অক্টোবর
মাসে রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান শুরু হবার পর থেকে গৃহহীন হয়ে পড়ে
হাজার হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচর নামে একটি
দ্বীপে পুনর্বাসনের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করার আহ্বান
জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান
রাইটস ওয়াচ। নিউইয়র্ক থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি করা এ বিবৃতিতে ওই
দ্বীপটিকে অনুন্নত উপকূলীয় বন্যা-প্রবণ দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করে, তাদের
বিচ্ছিন্ন করে সেখানে না পাঠানোর আহ্বান তুলে ধরা হয়। কক্সবাজার এলাকা
থেকে ঠেঙ্গারচরে পাঠানো হলে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকা, খাবার এবং
শিক্ষার সুযোগ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কার কথা উঠে আসে
বিবৃতিতে। তা হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের
বাধ্য-বাধকতা লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের
পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস এর উদ্ধৃতি তুলে ধরো হয়। সেখানে তিনি বলেছেন,
"বাংলাদেশের সরকার হাস্যকর-ভাবে এমন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের উন্নত
জীবন-যাপন নিশ্চিত হবে বলে দাবি করছে যেখানে কোনধরনের সুযোগ-সুবিধা-হীন নেই
এবং জোয়ারের সময় ও বর্ষকালে তা তলিয়ে যায়"। মিয়ানমারের মংডুরতেএকটি
মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে গত অক্টোবর মাসে অগ্নিসংযোগের পর. বিবৃতিতে
সংস্থাটি বলে, ১৯৯০ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে আসা তিন লাখ থেকে ৫ লাখের মত
মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে। যাদের বেশিরভাগই অ-নিবন্ধিত।
বার্মিজ সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের পর
প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বার্মার রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে
প্রবেশ করেছে । এসব নির্যাতনের মধ্যে ছিল বিচার-বহির্ভূত হত্যা, যৌন হামলা
এবং পাইকারি-ভাবে গ্রাম ধ্বংস করার ঘটনাও। তার মতে "এই প্রস্তাবনা একইসঙ্গে
নিষ্ঠুর এবং অকার্যকর এবং এটা ত্যাগ করতে হবে"। এ মাসের শুরুতেই সরকার
ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা পুনরায় তুলে ধরে।
সূত্র : বিবিসি
সূত্র : বিবিসি

No comments:
Post a Comment