প্রথমবারের
মতো সম্পদ ও ব্র্যান্ড মূল্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোকে
ছাড়িয়ে গিয়েছে চীনের ব্যাংকগুলো। মোট সম্পদের দিক থেকে বিবেচনা করলেও চীনের
ব্যাংকগুলোই এখন বিশ্বসেরা।
লন্ডনভিত্তিক ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংকিং
৫০০-এর প্রতিবেদন অনুসারে চীনের শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন বিশ্বের
সবচেয়ে দামি ব্যাংক। এদের ব্র্যান্ডমূল্য ৪৭৮০ কোটি ডলার, এক বছরের
ব্যবধানেই যা বেড়েছে ৩২ ভাগ। ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ডমূল্য নির্ধারণে
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বিপণন বিনিয়োগ এবং গ্রাহকদের কাছে ব্র্যান্ডের
বিশ্বাসযোগ্যতা, স্টাফ ও শেয়ারহোল্ডারের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত চায়না ডেইলি পত্রিকায় প্রতিবেদনটি তুলে ধরা
হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিশ্বের শীর্ষ ৫০০টি ব্যাংকের মধ্যে
ব্র্যান্ডমূল্যের বিবেচনায় চীনের ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ডমূল্য ২৫৮০০ কোটি
মার্কিন ডলার, যা এই ৫০০ ব্যাংকের মোট ব্র্যান্ডমূল্যের ২৪ ভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ডমূল্য ২৩ ভাগ। ব্যাংক অব চায়না’স
ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ঝু
জিংটং বলেন, ‘চীনের ব্যাংকগুলোর ব্র্যান্ড মূল্য বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে
চীনের ক্রমবর্ধমান অবদানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।’ অধ্যাপক জিংটং বলেন,
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ব্যাংক শিল্প সম্পদ বৃদ্ধি, সম্পদের মান, প্রভিশন
কাভারেজ অনুপাত এবং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দৃঢ়ভাবে
উন্নতি করেছে। তা ছাড়া চীনের ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিকীকরণও
ব্র্যান্ড মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। এর আগে ফোর্বস সাময়িকীতে প্রকাশিত
এক নিবন্ধে বলা হয়, ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবদান যুক্তরাষ্ট্রকে
ছাড়িয়ে যাবে। দ্য কনফারেন্স বোর্ডের হিসেবে, ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব
জিডিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ছিল ২১.২ ভাগ। ২০০০ সাল পর্যন্ত এটা একই রকম
ছিল। এরপর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান কমতে শুরু করে।
২০১৫ সাল নাগাদ এটা কমে দাঁড়ায় ১৬.৭ ভাগে। ২০২৫ সাল নাগাদ এটা নেমে আসবে
১৪.৯ ভাগে। অন্যদিকে ১৯৭০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবদান ছিল মাত্র ৪.১
ভাগ। ২০১৫ সালে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৬ ভাগে। ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্ব
অর্থনীতিতে চীনের অবদান বেড়ে দাঁড়াবে ১৭.২ ভাগে।

No comments:
Post a Comment