের কোল ঘেষে বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি বোমা মেশিনের (দেশীয়
প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রেজার) সাহায্যে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা
হচ্ছে। নদীর যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তার চার পাশের এলাকা
ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বর্ষা মওসুমে যমুনা নদীর মুল ধারাটি সরাসরি মোহনগঞ্জ ও মালদাহপাড়ায় আঘাত
করে। আগামী বর্ষা মওসুমের আগে প্রতিরক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টগুলো
সংস্কার না করা হলে ¯্রােতের টানে ও ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার
আশঙ্কা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment