সিরাজগঞ্জের
শাহজাদপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক
মিরুর গুলিতে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল নিহতের ঘটনায় আরো
পাচঁজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে এজহারভুক্ত আসামি ছয়আনি পাড়ার খন্দকার
করিম বকসের ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এছাড়া ত্বারিয়াপুর বাজার ও মনিরামপুর বাজার থেকে আরো চারজনকে আটক করা হয়।
তবে তাদের নাম পরিচয় জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদসহ
ঘটনার সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত কিনা তা যাচাই-বাছাই চলছে। শুক্রবার রাতে অভিযান
চালিয়ে নাসির উদ্দিনসহ বাকি চারজনকে আটক করা হয়। শাহজাদপুর থানার ওসি মো.
রেজাউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার ভোরে পৌর মেয়র হালিমুল
হক মীরুর ছোট ভাই মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। আর বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা
হয় তার আরেক ছোট ভাই পিন্টুকে। সাংবাদিক শিমুল হত্যায় এ নিয়ে এজাহারভুক্ত
তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো।
আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলো আরো
চারজনকে। সাংবাদিক শিমুল হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নূরুন নাহার বাদী হয়ে
শুক্রবার রাতে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে আসামি হিসেবে মেয়র
মীরু, তার ভাই পিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা
হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেই পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরু, তার ছোট ভাই
হাকিমুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায়
মামলা করেন শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের চাচা
এরশাদ আলী। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার
মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মীরুর ছোড়া গুলিতে
গুরুতর আহত হন সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল (৪২)। উন্নত চিকিৎসার জন্য
শুক্রবার বগুড়া থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুরে টাঙ্গাইলে মারা যান তিনি।
আবদুল হাকিম শিমুল শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে।
তিনি দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। শিমুলের মৃত্যু
সংবাদ শুনে শোকে ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তার নানি রোকেয়া
বেগমও (৭০) মারা যান। এদিকে শিমুল হত্যার ঘটনায় আজ শাহজাদপুরে অর্ধদিবস
হরতাল চলছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাহজাদপুর হাইস্কুল মাঠে শিমুলের জানাজা
অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে নিজ গ্রাম মাদলাতে দাফন করার কথা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment