ইন্ডিয়ান
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ (আইপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরের
নিলামে অবিক্রিতই থেকে গেলেন বাংলাদেশের ছয় খেলোয়াড়। তবে এবারের নিলামে
রেকর্ড দামে বিক্রি হলেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। সাড়ে ১৪ কোটি
রুপিতে স্টোকসকে দলে ভিড়িয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। স্টোকসের মত বড়
চমক দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার টাইমাল মিলস।
১২ কোটি রুপিতে তাকে
কিনে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তার ভিত্তি মূল্য ছিলো
মাত্র ৫০ লাখ রুপি। তৃতীয় সর্বোচ্চ দাম ৪ কোটি ২ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছেন
ইংল্যান্ডের আরেক অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। তাকে কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে নিজ নিজ দল রেখে দেয়ায় আইপিএলের দশম
আসরের নিলামে বাংলাদেশের অন্য ছয় খেলোয়াড়ের নাম উঠে। তারা হলেন- তামিম
ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, এনামুল হক, তাসকিন আহমেদ ও
মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু এই ছয় খেলোয়াড়ের কাউকেই দলে নেয়নি আইপিএলের
ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। অর্থাৎ ৩০ লাখ রুপির ভিত্তি মূল্যে থাকা বাংলাদেশের
খেলোয়াড়রা নিলামে অবিক্রিতই থেকে গেলেন। তবে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্টোকস
যে বিক্রি হচ্ছেন, তা পুরোপুরিভাবেই নিশ্চিত ছিলো। তাকে দলে নিতে ওঁৎ পেতে
ছিলো আইপিএলের দলগুলো। স্টোকসের ভিত্তিমূল্য ছিলো ২ কোটি রুপি। শেষ
পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণ হয় পুনের। রেকর্ড সাড়ে ১৪ কোটি রুপিতে (প্রায় ২ দশমিক
১৬ মিলিয়ন ডলার) স্টোকসকে দলে ভিড়িয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস।
বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এবারের আসরে সর্বোচ্চ রেকর্ড
মূল্য হলেও, আইপিএলের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্য। ২০১৫ সালে
ভারতের বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিংকে রেকর্ড ১৬ কোাটি রুপিতে কিনেছিলো
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তবে বিদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে
ইংল্যান্ড টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক স্টোকসের সাড়ে ১৪ কোটি রুপিই সর্বোচ্চ।
আগেরটি ছিলো ৯ কোটি রুপি। ২০১৪ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ৯ কোটি খরচ করেছিলো
ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেনকে নিতে। তবে পুরো আইপিএলেই স্টোকস
খেলতে পারবেন না কি-না, তা নিয়ে সন্দেহই আছে। কারন আগামী মে মাসে
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আছে ইংল্যান্ডের। এমন সূচি
জানা আছে পুনের কোচ নিউজিল্যান্ডের স্টিফেন ফ্লেমিং-এর। তারপরও স্টোকসকে
দলে নেয়ার ঝুঁকি নিয়েছে তার দল বলে জানালেন ফ্লেমিং, ‘আমার তার সূচি
সর্ম্পকে জানি । তারপরও ঝুঁকি নিয়েছি। অলরাউন্ডার তালিকায় আমাদের ভালো
খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিলো। আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। স্টোকসের মতই বড় চমক
দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার মিলস। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৪টি
টুয়েন্টি টুয়েন্টি ম্যাচ খেলা মিলসের নাম এবারই প্রথম আইপিএলের নিলামে ওঠে।
তাই তার ভিত্তি মূল্যও ছিলো মাত্র ৫০ লাখ রুপি। শেষ পর্যন্ত ১২ কোটি
রুপিতে তাকে কিনে নয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। সর্বোচ্চ দামে
বিক্রির ক্ষেত্রে তৃতীয়স্থানে আছেন ইংল্যান্ডেরই আরেক খেলোয়াড় অলরাউন্ডার
ক্রিস ওকস।
৪ কোটি ২ লাখ রুপিতে ওকসকে দলে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
স্টোকস-মিলসদের মতই বড় চমক দেখিয়েছেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার ১৮ বছর
বয়সী রশিদ খান। ৪ কোটি রুপিতে সানরাইজার্স হায়দারাবাদে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
নিলামে তার ভিত্তিমূল্য ছিলো ৫০ লাখ রুপি। রশিদের পর আফগানিস্তানের
দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলে দল পেয়েছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। তবে
রশিদের মত বড় অঙ্ক পাননি তিনি। ভিত্তি মূল্য ৩০ লাখ রুপিতেই নবীকে দলে
নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। এছাড়া অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে মোটা
অঙ্কে দল পেয়েছেন- ১ কোটিতে রুপির ভিত্তি মূল্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো
রাবাদা। ৫ কোটি রুপিতে তাকে নিয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। দল পেয়েছেন ১ কোটি
৫০ লাখ রুপির ভিত্তি মূল্যে নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট। ৫ কোটি রুপিতে
তাকে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২ কোটিতে রুপির ভিত্তি মূল্যে
অস্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্স নাম লিখিয়েছেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসে। ৪
কোটি ৫ লাখ রুপিতে তাকে নিয়েছে দিল্লি। এবারের নিলামে অবিক্রিত থেকে গেছেন
৯৪ জন খেলোয়াড়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা,
ইরফান পাঠান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস, জেসন হোল্ডার, ইংল্যান্ডের
অ্যালেক্স হেলস, জনি বেয়ারস্টো, নিউজিল্যান্ডের রস টেইলর, কলিন মুনরো,
জেমস নিশাম, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ,
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভিন লুইস, শ্রীলংকার থিসারা পেরেরার মতো তারকারা।

No comments:
Post a Comment