Saturday, February 4, 2017

বিতর্কমুক্ত থাকুক সার্চ কমিটি

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর নির্বাচন কমিশন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যূন চারজন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগদান বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়েছে, এতদবিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক পদগুলোয় নিয়োগদান বিষয়ে কোনো আইন প্রণীত হয়নি। বর্তমানে যে নির্বাচন কমিশনটি কার্যকর রয়েছে এটি একাদশ নির্বাচন কমিশন। এটির কার্যকাল ফেব্রুয়ারিতে সমাপ্ত হবে। একটি নির্বাচন কমিশনের কার্যকাল শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পুনঃনিয়োগ বারিত হলেও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ বারিত নয়। বর্তমান একাদশ নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় দেখা গেছে, গঠন-পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সাংবিধানিক পদধারী চার ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি সার্চ বা বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই বাছাই কমিটিতে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সদস্য হিসেবে ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি। দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে একাদশ নির্বাচন কমিশনের মতো সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগেকার সার্চ কমিটির সঙ্গে এটির পার্থক্য হল, এটিতে সদস্য হিসেবে অতিরিক্ত দু’জনের স্থান মিলেছে। তারা দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমান কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব যিনি পেয়েছেন তিনি আগেকার কমিটিরও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান কমিটির অপর তিন সদস্যের পদবি আগেকার কমিটির অনুরূপ হলেও ব্যক্তি হিসেবে তারা ভিন্ন।
আমাদের বর্তমান সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় সরকারের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রের অন্যসব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করলেও প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি এ দুটি পদের নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তার অন্যসব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সমাধা করে থাকেন। এ দুটি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির পক্ষে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। একাদশ নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমাদের সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে অনুরূপ সার্চ কমিটির উল্লেখ নেই। এ বাস্তবতায় এ ধরনের সার্চ কমিটির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতির পক্ষে এ ধরনের সার্চ কমিটি গঠনের সুযোগ নেই। বর্তমান সার্চ কমিটি গঠন বিষয়ে বঙ্গভবন, আইন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র উল্লেখ করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, ২৫ জানুয়ারি সকালে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এক নারী প্রতিনিধিসহ ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি পাঠায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। বঙ্গভবনের চিঠি পাওয়ার পর নাম নির্ধারণ এবং এটি গেজেট আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এরপর তারা দু’জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎপূর্বক তার সঙ্গে আধঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক সার্চ কমিটির প্রধান ও সদস্য হিসেবে দু’জন বিচারককে মনোনয়ন দেয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সার্চ কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্চ কমিটি গঠনের আগে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেটি আবার পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। উপরোক্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়া অবলোকনে প্রতীয়মান হয়, সার্চ কমিটিতে যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির যে সাংবিধানিক অবস্থান তা যথারীতি প্রতিপালিত হয়েছে। বর্তমান সার্চ কমিটিও ধারণা করা যায় আগেকার সার্চ কমিটির মতো প্রতিটি পদের বিপরীতে দুটি করে নামের সুপারিশ রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরণ করবে। আগেকার সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল, তা এ পর্যন্ত গঠিত নির্বাচন কমিশনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিতর্কিত ও সমালোচিত। সার্চ কমিটির পক্ষে দলীয় মতাদর্শী ও সুবিধাভোগী নয় এমন সৎ, দক্ষ, যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং বাস্তবিক অর্থেই নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সুপারিশ প্রদান সম্ভব। এমন ব্যক্তির সংখ্যা আমাদের দেশে অপর্যাপ্ত নয়। তাদের খুঁজে বের করতে যা দরকার তা হল, নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দৃষ্টি প্রসারিত করে দলীয় মতাদর্শী, দলীয় সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিবেচনায় না নিয়ে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্নদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরণ। স্বভাবতই প্রশ্নের উদয় হতে পারে, দলীয় সুবিধাভোগী ও দলীয় মতাদর্শী কারা? এ বিষয়ে বিজ্ঞজনের সুচিন্তিত মত হল, অবসরের পর বিশেষ বিবেচনায় যারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক বা মেয়াদি পদে নিয়োগ লাভ করেছেন তারা হলেন দলীয় সুবিধাভোগী আর যাদের জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে তারা দলীয় মতাদর্শী। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় সরকারের আমলেই এ ধরনের অগণিত কর্মকর্তা মেধা, দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অতিমূল্যায়িত হয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন।
তাদের কাছে দেশ ও জাতির স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ অনেক বড়। এ ধরনের ব্যক্তিরা এর আগে জাতিকে কখনও ভালো কিছু দিতে পারেননি। আর ভবিষ্যতেও যে দিতে পারবেন না, এ বিষয়ে সচেতন দেশবাসীর মনে কোনো সংশয় নেই। এ প্রশ্নে কোনো বিতর্ক নেই যে, সার্চ কমিটি কর্তৃক রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রতিটি পদের বিপরীতে যে দুটি নামের সুপারিশ যাবে তার একটির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরামর্শ ব্যক্ত করবেন। সার্চ কমিটি প্রেরিত সুপারিশে প্রকৃত অর্থেই দলীয় সুবিধাভোগী ও মতাদর্শী নয় এমন ব্যক্তির ঠাঁই হলে আশা করা যায়, জাতি এমন একটি নির্বাচন কমিশন পাবে যেখানে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটবে। অতীতে সার্চ কমিটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে কিনা, তা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি অনুধাবনের মধ্য দিয়েই দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট। সার্চ কমিটির আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতা নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের সুপারিশের মধ্যে এমন নামের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে পারে, যা সার্বিক বিবেচনায় কমিশনকে যে কোনো ধরনের দলীয় আবরণের দায় থেকে মুক্ত রাখবে। আমাদের দেশে এর আগে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে যেমন সরকারি দল জয়ী হয়েছে, অনুরূপ দলীয় সরকারের অধীনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারি দলের বিজয় হয়েছে। অপরদিকে কর্মরত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকার, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দলের বিজয় লাভ ঘটেছে। উপরোক্ত সরকারগুলো ক্ষমতাসীন থাকার সময় একটি মাত্র ক্ষেত্র অর্থাৎ অষ্টম নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন কর্মরত নির্বাচন কমিশন ছাড়া দলীয় সরকার কর্তৃক গঠিত অপর সব নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। অষ্টম সংসদ নির্বাচনকালীন যে নির্বাচন কমিশন কর্মরত ছিল সেটি সপ্তম সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক গঠিত হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক গঠিত নির্বাচন কমিশনের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারার পেছনের মূল কারণ হল, সে সময় কর্মরত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করেনি। সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন কর্মরত থাকবে। স্বভাবতই এ নির্বাচন কমিশনে দলীয় সুবিধাভোগী ও দলীয় মতাদর্শী ব্যক্তিদের ঠাঁই হলে নির্বাচনী ফল কী হবে, তা দেশের সচেতন মানুষ অনুধাবন করতে সক্ষম। আর এ কারণেই দ্বাদশ নির্বাচন কমিশনে নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি জরুরি। দশম সংসদ নির্বাচন ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের মতো একতরফা, ভোটারবিহীন ও সহিংস ছিল। উভয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
এ দুটি নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য হল, প্রথমোক্তটি অনুষ্ঠানের পর যে সংসদ গঠিত হয়েছিল তা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল পাস করার ফলে অবলুপ্তির মধ্য দিয়ে সে সরকারের বিদায় ঘটে; পক্ষান্তরে শেষোক্তটি অনুষ্ঠানের পর একই সরকার বহাল রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান প্রবর্তিত হয়; অপরদিকে ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন সরকার একতরফাভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। ১৯৯০-পরবর্তী দেশে পর্যায়ক্রমে বড় দুটি দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে আসছে।দশম সংসদ নির্বাচন একতরফা হলেও আশা করা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করছে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন কর্মরত নির্বাচন কমিশনের ওপর। এ কমিশন গঠন বিষয়ে এরই মধ্যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত দলগুলো থেকে সম্ভাব্য কমিশনারদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নিবন্ধিত দলগুলো এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সার্চ কমিটির কাছে তালিকা হস্তান্তর করেছে। বড় দুটি দলসহ বিভিন্ন দলের তালিকায় কাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এর সত্যতা নিয়ে বড় দুই দল এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কিছুই বলা হয়নি। প্রকাশিত নামগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সবাই যে সৎ, দক্ষ, যোগ্য,
নিরপেক্ষ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এমনটি জোর দিয়ে বলা যাবে না। আর তাই এদের মধ্যে প্রকৃত অর্থেই কারা সৎ, দক্ষ, যোগ্য, নিরপেক্ষ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এটি নির্ধারণের দায়িত্ব অবশ্যই সার্চ কমিটিকে পালন করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য আগামী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক সুপারিশকৃত নয় এমন ব্যক্তির নাম কাক্সিক্ষত যোগ্যতাসম্পন্ন বিবেচনায় সুপারিশে অন্তর্ভুক্তি সার্চ কমিটির জন্য বারিত নয়। সার্চ কমিটি কী পন্থা ও পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর তালিকা সংবলিত সুপারিশ প্রেরণ করবে, তা তাদের একান্ত নিজস্ব বিষয় হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত। সার্চ কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে গঠিতব্য নির্বাচন কমিশনটি নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে তা শুধু কমিশন নয়, সার্চ কমিটি নিয়েও বিতর্কের জন্ম দেবে। আর এ ধরনের বিতর্ক যে আমাদের জন্য অবমাননাকরভাবে বহুজাতিক সংস্থার নেতৃত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ প্রশস্ত করবে- অন্তত এ সত্যটি উপলব্ধি করে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন, এটিই আজ দেশবাসীর প্রত্যাশা।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com

No comments:

Post a Comment