Wednesday, February 8, 2017

সিরিয়ায় এক কারাগারে ১৩ হাজার বন্দির ফাঁসি

সিরিয়ার একটি কারাগারে গোপনে প্রায় ১৩ হাজার বন্দিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। হতভাগ্যদের অধিকাংশই বেসামরিক ও বিরোধী সমর্থিত মানুষ বলে জানায় সংস্থাটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত মানবাধিকার সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার কুখ্যাত সেডনায়া কারাগারে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে গণহারে এসব বন্দির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। খবর বিবিসির।
অ্যামনেস্টি জানায়, মৃত্যুদণ্ডের আদেশগুলো সিরিয়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়। বন্দিদের হত্যা বা তাদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সিরিয়া সরকার। এক বছর আগে জাতিসংঘের এক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও দালিলিক সাক্ষ্যপ্রমাণে জোরালোভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, হাজার হাজার লোককে আটক করে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে ‘ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।’ অ্যামনেস্টি বলছে, তারা তাদের প্রতিবেদনের জন্য ৮৪ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকার দাতাদের মধ্যে সাবেক কারারক্ষী, বন্দি ও কারা কর্মকর্তা রয়েছেন। অ্যামনেস্টি জানায়, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উত্তরে অবস্থিত কারাগারটিতে উল্লিখিত সময়ে প্রতি সপ্তাহে এবং কোনো সপ্তাহে দু’বার ২০ থেকে ৫০ জন বন্দিকে গোপনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিচারের জন্য বন্দিদের প্রথমে একটি সামরিক আদালতে নেয়া হতো। সেখানে এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হতো। সিরিয়ার সামরিক আদালতের এক সাবেক বিচারকের উদ্ধৃতি দিয়ে মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়, সংঘটিত অপরাধ করেছেন কি-না, সে বিষয়ে বন্দিদের কাছে জানতে চাওয়া হতো। হ্যাঁ-না যে উত্তরই আসুক বন্দিকে দণ্ড দেয়া হতো। আদালতে আইনের শাসনের কোনো বালাই ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী,
ফাঁসি কার্যকরের দিন সংশ্লিষ্ট বন্দিদের বলা হতো, তাদের বেসামরিক কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। এমন কথা বলে বন্দিদের ভূগর্ভস্থ সেলে নেয়া হতো। সেখানে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে তাদের পেটানো হতো। মধ্যরাতে বন্দিদের চোখ বেঁধে কারাগারের অন্য অংশে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানেও ভূগর্ভস্থ একটি কক্ষে নিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে অবহিত করা হতো। কোনোরকম সময় না দিয়েই বন্দিদের ফাঁসিতে ঝোলানো হতো। এরপর তাদের লাশ লরিতে তোলা হতো। পরে সামরিক ভূমিতে তাদের গণকবর দেয়া হতো। সংস্থাটি আরও জানায়, ফাঁসিতে ঝুলানোর আগে সাধারণ মানুষকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন। শুধু তাই নয়; খাদ্য এবং পানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বন্দিদের অভুক্ত রাখা হতো। অ্যামনেস্টির ওই প্রতিবেদনটির লেখক নিকোলিট ওয়াল্ডম্যান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এভাবে প্রতিদিন, এমনকি আজও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের শুনানির ওপর ভিত্তি করেই তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হতো। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুমোদনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর স্বাক্ষরিত আদেশেই তাদের ফাঁসি দেয়া হতো। নিকোলিট আরও বলেন, ‘অবিশ্বাস্য যে, সরকারের উচ্চমহলের কর্মকর্তাদের মধ্যে সবাই এ বিষয়টি জানত না। এটি একটি নিধননীতি ছিল।’

No comments:

Post a Comment