Thursday, February 9, 2017

তারায় তারায় ভালোবাসা

প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার সম্পর্ক পৃথিবীর শুরুতে যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমনই আছে। একসঙ্গে কাজ করতে করতে মিডিয়া তারকাদের মধ্যেও হয়ে যায় বোঝাপড়া। একে অপরে আবদ্ধ হন প্রেমের সম্পর্কে। এ প্রেমের সম্পর্ক প্রায় সময়ই ক্যারিয়ারের ভয়ে ভক্তদের কান পর্যন্ত গড়ায় না। আটকে থাকে মিডিয়া জগতের চার দেয়ালের মধ্যেই। বর্তমান সময়ে যখন প্রতিনিয়তই বিয়ে বিচ্ছেদের খবর শিরোনাম হচ্ছে, ঠিক সে সময় ভালোবেসে ঘরবেঁধে সুখে আছেন অনেকেই। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তাদের নিয়েই এ আয়োজন। বিস্তারিত লিখেছেন- অনিন্দ্য মামুন
আলী যাকের-সারা যাকের
সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আস্থা রেখে তারা পার করে দিয়েছেন দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ সময়। আনন্দ ও বেদনার মাঝে জীবন পার করে পরিণত হয়েছেন শোবিজের আইকন তারকা দম্পতি। মনের মানুষ হিসেবেই অভিনয়ের পথে তাদের যাত্রা শুরু। কাজ করতেন দু’জনে একই নাটকের দলে। সেই সুবাদে প্রতিদিন দেখা। নাটকের মহড়ার ফাঁকে ফাঁকে দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলিয়ে হারিয়ে যাওয়া। বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ছুঁতায় খানিকটা সময় একান্তে থাকা। এভাবেই অন্তরের গহিনে জন্ম নিয়েছিল ভালোবাসার। কিন্তু মুখ বাড়িয়ে বলা হয়নি কারও। প্রেম তো এমনই। বলে-কয়ে আসেনি কখনও। প্রয়োজনের তাগিদেই হয়ে গেছে। তেমনি হয়ে গিয়েছিল আলী যাকের ও সারা যাকেরের। ভালোবাসার পায়রা হয়ে দু’জনে উড়ে বেরিয়েছেন মধুর সেই দিনগুলোতে। একপর্যায়ে সম্পর্ক রূপ নেয় দাম্পত্যে। সুন্দর বোঝাপড়া, সংসারের যাবতীয় লেনদেনে ক্লান্তিহীন ভালোবেসে চলেছেন নিজেদের। ফেলে আসা দিনের হাজারো মধুর স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় মনের ক্যানভাসে। সে তো অনেক আগের কথা। সমাজ তখনও সভ্যতা নিয়ে এতটা বিকশিত হতে পারেনি। হানিমুন বলে শব্দটিরও এত জনপ্রিয়তা ছিল না। তা ছাড়া সে সময়ে মানুষের আয় ছিল খুব কম। হঠাৎ করে বৌ নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া দু’চারটি কথা নয়। আর দেশের বাইরে যাওয়া তো দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল। তবুও ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় ঘুরে আসতে কোনো বাঁধাই মানলেন না আলী যাকের। বিয়েতে নানাজনের উপহার দেয়া টাকা দিয়েই তিনি স্ত্রীর মন জয় করতে ছুটলেন।
শহীদুজ্জামান সেলিম-রোজী সেলিম
শোবিজের যে কয়জন তারকা দম্পতি সুখের পায়রা হয়ে দিন পার করে চলছেন তাদের অন্যতম শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সেলিম। এ দু’জনের ভালোবাসা রঙিন প্রজাপতি হয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে তাদের জীবন-সংসারকে। একসঙ্গে কাজের সূত্র ধরে কাছে আসা, ভালোবাসার বন্ধনে জড়ান তারা। হৃদয়ের তাগিদে এবং ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। তারপর থেকেই দু’জনে রচনা করে চলেছেন বোঝাপড়ার সংসার। এই নিয়ম ও শৃংখলার মারপ্যাঁচের ক্লান্তি যাতে অনুভূতি থেকে আনন্দ-উপভোগ কেড়ে নিতে না পারে, তা জন্য দারুণ এক টনিক আছে এই দম্পতির। তা হল ঘুরে বেড়ানো। রোজীর ভাষ্যে, “বছরে অন্তত দু’বার করে হানিমুনে যাই আমরা।” এমনকি হানিমুন নিয়ে রোজী জানালেন মজার এক তথ্যও। বিয়ের রাতেই নাকি সেলিমের কাছে রোজীর বায়না ছিল সমগ্র ভারত ঘুরে দেখানোর। আর এই শর্ত পূরণ করতে সেলিম রাজি হয়েছিলেন এই শর্তে, রোজী কোনোদিন মশারি টানাতে পারবে না। এমনই মজার শর্ত আর দুষ্টামিমাখা ভালোবাসার সুতায় অপূর্ব এক দাম্পত্য জীবনের বুনন শুরু হয়েছিল দুই দশক আগে। বিয়ের প্রথম দিনটি থেকে আজ অবধি ভালোবাসার এতটুকু কমতি নেই তাদের কাছে।
জাহিদ হাসান-মৌ
শোবিজের আলোচিত জুটি জাহিদ হাসান ও মৌ। যৌবনের সোনামাখা উজ্জ্বল দিনগুলোতে জাহিদ হাসানের কাছে ভালোবাসাকে জীবনের একটি অপরিহার্য বিষয় বলে মনে হতো। জাহিদ চেয়েছিলেন সুন্দর মনের একজন মানুষ। যার সহমর্মিতা তাকে ভালোবাসতে শেখাবে প্রতিনিয়ত। সবাই সুন্দরের পূজারি। কিন্তু জাহিদ কখনও সুন্দর বা অসুন্দর নিয়ে ভাবেননি। তিনি শুধু ভেবেছেন যাকে ভালোবাসব তার মনটাই যদি সুন্দর না হয় তাহলে তার সুন্দর চেহারা দিয়ে কী হবে? ভাবনার ঠিক ওই সময় তার স্বপ্নের সমাধান দেয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। মৌয়ের সঙ্গে জাহিদের প্রথম পরিচয় হয় ইত্যাদিতে প্রচারিত ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’ গানটির মিউজিক ভিতিও শুটিংয়ে। প্রথম দেখাতেই মৌয়ের মাঝে অন্যরকম কিছু খুঁজে পান। আর তাই তিনি প্রথম দেখাতেই মৌকে বলেছিলেন, ‘আপনাকে আমার ভালো লেগেছে। আপনাকে আমি বিয়ে করতে চাই।’ প্রথম পরিচয়ে এমন কথা শুনে মৌ এত বেশি আশ্চর্য হয়েছিলেন যে, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি জাহিদের সামনে থেকে হাওয়া। জাহিদ তখন কীভাবে এই কথাগুলো বলতে পেরেছিলেন মৌকে- সেই কথা আজ তিনি যখন ভাবেন, নীরবে শুধুই হাসেন। চোখের এক্সপ্রেশন যেন মনের কথা বলে দেয়, এটা জাহিদ বুঝেছিলেন মৌয়ের প্রতি তার ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ। তাদের দু’বছরের প্রেমময় জীবন শেষে জাহিদ নিজেকে আত্মসমর্পণ করেন মৌয়ের কাছে জীবনসঙ্গীরূপে। এরপর রঙিন স্বপ্নে মৌয়ের ভালোবাসায় কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। এতদিনে দু’জনই বুঝতে পেরেছেন ভালোবাসার মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া। সংসার জীবনে এসে উপলব্ধি করেছেন অদৃশ্যের মতো কেউ তাদের পাশে থেকে। তাদের কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও একটুখানি অবসর মিললেই দু’জনে কাছাকাছি থাকেন।
অনন্ত জলিল-বর্ষা
নিজের প্রযোজনায় প্রথম ছবি ‘খোঁজ দ্য সার্চে’-এর জুটি হয়ে অভিনয়ের সুবাদে কাছাকাছি আসেন অনন্ত জলিল ও বর্ষা। তাদের প্রেমের বিষয়ে মিডিয়াপাড়ায় গুঞ্জন বা রটনা তেমন কিছু না রটলেও জুটি হয়ে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন তারা। ২০১১ সালে তাদের প্রেমের সম্পর্কের সফল পরিণতি ঘটে। মাঝে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা উঠে এলেও সেটাকে ছবির পাবলিসিটি স্ট্যান্ট হিসেবেই ধরে নিয়েছিল অনেকে। বর্তমানে এ জুটি এক পুত্রসন্তান নিয়ে বেশ সুখে-শান্তিতেই বসবাস করছেন।
মৌসুমী-ওমর সানি
একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও চিত্রনায়ক ওমর সানির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক সময় ভালোবাসার জালে আটকা পড়েন দু’জনা। জাল ছিঁড়ে আর বেরুতে পারেননি। ফলে বিয়ে করে এক ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন এ দুই তারকা। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসারে এখনও ভালোবাসার অটুট বন্ধন ধরে রেখেছেন সানি-মৌসুমী।
নিলয় আলমগীর-আনিকা কবির শখ
‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই সখ্য গড়ে ওঠে নিলয় ও শখের সধ্যে। পরে তা রূপ নেয় প্রেমে। মাঝে দু’জনের মধ্যে ক্ষণিকের দূরত্ব তৈরি হলেও ভালোবাসার টানে তারা আবার মিলেছেন একই মোহনায়। সংসার পেতেছেন এক ছাদের নিচে।

No comments:

Post a Comment