Thursday, February 16, 2017

ইন্দোনেশিয়ার ‘মধ্যপন্থী’ মুসলিম পরিচয়ের পরীক্ষা

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গভর্নর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ৫০ বছরে প্রথমবারের মতো একজন খ্রিস্টান গভর্নর দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের নির্বাচনে এ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। গভর্নর বাসুকি তাজাহাজা পুরনামার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ রয়েছে। তাই তার পরিবর্তে একজন মুসলিম গভর্নর নির্বাচিত করতে প্রচারণা চালিয়েছিল বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। বাসুকি তাজাহাজা পুরনামা প্রথমবার গভর্নর হয়েছিলেন কোনো নির্বাচন ছাড়াই। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ২০১৪ সালে যখন জাকার্তার গভর্নর ছিলেন তখন পুরনামা ছিলেন তার সহকারী গভর্নর। উইদোদো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাকে গভর্নর নির্বাচিত করেন। কারণ, উইদোদোর সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু, বাসুকির এই গভর্নর হওয়াটা পছন্দ করেনি জাকার্তার রক্ষণশীল মুসলিম জনগোষ্ঠী। কারণ তিনি একজন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। আহক নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ২০১৬ সালে বাসুকি যখন দ্বিতীয় মেয়াদে গভর্নর নির্বাচনে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দেন তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠছে। কয়েকটি ইসলামিক দল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাই এই নির্বাচনকে ইন্দোনেশিয়ার মধ্যপন্থী মুসলমানদের সহিষ্ণুতার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাকার্তা শুধু ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী নয়,
বরং ইন্দোনেশিয়ার সামগ্রিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্ভর করে জাকার্তার ওপর। বলা হয় জাকার্তায় যা নির্ধারিত হয় তারই প্রভাব পরে সমস্ত ইন্দোনেশিয়ায়। এ কারণে এবারের ভোটের ফলাফলে পুরো ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম বৈশিষ্ট্যও নতুন পরিচিতি পেতে পারে। বুধবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বলে জানিয়েছেন রয়টার্স। অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশংকায় নির্বাচনের দিন রাজধানীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৭ হাজার সদস্য মোতায়েন ছিল। ভোটের পর একটি স্যাম্পল ভোট গণনায় দেখা গেছে, সামান্য ব্যবধানে বাসুকি তাজাহাজা পুরনামা এগিয়ে রয়েছেন। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনিস বাসওয়াদান। আনুষ্ঠানিক ফল পেতে দু’সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। দু’জনের কেউই ন্যূনতম ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে আগামী ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ হবে। জাকার্তাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তোবাইস বাসুকি বলেন, ‘এই নির্বাচন ইন্দোনেশিয়ার জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষা হবে আমরা সহিষ্ণু, না অসহিষ্ণুতা?’

No comments:

Post a Comment