Tuesday, February 21, 2017

মালয়েশিয়া-উত্তর কোরিয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং ন্যাম হত্যার ঘটনায় উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত ক্যাং চোলকে তলব করেছে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া।
খবর বিবিসির। কুয়ালালামপুর ‘শত্রু শক্তিগুলোর’ সঙ্গে গোপনে আঁতাত করছে এবং তাদের ‘কিছু লুকানোর আছে’ বলে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন চোল। ন্যামের হত্যাকাণ্ডে মালয়েশিয়ার তদন্তে উত্তর কোরিয়ার আস্থা নেই বলেও জানিয়েছিলেন চোল। তার এসব কথাবার্তায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূত চোল যেসব অভিযোগ করেছেন- সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকেও ডেকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটি জানায়, ‘পরামর্শ’ করার জন্য নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে তারা। সোমবার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ন্যামকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের একটি সিসিটিভির ভিডিও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। বলা হচ্ছে, কিম জং ন্যামের ওপর হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে সেখানে। জাপানের ফুজি টিভি ওই ভিডিও সম্প্রচার করার পর রয়টার্স,
চীনের সিসিটিভি, অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে এক নারী পেছন থেকে এক ব্যক্তিকে মুখ পেঁচিয়ে ধরলেন। এক ব্যক্তি লুটিয়ে পড়লেন এবং ওই নারী দ্রুত হেঁটে বেরিয়ে গেলেন। কয়েকজন যাত্রীকেও এ সময় পেছন থেকে দৌড়ে যেতে দেখা যায় ভিডিওতে। পুরো ঘটনায় সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। মালয়েশীয় পুলিশের ধারণা, সোমবার ন্যাম কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ম্যাকাউয়ের ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় থাকার সময় তার মুখে শক্তিশালী কোনো বিষ স্প্রে করেন ওই নারী। এ খুনে জড়িত সন্দেহে একজন উত্তর কোরীয় এবং আরও তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন। সন্দেহের তালিকায় থাকা পলাতক আরও চারজনকে খুঁজছে মালয়েশিয়া পুলিশ।

No comments:

Post a Comment