বর্তমান
বিশ্বে অনেক দেশেই গৃহযুদ্ধ চলছে। সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন,
সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া ইত্যাদি দেশ কোনো না কোনো কারণে গৃহযুদ্ধকবলিত।
গৃহযুদ্ধের ফলে সাধারণ নাগরিকদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। নিজ দেশে
অনেকেই পরবাসী হয়ে পড়েছে। আবার অনেকেই নিরুপায় হয়ে স্বদেশের মাটি ত্যাগ করে
বিদেশে শান্তির আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিদেশীরাও গৃহযুদ্ধে
সর্বস্বহারা এসব মানুষকে আশ্রয় দিতে চাইছে না। যেসব দেশে শরণার্থীরা
আশ্রয়ের সন্ধানে যাচ্ছে সেখানেও তাদের গ্রহণ করার প্রশ্নে প্রচণ্ড মতভেদ
দেখা দিচ্ছে। শরণার্থীদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ কিংবা ভালোবাসার অভাবে ওইসব
দেশের জনগণও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, জাতিগত বিদ্বেষকে আশ্রয় করে
সৃষ্টি হচ্ছে নতুন ধারার রাজনৈতিক সংগঠন। এই রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে রাজনীতির
পরিভাষায় অতি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
উদারপন্থী রাজনীতির অনুসারীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করে,
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত উদারপন্থী অনেক দেশ কট্টরপন্থীদের কব্জায় চলে যেতে
পারে। রাজনৈতিক স্থিতাবস্থায় এ ধরনের পরিবর্তন কোনো সামাজিক অভ্যুত্থানের
মাধ্যমে ঘটবে বলে মনে হয় না। নির্বাচনের মাধ্যমেই অতি দক্ষিণপন্থীরা তাদের
আসন পাকাপোক্ত করে ফেলতে সক্ষম হবে। এতকাল ধরে পাশ্চাত্যের প্রভাবশালী
দেশগুলো আমাদের গণতন্ত্রের ছবক দিয়ে আসছিল। তারা আমাদের প্রতিনিয়ত নানা
বিষয়ে জ্ঞান দিত। এখন যেসব দেশ উন্নত মূল্যবোধের তীর্থস্থান বলে পরিচিত,
সেখানে যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সবকিছু উল্টে যায় তাহলে আমাদের সভ্য
হওয়ার নসিহত কারা করবে? কার্যত গোটা দুনিয়ার চেহারাটাই পাল্টে যাওয়ার
উপক্রম হবে। নতুন করে মানবিকতা, সহিষ্ণুতা, সত্যতা, ভালোবাসা ও
প্রীতিপ্রেমের পৃথিবী গড়ে তোলার আশা সুদূরপরাহত হয়ে যাবে। সামান্য আশার কথা
এই যে, এমন বৈরী পরিবেশের মধ্যেও মানবিকতার স্বপ্ন দেখে এবং তার জন্য
দৃঢ়চিত্ত হয়ে সংগ্রাম করে এমন অনেক মানুষ তাদের লালিত বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে
যাচ্ছে, নিশ্চুপ বা নির্বাক হয়ে পড়ছে না। যদি সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির
উদ্ভব হয়, তাহলে বুঝতে হবে ভয়ের সংস্কৃতি সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছে।
কোথাও কোনো সৎ ভাবনা, সৎ চিন্তা বা সৎ কর্মের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। এই
পৃথিবীটা নরকতুল্য হয়ে পড়বে। যেসব দেশে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে সেখানকার
দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে নরকবাসের কোনো পার্থক্য নেই। আমাদেরই এক কবি
লিখেছিলেন, কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক/কে বলে তা বহুদূর/মানুষেরই মাঝে
স্বর্গ-নরক/মানুষেতেই সুরাসুর। বস্তুত মানব মনে অহরহ কল্যাণ ও অকল্যাণের
দ্বন্দ্ব চলছে। মানুষের মধ্যে অকল্যাণের শক্তি যখন প্রধান হয়ে ওঠে, তখন
পৃথিবীটা হয়ে ওঠে নরকতুল্য। একইভাবে মানুষের মধ্যে যখন কল্যাণের শক্তি
জাগ্রত হয় এবং প্রধান হয়ে ওঠে তখন আমাদের পৃথিবীতেই আমরা স্বর্গসুখ অনুভব
করতে পারি। সুতরাং পৃথিবী নরকতুল্য হবে নাকি স্বর্গসুখের আবাসভূমি হবে তা
পুরোপুরি মানুষের ওপরই নির্ভর করে। সে জন্যই বলতে হয়, খবঃ মড়ড়ফ ংবহংব
ঢ়ৎবাধরষ. সমাজে, দেশে কিংবা বৃহত্তর পরিসরে পৃথিবীতে সুমতি বিস্তার লাভ
করবে কিনা তা পুরোপুরি কল্যাণ ও অকল্যাণের শক্তির ভারসাম্যের ওপর নির্ভর
করে। গৃহযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্পেনের গৃহযুদ্ধের কথা
মনে আসে। স্পেনের গৃহযুদ্ধের কাহিনী অনেকেই ভুলে গেছেন। ১৭ জুলাই ১৯৩৬-এ
মরক্কোয় অবস্থিত স্পেনের সশস্ত্র বাহিনী প্রজাতন্ত্রের বৈধ সরকারের
বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহীদের অভিযোগ ছিল- সরকার পিতৃভূমিকে ভেঙে খান
খান করে ফেলেছে এবং বলশেভিক বিপ্লবের সহায়তা করছে। আংশিকভাবে সফল
সেনাবিদ্রোহ তিন বছরের গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগতদের
সমর্থনে ছিল শ্রমিক শ্রেণীর মিলিশিয়া। এরা প্রজাতন্ত্রের শিল্পাঞ্চলগুলো
নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে প্রজাতন্ত্রবিরোধী যারা জাতীয়তাবাদী বলে
পরিচিত হয়ে উঠেছিল, তারা কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।
এর ফলে পুরো গৃহযুুদ্ধের সময় প্রজাতান্ত্রিক স্পেনে তীব্র খাদ্য সংকট
সৃষ্টি হয়। শ্রমিক শ্রেণী যে বিপ্লবী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল তার মূলে ছিল
বিদ্রোহী জেনারেলদের বিদ্রোহ। প্রজাতন্ত্র এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রমিক
শ্রেণীর কমিটি এবং মিলিশিয়া গড়ে উঠেছিল। তারা সরকারের প্রশাসনিক দায়িত্ব
গ্রহণ করেছিল। বিদ্রোহী সামরিক বাহিনীকে বেআইনি ঘোষণা করায় তারা সামরিক
বাহিনীর ভূমিকাও গ্রহণ করেছিল। সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শত শত খামার
ও কলকারখানা যৌথ মালিকানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। ইউরোপের রোমান্টিক বামপন্থী
যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য এসেছিল তারা বিশ্বাস করত শেষ মহান আদর্শটির
জন্য তারা লড়াই করছে এবং একটি নতুন শ্রমিক শ্রেণীর সভ্যতার উত্থান
প্রত্যক্ষ করছে। প্রজাতন্ত্রী স্পেনের একটি উভয় সংকট ছিল, কেবল
স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবী জোয়ারে যুদ্ধ জয় করা সম্ভব কিনা, অথবা একটি কেন্দ্রীয়
সামরিক যন্ত্র তৈরি করা, যেটা ছিল কমিউনিস্টদের দাবি। কমিউনিস্টরা মনে
করত, সামরিক যুদ্ধে জয়লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত সব ধরনের সামাজিক বিপ্লব
স্থগিত রাখতে হবে। কমিউনিস্টদের এই থিসিস প্রাধান্য পেয়েছিল এই কারণে যে,
সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল প্রজাতন্ত্রের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। স্পেনের
কমিউনিস্ট পার্টি এসব অস্ত্রের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিল। তারা
বিশ্বাস করত, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং বুর্জোয়া ব্যবস্থা বজায় রেখেই যুদ্ধে
জয় লাভ করা সম্ভব। এভাবে কমিউনিস্টরা সমাজ বিপ্লবের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়
এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর স্বার্থের পুরোধা হয়ে পড়ে। একটি
কেন্দ্রীয় সরকার গঠন এবং তার পাশাপাশি একটি দক্ষ সামরিক বাহিনী গঠন
প্রজাতন্ত্রী স্পেনে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের ইস্যুতে পরিণত হয়। তথাকথিত
জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনীর মূল কাঠামোটি সৃষ্টি হয়েছিল এলিট আফ্রিকান
ইউনিটগুলোর দ্বারা। এর নেতৃত্বে ছিলেন ফান্সিসকো ফ্রাঙ্কো। তারা যুদ্ধের
নিয়ামক প্রাথমিক দিনগুলোতে জিব্রাল্টার অতিক্রম করল। সুশৃংখল ভর্তি
প্রক্রিয়া এবং প্রশিক্ষণের ফলে এই বাহিনী প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর চেয়ে অনেক
বেশি শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হল। ১৯৩৭ সালে ফ্রাঙ্কো স্পেনের ফ্যাসিস্ট
পার্টি ফালাঞ্জির সঙ্গে অন্য দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ
করে ফেলে এবং তার নেতৃত্বে ‘জাতীয়তাবাদী স্পেন’ সুসংহত হয়। যদিও স্পেনের
গৃহযুদ্ধ সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তদসত্ত্বেও এর বিকাশ
নির্ভর করছিল বিভিন্ন বিদেশী শক্তির মনোভাবের ওপর। ফ্রান্স ও ব্রিটেন
হস্তক্ষেপ না করার নীতি গ্রহণ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, বৃহদাকারের ইউরোপীয়
যুদ্ধ পরিহার করা। স্পেনের প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে রক্ষা করার ইচ্ছা তাদের
মোটেও ছিল না। অন্যদিকে জার্মানি এবং ইতালি হস্তক্ষেপ না করার চুক্তি ভঙ্গ
করতে ইতস্তত করেনি। হিটলার ও মুসোলিনি ফ্রাঙ্কোকে প্রচুর পরিমাণ সামরিক
সাহায্য দিয়েছে। অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জার্মানি ১০০ জঙ্গিবিমান
পাঠিয়েছে। ফ্রাঙ্কোকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে মুসোলিনি অনেক বেশি উদার ছিল।
ব্যাপকসংখ্যক পদাতিক বাহিনী, ট্যাংক এবং গোলন্দাজ বাহিনী পাঠিয়েছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পেন প্রজাতন্ত্রকে সাহায্যের প্রশ্নে তার পররাষ্ট্রনীতির
হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। স্পেনে গণতন্ত্র কিংবা সমাজবিপ্লব রক্ষা
করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। তার লক্ষ্য ছিল জার্মানির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় যৌথ
নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কমিউনিস্ট পার্টি একটি আন্তর্জাতিক ব্রিগেড
গড়ে তুলেছিল। এই বিগ্রেডটি ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী শ্রমিক শ্রেণী। প্রগতিশীল
লেখক, কমিউনিস্ট কর্মী এবং মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের একটি বাহিনী। এরা
স্পেনের যুদ্ধে তাদের আদর্শের জন্য লড়াই করার একটি কারণ খুঁজে পায়। তাদের
মধ্যে অনেকেই ভেবেছিল স্পেন হবে ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের কবর। স্পেনের গৃহযুদ্ধ
পাশ্চাত্যের মনোজগতের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। বুদ্ধিজীবীদের ওপর এর
প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। কবি টিএস এলিয়াটের মতো খুব কমসংখ্যক বিশিষ্ট
ব্যক্তি পক্ষাবলম্বনের বিরোধী ছিল। একটি ক্ষুদ্রসংখ্যক রক্ষণশীল এবং
ক্যাথলিক বুদ্ধিজীবী ফ্যাঙ্কোর ক্রুসেডকে সমর্থন করেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রজাতন্ত্রকে সমর্থন জানিয়েছিল।
ট্রেঞ্চের যুদ্ধের পাশাপাশি চলছিল কলমের যুদ্ধ। ১৯৩৬-এর নভেম্বরে
আন্তর্জাতিক ব্রিগেড মাদ্রিদ রক্ষায় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। ফ্রাঙ্কো
চেয়েছিলন রাজধানীর ওপর ঝটিকা আক্রমণ করে যুদ্ধের দ্রুত পরিসমাপ্তি ঘটাতে;
কিন্তু তাতে তিনি ব্যর্থ হন। সে কারণে তিনি উত্তরাঞ্চলের ওপর তার
শক্তি-সামর্থ্য নিয়োগ করেন। ১৯৩৭-এর হেমন্তে বাস্ক প্রদেশগুলো ফ্রাঙ্কোর
আক্রমণে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। কারণ গুয়ের্নিকার ওপর জার্মান
বিমানবাহিনী বোমাবর্ষণ ছিল একটি বিয়োগান্তক মুহূর্ত। প্রজাতন্ত্রীরা
ব্রুয়েন্টে আরাগঁ এবং টেরুয়েলে অভিযান চালিয়েও প্রাথমিক বিজয় ধরে রাখতে
পারেনি। অপরদিকে ফ্রাঙ্কো জানতেন কীভাবে টেরুয়েলে তার পাল্টা অভিযানকে
পূর্ব উপকূলের দিকে বিশাল চাপ হিসেবে পরিচালিত করতে হয়। এর ফলে
প্রজাতন্ত্রী স্পেন দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে। ভ্যালেন্সিয়া রক্ষার জন্য
প্রজাতন্ত্রী বাহিনী বিশাল এক আক্রমণ অভিযান চালায় এবং এব্রো নদী অতিক্রম
করতে সক্ষম হয়। পূর্বের মতোই তারা তাদের প্রাথমিক বিজয় ধরে রাখতে ব্যর্থ
হয়।
যুদ্ধের শেষপর্ব অনুষ্ঠিত হয় ক্যাটালোনিয়ায়। ক্লান্ত-শ্রান্ত
প্রজাতন্ত্রী বাহিনী ফ্রাঙ্কোর অভিযানের মুখে টিকতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত
২৫ জানুয়ারি ১৯৩৯ বার্সেলোনার পতন ঘটে। ফলে প্রজাতন্ত্রীদের জন্য আর কোনো
বিকল্প রইল না। নেগ্রিন তার কমিউনিস্ট মিত্রদের নিয়ে ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
১৯৩৯ সালের ৭ মার্চ আত্মসমর্পণের পূর্বক্ষণে মাদ্রিদে একটি ক্ষণস্থায়ী
গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। এর এক পক্ষে ছিল তারা, যারা যুদ্ধের অবসানের জন্য
ফ্রাঙ্কোর সঙ্গে চুক্তি করতে উদগ্রীব ছিল এবং অন্যপক্ষে ছিল কমিউনিস্টরা,
যারা সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে চাইছিল। ২৮ মার্চ ১৯৩৯ ফ্যাঙ্কোর বাহিনী
রাজধানীতে প্রবেশ করে। দুই স্পেনের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এই
যুদ্ধে শত সহস্র স্পেনীয় প্রাণ হারায় এবং অবশেষে মাদ্রিদের আত্মসমর্পণ ঘটে।
এরপর সূচিত হয় ফ্রাঙ্কোর একনায়কত্ববাদী দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের যুগ।
স্পেনের গৃহযুদ্ধ শিক্ষা দেয় আদর্শগত দ্বন্দ্ব থেকেই এ ধরনের গৃহযুদ্ধের
সূচনা হয়। এ রকম যুদ্ধে বৈদেশিক শক্তির ভূমিকা নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রগতি ও মানবতার পক্ষের শক্তি যদি সুসংগঠিত না থাকে, কেবল সংখ্যার শক্তিতে
তাদের পক্ষে বিজয় লাভ করা সম্ভব হয় না। স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফ্যাসিস্ট
দক্ষিণপন্থীদের বিজয় অতি অল্প সময়ের মধ্যে জার্মানি ও ইতালিকে আগ্রাসী
শক্তি হিসেবে আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলেছিল। আমাদের উপমহাদেশে যে ধরনের গ্রেট
গেম চলছে, তার ফলে এই উপমহাদেশের ভেতরকার ক্ষুদ্র সংঘাতও উপমহাদেশবাসীর
জন্য ট্র্যাজিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আমরা কি বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে
ক্ষুদ্র স্বার্থগুলোকে পরিত্যাগ করে মানবজাতির মহাকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারি
না?
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

No comments:
Post a Comment