আগামী
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা- এ তথ্য
জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়ন হবে, এতে
কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে
অভ্যন্তরীণ বাজারকে শক্তিশালী করা। এজন্য ২০০৯ সালে এ সরকারের প্রথম বাজেট
ছিল ৯৫ হাজার কোটি টাকার। আগামী বছর যা হবে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি। শুধু
তাই নয়, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট পাঁচ লাখ কোটি
টাকা ছুঁবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রোববার পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন
মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর সম্মানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক
সংবর্ধনা সভায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের
উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে দেশে গ্যাসের সংকটও কেটে যাবে। এরপর
অন্তত ২০ বছর পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে গ্যাস পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, কিছু
পশ্চিমা দেশ আর গণ্যমাধ্যম মিলে পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতি নিয়ে আমাদের
বদনাম করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের
কারণে কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয়েছে- কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিগত আট বছরে
বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা অগ্রগতির কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন,
বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করেছিল, যার
অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, শিক্ষার প্রসার আর দারিদ্র্য বিমোচন।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, বিদ্যুৎ আর শিক্ষা সহজলভ্য করে দিতে পারলে
সরকার বা কারও কিছু করতে হবে না। মানুষ নিজেরাই উন্নয়নের পথ খুঁজে নেবে।
এছাড়া দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী ২০২৪-২৫
সালে দেশে দারিদ্র্যের সমস্যা থাকবে না। কর্মে অক্ষম ৭ থেকে ১৪ শতাংশ মানুষ
সব সময় সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রবাসীদের
উদ্বেগের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে
প্রবাসীদের স্বার্থবিরোধী কিছু এ আইনে থাকবে না। অনুষ্ঠানে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত
মুক্তিযোদ্ধারা যাতে হালনাগাদ তালিকায় নিবন্ধিত হতে পারেন, সে জন্য
ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আগামী মার্চ মাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ফরম
সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন প্রবাসীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য
আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল
গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা মানপত্র পাঠ করেন যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সহসভাপতি
সারওয়ার কবির। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর
রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী
প্রতিনিধি একেএম আবদুল মোমেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শামসুদ্দিন খান,
জালাল উদ্দিন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment