গত
বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের জনপ্রিয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
অ্যাপলের বহু পণ্যে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে নকিয়া। মোবাইল
ফোন বাজারে একসময়ের আধিপত্য বিস্তারকারী নকিয়া সে সময় জানায়, তারা মোট
১১টি দেশে ৪০টি পেটেন্ট লঙ্ঘনের জেরে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব
মামলা করা হয়েছে ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন, স্পেন,
নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, চীন ও জাপানে। পাশাপাশি ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড
কমিশনেও একটি মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ৩২টি পেটেন্ট লঙ্ঘনের এমন অভিযোগে
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির আদালতে মামলা করেছে নকিয়া। সম্প্রতি এক সম্মেলনে
নকিয়া করপোরেশনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ক্রিস্টিয়ান পুলোলা
জানিয়েছেন, অ্যাপলের সাথে প্রয়োজনে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত নকিয়া।
আমাদের এই লড়াই এমন হতে পারে যে, প্রতি বছর অতিরিক্ত ব্যয় ১০ কোটি ইউরো
দাঁড়াতে পারে। ২০১১ সালে পেটেন্ট লাইসেন্স বিষয়ে অ্যাপলের সাথে তাদের একটি
চুক্তি হয়। একই সময় নকিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া আরো কিছু পেটেন্ট লাইসেন্স করার
প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় অ্যাপল। কিন্তু পরবর্তীতে নকিয়ার পেটেন্ট করা
উদ্ভাবনগুলো অ্যাপলের অনেক পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য কোনো অনুমতিও
নেয়া হয়নি। বিষয়টি ঘিরে অ্যাপল এক বিবৃতিতে জানায়, আইফোন বা নিজেদের যেকোনো
পণ্যে ব্যবহৃত প্রযুক্তি নিয়ে তারা সবসময় পেটেন্ট অধিকার সুরক্ষিত করতে
ন্যায্য মূল্য পরিশোধে ইচ্ছুক। দুঃখজনক বিষয় হলো নকিয়া ন্যায্যভাবে পেটেন্ট
লাইসেন্স করানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি
অ্যাপলের নিজস্ব উদ্ভাবনের অর্জন থেকে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিতে পেটেন্ট
লঙ্ঘন ইস্যুকে কৌশল হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment