মার্কিন
ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, রাশিয়াকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে
যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে রাশিয়ার
‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ নিয়ে বিতর্কের মুখে পেন্স এ ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে
ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানিয়েছেন ন্যাটোর
ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন সবসময় অটল থাকবে। শনিবার জার্মানির মিউনিখে
নিরাপত্তাবিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন
পেন্স। খবর সিএনএন ও বিবিসির। যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার প্রশংসা, ন্যাটোকে
অচল বলা এবং রাশিয়ার প্রতি নমনীয়তায় বর্তমান মার্কিন প্রশাসন নিয়ে উদ্বেগে
আছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স
সেই আস্থা উদ্ধারের মিশনে বের হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এই প্রথম
উল্লেখযোগ্য পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। নিরাপত্তা সম্মেলনে পেন্স
বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আজ এবং প্রতিদিন ইউরোপের সঙ্গে থাকবে।’ নিরাপত্তা
সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যদের নির্ধারিত ফি দেয়ার ব্যর্থতার সমালোচনা করেন
পেন্স। ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ন্যায্য প্রতিরক্ষা ব্যয়
নির্বাহে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’ পেন্স আরও বলেন, ‘এই ব্যর্থতা আমাদের
সম্পর্কের ভিত্তি ফিকে করে দিচ্ছে।’ মাইক পেন্স উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র
ছাড়া ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে মাত্র চারটি দেশ তাদের জিডিপির ২ শতাংশ
প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। ২০১৪ সালে ন্যাটোর সব সদস্য দেশ প্রতিশ্রুতি
দেয়, তারা তাদের জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করবে। তিনি বলেন, ‘আরও
কিছু করার সময় এসেছে।’ নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো সহযোগীদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা
করতে পারবে না, কারণ তারা প্রতিশ্রুত অর্থ দেয় না। রুশ আগ্রাসনের বিপরীতে
ইউরোপকে আশ্বস্ত করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়াকে জবাবদিহি
করতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য করবে। তবে মস্কোর সঙ্গে কাজ করার নতুন ক্ষেত্র
খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পেন্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস
করেন, তিনি নতুন ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন। এসময় রাশিয়াকে বেলারুশের মিনস্কে
২০১৫ সালে সম্পাদিত ইউক্রেনবিষয়ক শান্তিচুক্তি মেনে চলতে হবে বলেও উল্লেখ
করেন তিনি। এদিকে, ন্যাটো জোটের মহাসচিব জিন্স স্টোলটেনবার্গ জানিয়েছেন,
রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে সামরিক জোট ন্যাটো কাজ করছে। মিউনিখে রুশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ
কথা বলেন। তবে বৈঠকে ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের
ওপর দমনাভিযান ও সংঘর্ষে ১০ হাজার মানুষ নিহতের ঘটনায় ক্রেমলিনকে দোষারোপ
করে ন্যাটো। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরোপের দেশগুলোকে মাথানত না
করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অঙ্গসংস্থা ইউরোপীয় কমিশনের
(ইসি) প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ জাঙ্কার।
নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামরিক বরাদ্দ বাড়ানোর যে দাবি তুলেছে,
তার কাছে ইউরোপের নমনীয় হওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। নিরাপত্তা কেবল সামরিক
বিষয় নয়, উন্নয়ন ও মানবিক ত্রাণও এর আওতাভুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাঙ্কার আরও বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুদের নিরাপত্তার ধারণাকে সামরিক
ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলাটা আমি পছন্দ করি না। আপনি যদি দেখেন
প্রতিরক্ষায় ইউরোপ কী করছে, সেইসঙ্গে উন্নয়নে তাদের অবদান কী এবং মানবিক
ত্রাণের ক্ষেত্রে তারা কী করছে তাহলেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের সঙ্গে ইউরোপের
ব্যয়ের তুলনামূলক পার্থক্যটা বোঝা যাবে।’ আল-জাজিরা জনিয়েছে, নিরাপত্তা
সম্মেলনে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন জার্মান চ্যান্সেলর
অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তিনি বলেন, ইসলাম সন্ত্রাসবাদের কোনো উৎস নয়, বরং
মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কেলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক এখনও চ্যালেঞ্জিং। তবে আইএস
কিংবা এ ধরনের সন্ত্রাসী দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির সঙ্গে কাজ করা
জরুরি।

No comments:
Post a Comment