দেশের
সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে । পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জানুয়ারি মাসে এ
হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৩
শতাংশ। মোটা চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাবেই জানুয়ারিতে
মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন। খাতভিত্তিক হিসাবেও
জাতীয়, গ্রাম ও শহর সব পর্যায়েই খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ব্যাপক বেড়েছে।
তবে কমেছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ক্ষেত্রে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা
নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ
করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিসংখ্যান ও তথ্য
ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কেএম মোজাম্মেল হকসহ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর
(বিবিএস) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে
পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানান, জানুয়ারি মাসে মোটা চালের দাম
বেড়ে গিয়েছিল। তা ছাড়া স্কুলে শিশুদের ভর্তি ও অন্যান্য বিষয় থাকায় এ সময়
ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। ফলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ে। সাধারণত জানুয়ারি ও জুন
মাসে আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, চাল,
মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য খাদ্যজাতীয়
দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে
মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, চাল, তেলসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায়
জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তবে যদি ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা চলতেই থাকে
তাহলে গরিব ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে। কিন্তু যেহেতু
প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রয়েছে, তাই মনে হচ্ছে
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামীতে থাকবে না। বৃদ্ধিটা যদি সিজনাল হয়
তাহলেই ভালো। তা না হলে এখন থেকেই বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। বিবিএসের
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের
মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫
দশমিক ৩৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক
১০ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ ছাড়া গ্রামে সার্বিক
মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯২ শতাংশে,
যা আগের
মাসে ছিল ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬
দশমিক ২৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত
পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল
৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট
ভিত্তিতে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক
শূন্য ৭ শতাংশ। তবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১১
শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের
মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫
দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে মজুরি সূচক ও শতকরা হারও বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে সার্বিকভাবে পয়েন্ট
টু পয়েন্টে মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৬
দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে কৃষি খাতে পয়েন্ট টু পয়েন্টে বেড়ে হয়েছে ৬
দশমিক ৭০ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শিল্প খাতে হয়েছে ৬
দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৬ সদশমিক ৩৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে
জানুয়ারি মাসে মজুরি হার কিছুটা কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা ডিসেম্বর
মাসে ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

No comments:
Post a Comment