পাবনার
সাঁথিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে এক স্কুলছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে
হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার লাশ পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে উপজেলার
শোলাবাড়িয়া মাঠের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধার
করে পুলিশ। নিহত অভি (১৩) উপজেলার আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর
ছাত্র ও শোলাবাড়িয়া গ্রামের ইমরান হোসেন বাবুর ছেলে। নিহতের পরিবার ও পুলিশ
জানায়, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে অভি তার ঘরে ঘুমোতে যায়। শুক্রবার
ভোরে স্থানীয়রা শোলাবাড়িয়া মাঠের মধ্যে লাশ দেখে খবর দিলে লাশটি অভির বলে
শনাক্ত করেন স্বজনরা। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের
চিহ্ন রয়েছে। রাতের কোনো একসময় তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করা
হচ্ছে। সরেজমিন জানা যায়, অভি তার দাদা-দাদির পাশের কক্ষে একাই থাকত। এদিন
প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বলছিলেন, অভি মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। লাশ উদ্ধারের
পর তার হাতের আঙুলে তার ঘরের চাবির রিংটি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে,
রাতের কোনো একসময় কারও ফোন পেয়ে কাউকে না জানিয়ে সে নিজেই ঘরে তালা দিয়ে
বের হয়ে যায়। সকালেও ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। ভোরে তার লাশের সন্ধান মেলে মাঠের
মধ্যে। এ খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভির লাশ দেখার জন্য
শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমান। এদিন আরও দেখা যায়, অভির মা শাহিদা খাতুন বড়
ছেলে অভির শোকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তিনি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে
পারছেন না। অভির চাচা মোকাই আহাজারি করে বলেন, ‘প্রতিবেশী জালাল, জয়নাল
আমার ভাতিজাকে মেরে ফেলেছে।’ অভির বাবা বাবু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা
কেমন পাষাণ যে, আমার শান্ত ও নিরপরাধ ছেলেকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করল।’ অভির
দাদা নায়েব আলী বলেন, ‘আমার দুধের নাতিকে কী অপরাধে ওরা এভাবে দুনিয়া থেকে
সরিয়ে দিল?’
তিনি নাতীর হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি দাবি করেন। গ্রামবাসী অধ্যাপক শাহজাহান, রফিক, আ. আজিজ, মিন্টু এ
ধরনের হত্যাকাণ্ডে হতবাক। তারা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তি
দাবি করেন। জালাল, জয়নালের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তারা পলাতক। এ সময় তাদের
বাড়ির বাইরে খড়ের পালার কাছে ও পার্শ্ববর্তী স্বপ্না, শেফালী ও চম্পার
বাড়ির বন্ধ ঘরের বারান্দায় ও কুল গাছের নিচে জমাট রক্ত দেখা যায়। তবে বাড়ির
কোনো সদস্যের দেখা মেলেনি। জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির ঘটনাস্থল
পরিদর্শন করে যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে হত্যার
রহস্য উদ্ঘাটনের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তারা। এ ঘটনায় অভির বাবা বাদী হয়ে
আতাইকুলা থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ জালাল
শেখের স্ত্রী বাছিয়া খাতুনকে আটক করেছে।

No comments:
Post a Comment