সিলেটের
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলার পাথর কোয়ারিতে ফের শ্রমিক নিহত
হয়েছেন। শনিবার এক শ্রমিক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে পুলিশ
প্রশাসন। এ ঘটনায় পাথর কোয়ারির গর্তের মালিক আবদুল করিমকে গ্রেফতার করেছে
পুলিশ। এদিকে শ্রমিক হতাহতের ঘটনার পরপরই কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি বায়েছ
আলমকে ক্লোজড করা হয়েছে।
ওসি বায়েছের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের
অভিযোগ ছাড়াও জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি বিভাগীয়
ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল। সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান
যুগান্তরকে জানান, শনিবার শাহ আরেফিন টিলার পাথর কোয়ারিতে এক শ্রমিকের
মৃত্যু হয়েছে। এ খবর পাওয়ার পরপরই থানার ওসি বায়েছ আলমকে ক্লোজড করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২৩ জানুয়ারি ৫ শ্রমিক নিহত হওয়ার পর শাহ আরেফিন টিলায় একজন
ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি
অভিযান চালানো হয় প্রতিদিন। তারপরও সেখানে কেন এমন ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে। শনিবার শ্রমিক নিহত হওয়ার সময় এসআই রকিবুল, আরিফ ও এএসআই গাজিউর
রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম শাহ আরেফিন টিলায় দায়িত্বরত ছিল। তাদের
উপস্থিতিতে কিভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা
প্রশ্ন। পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়
পুলিশ প্রশাসনের অবৈধ পাথর উত্তোলনে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারির
পরও আবদুল করিম শ্রমিক নিয়োগ করে অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলন করছিলেন। শনিবার
বিকাল ৫টায় পাথর উত্তোলনের একপর্যায়ে গর্তে মাটি চাপা পড়েন আনিছ মিয়া (৪৫)
নামে এক শ্রমিক নিহত হন। তিনি শাহ আরেফিন টিলার পাশের পূর্ব ইসলামপুর
ইউনিয়নের টিকাডহর গ্রামের মৃত জোয়াত আলীর ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন
কোম্পানীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার আসলামুজ্জামান। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল
মিয়া ও আবুল হোসেন জানান, ওই কোয়ারিতে ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় ৪
জন মাটি চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে আনিছ মিয়া নিহত হন। আহত হন সুনামগঞ্জের
বাসিন্দা মিজানুর রহমান সুহেল (২৫), আবদুল গফুর (৩৫) ও কোম্পানীগঞ্জ
উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর লাচোখলা গ্রামের আবদুল মান্নান। এরমধ্যে মান্নানের
অবস্থা আশংকাজনক। তাকে কোম্পানীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সেই ট্র্যাজেডি : ২৩ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে গর্ত করে পাথর তুলতে গিয়ে ৫ জন নিহত হন। তারা হলেন- নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার আবদুল কাদির, মো. আল হাদীস, জহির উদ্দিন, একই জেলার পূর্বধলা থানার আবদুুল কুদ্দুছ ও খোকন মিয়া। এ ঘটনার পর পুলিশের সহযোগিতায় গোপনে দ্রুত লাশ সরিয়ে গুম করা হয়। পরে খবর পেয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় নিহত তিনজনের মরদেহ ও পূর্বধলা থানায় দু’জনের সন্ধান পায় পুলিশ। নেত্রকোনা পুলিশের সহযোগিতায় দুটি লাশ আটক করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দুটি দাফন করা হয়। এর আগেই গুম করা অপর তিনজনের লাশ দাফন করে ফেলে। পরে আদালতের নির্দেশে তিনজনের লাশ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।
তদন্ত কমিটি গঠন : কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় ৫ শ্রমিক নিহত ও লাশ গুম করার ঘটনায় আলাদা আলাদা ভাবে প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মোহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। অপরদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রশাসনের তদন্ত কমিটি সরেজমিন গিয়ে ৫ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পায়। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে হত্যা মামলা করা হয়।
ইউএনও-ওসিকে দায়ী করে প্রতিবেদন : গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার চিত্র ফুটে উঠে। এ জন্য দায়ী করা হয় স্থানীয় প্রশাসনকে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মোহম্মদ শাহেদুল ইসলাম তদন্ত করে ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীনের কাছে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও এবং ওসিকে দায়ী করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টেও ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ী করা হয় প্রশাসনকে। প্রতিবেদনে থানার ওসি বায়েছ আলমকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ওসি বায়েছের যত অপকর্ম : ওসি বায়েছ আলম ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর থানায় যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে। পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, উৎমায় ওসির সহযোগিতায় লুটেরারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। অবৈধ পন্থায় পাথর তুলতে গিয়ে নিহত শ্রমিকদের লাশ টাকার বিনিময়ে তিনি গুম করতে সহায়তা করতেন। চাঞ্চল্যকর ৫ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তার সহায়ক ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নির্দেশে হত্যা মামলা রেকর্ডের পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ ব্যাপারে ওসি বায়েছ আলম যুগান্তরকে শনিবার রাতে বলেন, তিনজন অফিসারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকার পর কিভাবে শ্রমিকরা গর্তে পাথর উত্তোলন করছিল এটা আমার বোধগম্য নয়। অন্য কর্মকর্তার দায় ওসি একা নিতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমি যোগদান করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দীর্ঘদিন পাথর তোলা বন্ধ ছিল।
সেই ট্র্যাজেডি : ২৩ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে গর্ত করে পাথর তুলতে গিয়ে ৫ জন নিহত হন। তারা হলেন- নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার আবদুল কাদির, মো. আল হাদীস, জহির উদ্দিন, একই জেলার পূর্বধলা থানার আবদুুল কুদ্দুছ ও খোকন মিয়া। এ ঘটনার পর পুলিশের সহযোগিতায় গোপনে দ্রুত লাশ সরিয়ে গুম করা হয়। পরে খবর পেয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় নিহত তিনজনের মরদেহ ও পূর্বধলা থানায় দু’জনের সন্ধান পায় পুলিশ। নেত্রকোনা পুলিশের সহযোগিতায় দুটি লাশ আটক করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দুটি দাফন করা হয়। এর আগেই গুম করা অপর তিনজনের লাশ দাফন করে ফেলে। পরে আদালতের নির্দেশে তিনজনের লাশ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।
তদন্ত কমিটি গঠন : কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় ৫ শ্রমিক নিহত ও লাশ গুম করার ঘটনায় আলাদা আলাদা ভাবে প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মোহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। অপরদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রশাসনের তদন্ত কমিটি সরেজমিন গিয়ে ৫ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পায়। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে হত্যা মামলা করা হয়।
ইউএনও-ওসিকে দায়ী করে প্রতিবেদন : গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার চিত্র ফুটে উঠে। এ জন্য দায়ী করা হয় স্থানীয় প্রশাসনকে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মোহম্মদ শাহেদুল ইসলাম তদন্ত করে ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীনের কাছে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও এবং ওসিকে দায়ী করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টেও ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ী করা হয় প্রশাসনকে। প্রতিবেদনে থানার ওসি বায়েছ আলমকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ওসি বায়েছের যত অপকর্ম : ওসি বায়েছ আলম ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর থানায় যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে। পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, উৎমায় ওসির সহযোগিতায় লুটেরারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। অবৈধ পন্থায় পাথর তুলতে গিয়ে নিহত শ্রমিকদের লাশ টাকার বিনিময়ে তিনি গুম করতে সহায়তা করতেন। চাঞ্চল্যকর ৫ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তার সহায়ক ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নির্দেশে হত্যা মামলা রেকর্ডের পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ ব্যাপারে ওসি বায়েছ আলম যুগান্তরকে শনিবার রাতে বলেন, তিনজন অফিসারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকার পর কিভাবে শ্রমিকরা গর্তে পাথর উত্তোলন করছিল এটা আমার বোধগম্য নয়। অন্য কর্মকর্তার দায় ওসি একা নিতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমি যোগদান করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দীর্ঘদিন পাথর তোলা বন্ধ ছিল।

No comments:
Post a Comment