Monday, February 20, 2017

সোনারগাঁয়ে দুই এসআইসহ ৯ জন অবরুদ্ধ : বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর মিরেরবাগ এলাকায় অবস্থিত কাউছার টেক্সটাইল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কারাগারে থাকা এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতার স্ত্রী রোববার সন্ধ্যায় প্রবেশ করেন। ওই নারী প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাদা পোশাকে থাকা সোনারগাঁ থানার দুই এসআই, পুলিশের সোর্স ও এলাকার কয়েক সন্ত্রাসীও ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিল্লাল হোসেনকে নারী কেলেংকারির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী বিল্লালের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। সূত্র আরও জানায়, বিল্লাল ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী বিল্লাল কারখানার তৃতীয় তলায় গিয়ে আর্তচিৎকার দেন ও ডাকাত বলে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান। এ ঘটনার পর এলাকায় মাইকে ডাকাত বলে ঘোষণা দিলে হাজার হাজার লোক কাউছার টেক্সটাইলের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে দুই এসআইসহ ৯ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা সন্ত্রাসীদের বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
পরে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদুর রহমান ও সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত ) এসএম ওবায়েদুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধদের রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে উদ্ধার করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামীম শিকদার শিপলু। পুলিশ ও এলাকাবাসী  সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ থানা পুলিশের এসআই আমিনুল ইসলাম ও আবদুল লতিফ সঙ্গীয় সোর্স নিয়ে সাদা পোশাকে রোববার সন্ধ্যায় কাউছার টেক্সটাইলের আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় তারা স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা হিমেলের স্ত্রী রুমা আক্তারকে ওই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পাঠিয়ে মালিক বিল্লাল হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে এসআই আমিনুল ও লতিফ স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, মিঠু, গোলজার, জয়নালকে নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কারখানার মালিক বিল্লালকে নারী  কেলেংকারির অপবাদ দিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর শুরু করেন ও এ ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হবে বলে সমঝোতার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে বিল্লাল ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন। এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েক সন্ত্রাসী পালিয়ে যান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্যবসায়ী বিল্লাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী আন্দোলন করে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী হিমেল মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় বিল্লালের স্ত্রী ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অসাধু পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে কৌশলে আটক করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, সন্ধ্যায় তার কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। মাগরিবের নামাজের পর হিমেলের স্ত্রী ওড়না কেনার কথা বলে কারখানায় প্র্রবেশ করেন।
তিনি তার সামনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই সাদা পোশাকের দুই এসআইসহ ৮-১০ চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাকে আটক করে নারী কেলেংকারির অপবাদ দেন। তারা তার কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর শুরু করেন। নিজের জীবন বাঁচাতে এ সময় তিনি দৌড়ে ভবনের উপরে গিয়ে ডাকাত বলে চিৎকার দেন। জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সুজন মিয়া জানান, সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা টাকার দাবিতে ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনকে মারধর করায় এলাকাবাসী ডাকাত সন্দেহে তাদের অবরুদ্ধ করেন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করি। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে  তিনি জানান। এ ব্যাপারে এসআই আমিনুল ইসলাম ও আবদুল লতিফ জানান, আট হাজার ইয়াবা  ট্যাবলেট নিয়ে টেকনাফ থেকে এক নারী মাদক বিক্রেতা কাউছার টেক্সটাইলে আসবেন এবং মাদক ও টাকা লেনদেন করবেন বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল। তাই তারা সেখানে যান। এ সময় এলাকাবাসী ডাকাত সন্দেহে তাদের অবরুদ্ধ করেন। দুই এসআইসহ অন্যদের আহত অবস্থায় সোনারগাঁ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় এসআই আমিনুলের মাথা ফেটে গেছে।

No comments:

Post a Comment