ডেটলাইন
৯ ফেব্রুয়ারি। একেবারে নীরব এফডিসি। অথচ কয়েকদিন আগেও এখানে পা রাখার
জায়গা ছিল না। প্রতিটি ফ্লোরেই চলছিল রিহার্সেল ও শুটিং। ক্যান্টিনের সামনে
চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং আর্টিস্টদের প্রাণবন্ত আড্ডা ছিল। কিন্তু আজ
তেমনটি নেই। কারণ গত ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির
বনভোজন। বনভোজনকে কেন্দ্র করেই ফ্লোরে ফ্লোরে চলছিল নাচের রিহার্সেল ও
তারকাদের আনাগোনা। পিকনিক শেষ, তারকাদের পদচারণাও শেষ। তাই প্রাণহীন
চিত্রপাড়ায় প্রবেশ করে কিছুটা মন খারাপই হয়ে গেল। কিন্তু যাকে প্রাণহীন
বলছি সেটি আসলে প্রাণহীন নয়। যার প্রমাণ পাওয়া গেল খানিক পর। জানা গেল
ক্যান্টিনের সামনে ফাঁকা থাকার কারণ। ক্যান্টিনবয় হঠাৎ করে দৌড়ে এসে জানাল
‘কড়ই তলায় আগুন লেগেছে!’ দৌড়ে গেলাম সেদিকে। গিয়েই তো অবাক! এ আগুন সে আগুন
নয়।
এখানে চলছে বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরের ‘আগুন’ শিরোনামের একটি
গানের ভিডিওর শুটিং। সেখানে যাওয়া মাত্রই দেখা গেল মানুষের জটলা। শুটিংয়ের
জন্য নানা ধরনের লাইটিংয়ের মাধ্যমে জমকালো রূপ দেয়া হয়েছে এফডিসির কড়ই
তলার। যেখানে স্ক্রিনে বসে আছেন ভিডিওটির নির্মাতা সৈকত নাসির। কুশল
বিনিময়ের পর আসিফ আকবরের কথা জিজ্ঞেস করতেই আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখিয়ে দিলেন।
শুটিংয়ের পাশেই জটলার মধ্যমণি হয়ে কথা বলছেন ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’র
জনপ্রিয় গায়ক। কাছে গিয়ে কুশল জানতেই চিরায়ত হাসি দিয়ে কাঁধের ওপর হাত রেখে
উত্তর দিলেন, ‘আমি সবসময় ভালো থাকি রে...।’ আসিফের এমন কথার সঙ্গে আগে
থেকেই পরিচিত। কুশল জিজ্ঞেস করতেই এমন উত্তর ছেড়ে দেন অফুরন্ত
প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এ মানুষটি। গানের বিষয়ে জানতে চাইলাম। হুট করে
মিউজিক ভিডিওটিতে পারফর্ম করছেন? সহজ উত্তর- ‘গানটি ভালো লেগেছে তাই এর
সঙ্গে জড়িয়েছি। আর আয়োজন দেখে তুমিও তো বুঝতে পারছ। কেমন হচ্ছে।’ এমন সময়
হুট করেই ডাক পড়ল শট রেডি। আসিফ দ্রুত ছুটে গেলেন। রঙিন আলোর নিচে পারফর্ম
করা শুরু করলেন। এমন সময় পাশে এসে দাঁড়ালেন গানটির সুরকার জুয়েল মোরশেদ।
তিনিই আসিফকে রাজি করিয়েছেন গানটির বিষয়ে। কথা শুরু হল তার সঙ্গে। ঘণ্টা
খানেক আড্ডার পর অবশেষে আঁধার ভেঙে নিজ গন্তব্যে ছুটতে হলো।

No comments:
Post a Comment