Wednesday, February 15, 2017

বোরোর উৎপাদন হ্রাস খাদ্য নিরাপত্তায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে

আমন ধান কেটে মাড়াই শেষ হতে না হতেই আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য চাল উৎপাদনে শীর্ষে থাকা বোরো ধান আবাদের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছেন কৃষকরা। দেশব্যাপী কৃষকরা বীজতলা তৈরি করা থেকে শুরু করে চারা রোপণ পর্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে কাটছে তাদের সময়। চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদনে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে সরকারি সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) বোরোর উৎপাদন কম হয়েছে। গত প্রায় দু’দশক ধরে চাল উৎপাদনে শীর্ষস্থানে থাকা বোরোর উৎপাদন হ্রাস কীভাবে চাল উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।
আগেই উল্লেখ করেছি, বর্তমানে দেশে চাল উৎপাদনে বোরোর অবস্থান শীর্ষে। তবে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর পর্যন্ত চাল উৎপাদনে শীর্ষস্থানে ছিল আমন। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিলে (১৯৮০-৮৫) বলা হয়েছে, দু’বছর (১৯৭৮-৮০) মেয়াদি পরিকল্পনার প্রথম অর্থবছরে (১৯৭৮-৭৯) আউশ, আমন ও বোরো উৎপাদনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৮ দশমিক ০৯ লাখ টন, ৭৩ দশমিক ০৩ লাখ টন ও ২৪ দশমিক ২৭ লাখ টন। মোট চালের উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টন। তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮৫-৯০) থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ বছর অর্থাৎ ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে ৩৯ লাখ একর জমিতে বোরোর মোট উৎপাদন ছিল ৩৯ দশমিক ১ লাখ টন। একই বছরে ১ কোটি ৪৪ লাখ একর জমিতে আমনের উৎপাদন ছিল ৭৯ দশমিক ৩১ লাখ টন। একর প্রতি আমনের তুলনায় বোরোর উৎপাদনশীলতা বেশি হওয়ায় সরকার বোরো চাষ সম্প্রসারণে জোর দেয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর পর্যন্ত চাল উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকে বোরো। এ অর্থবছরে দেশে আমন, বোরো ও আউশের উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টন, ৮১ লাখ ৩৭ হাজার ও ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টন। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে চাল উৎপাদনে শীর্ষস্থান দখল করে নেয় বোরো। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে আমন, বোরো ও আউশের উৎপাদন দাঁড়ায় যথাক্রমে ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার, ১ কোটি ৫ লাখ ৫২ হাজার এবং ১৬ লাখ ১৭ হাজার টন (সূত্র : বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউ ২০০৫)।
তখন থেকে চাল উৎপাদনে শীর্ষস্থানটি বোরোর দখলে রয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১ কোটি ৯১ লাখ ৯২ হাজার টন বোরোর উৎপাদন গত অর্থবছর ১ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার টনে নেমে আসে। অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বোরোর উৎপাদন কমেছে ২ লাখ ৫৫ হাজার টন। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর থেকে ক্রমাগতভাবে বোরোর উৎপাদন বেড়ে চললেও গত অর্থবছরে এটির উৎপাদন কমে যায়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বোরোর আবাদ হ্রাসের জন্য যেসব কারণকে দায়ী করা হচ্ছে সেগুলো হল- (ক) বোরো আবাদে খরচ বৃদ্ধি পেলেও ধানের আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় বোরো চাষে চাষীদের আগ্রহের ঘাটতি; (খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরোর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া; (গ) উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ওইসব জেলায় সেচনির্ভর বোরোর আবাদ কমিয়ে আনতে সরকারের পরিকল্পনা। এসব কারণে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় গত বছর বোরোর আবাদ কমেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার একর এবং উৎপাদন কমেছে ২ লাখ ৫৫ হাজার টন। দেশে উৎপাদিত মোটা চালের প্রায় ৫৬ শতাংশ বোরো থেকে পাওয়া যায় বিধায় এটির উৎপাদন হ্রাসের প্রভাব পড়ে চালের বাজারে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (জিএআইএন)-এর বরাত দিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বিগত আট বছরে মোটা চালের দাম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায় ২০১৬ সালের আগস্ট-অক্টোবর সময়কালে।
২০০৯ সালে যখন এক কেজি মোটা চালের দাম ছিল ২০ থেকে ২৪ টাকা, তখন ওই সময় চালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। আমন ধান কাটার মৌসুম শুরু হলে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ধানের দাম কিছুটা কমে যায়, যার প্রভাব চালের দামের ওপরও পড়ে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা চালের আশানুরূপ দাম পেতে ব্যর্থ হন। কারণ আমাদের দেশে ধানচাষীদের বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। তারা ধারদেনা করে ফসল ফলান। এছাড়া তাদের সংসারে নানা অভাব-অনটন লেগেই থাকে। ফলে ধান কাটা মৌসুমের শুরুতেই তাদের বহু কষ্টে ফলানো ফসল বিক্রি করতে বাজারে নিতে হয়। ধান বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের পরিশোধ করতে হয় ধারদেনা, মেটাতে হয় পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা। এদিকে আমন ধান কাটার মৌসুম শেষ হতে না হতেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক বর্তমানে মোটা চালের মূল্য কেজিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৩৬-৩৮ টাকা। অপরদিকে চলতি সপ্তাহে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে মোটা ও চিকন চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪-৫ টাকা। আর খুচরা বাজারে কেজিতে বেড়েছে ৬-৮ টাকা (যুগান্তর, ১১ ফেব্রুয়ারি)। ১১ ফেব্রুয়ারি অন্য একটি দৈনিকে (বণিকবার্তা) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এক কেজি মোটা চাল ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দাম বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব ওই চালের সব শ্রেণীর ভোক্তার ওপর পড়লেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো। সরকারি হিসাবমতে, দেশে এখনও ৪ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হতদরিদ্র। বিআইডিএসের এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী খাদ্য-মূল্যস্ফীতি বাড়লে ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ হতদরিদ্র পরিবারই তখন চালের ভোগ কমিয়ে দেয়। দরিদ্র পরিবারের বেলায় এ হার ৬৬ শতাংশ। ফলে তাদের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। স্বাধীনতার সময়ের তুলনায় বর্তমানে চালের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণের বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মোট চালের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার টন, যার মধ্যে বোরোর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯১ লাখ ৯২ হাজার টন। যা চালের মোট উৎপাদনের প্রায় ৫৬ শতাংশ। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) দলিলে বলা হয়েছে, সেচ সুবিধার আওতায় অধিক পরিমাণ জমি উচ্চ ফলনশীল বোরো চাষের আওতায় আনায় গত দু’দশকে চালের উৎপাদন ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে দেশ আজ চাল উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। বোরো চাষে বিশেষ কতগুলো সুবিধা রয়েছে। এ সুবিধাগুলো হল- এক. কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, বৃষ্টিস্নাত কৃষি ফসলের তুলনায় সেচনির্ভর কৃষি ফসলের উৎপাদনশীলতা বেশি। দ্বিতীয়ত, শুষ্ক মৌসুমে আবাদ হওয়ার কারণে আমনের মতো বন্যায় বোরো ফসল নষ্টের আশংকা প্রায় নেই বললে চলে। তৃতীয়ত, সূর্যের খরতাপে বেড়ে ওঠায় এবং মূলত সেচনির্ভর হওয়ায় আমনের তুলনায় বোরোয় রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম। অন্যদিকে চাল উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আমনের আবাদ অনেকটা প্রকৃতিনির্ভর। আমন আবাদে খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস বা সাইক্লোনে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক। আমরা দেখেছি, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে পরপর দুটি প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও সাইক্লোন সিডর কীভাবে আমন ফসলের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছিল। ১ কোটি ৩০ লাখ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওই মৌসুমে উৎপাদিত আমনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৯৬ লাখ টনে। ফলে ওই অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি খাতে চাল আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২০ লাখ ৫৫ হাজার টনে, যা ছিল এর আগের সাত বছরের যে কোনো বছরের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাব দেখা দেয়ায় এবং চাল রফতানিকারক কয়েকটি দেশ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় তৎকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নগদ অর্থ দিয়েও চাল আমদানিতে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল। দেশের উত্তরাঞ্চলে সেচনির্ভর বোরো আবাদে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই সরকার উত্তরাঞ্চলে বোরোর আবাদ সংকুচিত করে হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলে স্থানান্তরে পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, দেশের উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া রোধ করার কি কোনো উপায় নেই? প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০ বছর আগে উত্তরাঞ্চলে বৃহত্তম নদী হিসেবে পরিচিত ছিল তিস্তা। করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী ইত্যাদি নদী তিস্তার বিপুল জলরাশি নিয়ে প্রবাহিত হতো। ১৭৮৭ সালের আগস্টে তিস্তায় এক বিপুল বন্যার ফলে করতোয়ার সঙ্গে তিস্তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তিস্তার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর করতোয়া তার মূল স্রোতধারা হারিয়ে খর্বকায় হতে থাকে। করতোয়া নদী নাব্য হারিয়ে ফেলায় আত্রাই ও যমুনেশ্বরী বর্ষার সময় তিস্তার পুরো পানি বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে ওই এলাকায় অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার প্রকোপ বেড়ে যায়। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে বৃষ্টির পানি ব্যাপক হারে বালি বহন করে আনে। এ বালি সঞ্চিত হয়ে আত্রাইয়ের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।
এতে তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘœ হয়। ক্রমেই তিস্তা শীর্ণ হতে থাকে। তবে ভারতীয় অংশে ব্যারাজ (গজলডোবা ব্যারাজ) নির্মাণ করায় তিস্তা নদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ভারত গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ করায় শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ ভীষণভাবে কমে গেছে। ফলে দেশের কৃষি, মৎস্য তথা বাংলাদেশের অর্থনীতি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বোরো চাষে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বাড়িয়ে ও বোরো চাষীদের পানির প্রকৃত চাহিদার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণের বেশি পানি জমিতে প্রয়োগ থেকে বিরত রেখে এ সমস্যার অনেকটা সমাধান করা যেতে পারে। ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বাড়াতে দরকার আধমরা নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, মজা পুকুর, দীঘি ইত্যাদির সংস্কার। এতে এগুলোর পানি ধারণের ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এটা করা গেলে এসবের পানি শুকনো মৌসুমে বোরোসহ গ্রীষ্মকালীন অন্যান্য ফসলে সেচের কাজে লাগবে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১১-১৫) উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপ্রবণ এলাকায় সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ওপর জোর দেয়া হয়। এতে বলা হয়, যেহেতু মঙ্গাপ্রবণ এলাকাগুলোয় সারা বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম, সেহেতু সেখানে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসে সহায়ক হবে। ওই পরিকল্পনায় গ্রীষ্মকালীন ফসলে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের চেয়ে ভূ-উপরি ভাগের পানির সংরক্ষণ এবং কার্যকর ও সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপরও জোর দেয়া হয়। বোরোসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভূ-উপরি ভাগের পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও (২০১৫-২০) বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাওর এলাকায় বোরো চাষ বড় আকারে সম্প্রসারণে সমস্যা হল অকাল বন্যায় বোরো ফসলের ক্ষতির আশংকা। সিলেট ও ময়মনসিংহের হাওর এলাকায় অকাল বন্যায় পাকা বোরো ধান ডুবে যাওয়া ও ক্ষয়ক্ষতির খবর আমরা পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই দেখে থাকি। সবশেষে যা বলতে চাই তা হল, বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পেছনে বোরোর অবদান সবচেয়ে বেশি। এমনিতেই গত কয়েক বছর যাবৎ আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য চালের উৎপাদন বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী এবং তা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ৩, ১ দশমিক ৩৩ ও ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে দেখা যায়, চাল উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের (১.৩৭ শতাংশ) চেয়ে কম। বোরো আবাদ সংকোচনে সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বোরোর উৎপাদন কমেছে ২ লাখ ৫৫ হাজার টন। দেশের হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলে বোরো আবাদ সম্প্রসারণ কতটা সফল হয় তা না দেখে উত্তরাঞ্চলে বোরো চাষের জমি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা হলে তাতে চাল উৎপাদন অনেকটা হ্রাস পাবে, যা বাংলাদেশকে আবার চাল আমদানিকারক দেশে পরিণত করবে।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
latifm43@gmail.com

No comments:

Post a Comment