রাজধানীর
কমলাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স
সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হছে। হাসপাতালটির পরীক্ষা করার বিভিন্ন মেশিনও
অকেজো। যৌথভাবে পরিচালিত হওয়ায় নিজেরা মাঝে মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন
পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। সরেজমিন হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, প্রায়
রোগীশূন্য নিরিবিলি একটি দালান, অন্য সরকারি হাসপাতালের মতো নেই কোনো
কোলাহল। যে কয়েকটি কেবিন ও ওয়ার্ড রয়েছে তার সবটিই রোগীশূন্য।
হাসপাতালটিতে
৯টি কেবিন ও ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত নার্স। মোট ৬ জন নার্স
দিয়ে ২টি শিফটে চালানো হয় সেবা। শিশু বিশেষজ্ঞ ২ জন, গাইনি বিভাগে ৪ জন
ডাক্তার দিয়ে চলছে কোনো রকমে সেবার কাজ। তবে দ্বৈত পরিচালনা হওয়ায় মাঝে
মধ্যে নিজেদের মধ্যেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
তাছাড়া স্বাস্থ্য ও রেলওয়ে বিভাগের কর্মকর্তাদের ডিউটিও আলাদা নিয়মে-
যেখানে স্বাস্থ্যের অধীনস্ত কর্মকর্তারা সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা
৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং রেলওয়ে কর্মকর্তারা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত
ডিউটি করেন। বিকাল ৫টার পর হাসপাতালটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যের
অধীনস্ত কর্মকর্তা মো. আলিবুল বলেন, ঢাকা শহরের মধ্যে এমন পরিবেশে হাসপাতাল
আর কোথাও নেই। প্রয়োজনীয় মেশিন না থাকায় এখানে রোগীর সমাগম একেবারেই
নগন্য। তবে এখানে যদি সরকারের সুদৃষ্টি পড়ে তাহলে হয়ত এটি নামকরা হাসপাতাল
হবে। কমলাপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল ১৯৮৬ সালে প্রায় ৬ একর
জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথমদিকে হাসপাতালটি শুধুমাত্র রেলওয়ে কর্মরত
স্টাফদের জন্য উন্ম–ক্ত ছিল। কিন্তু হাসপাতালটির ধীরগতিতে চিকিৎসা সেবা
প্রদান ও বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে এটিকে
সর্বসাধারণের জন্য উন্ম–ক্ত করা হয়। সে সময় হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে
রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল করা হয়। জেনারেল করার পরও হাসপাতালটির মান ও
চিকিৎসা সেবা প্রদানে আশানুরূপ কোনো পরিবর্তন হয়নি। কেননা এখানকার সব
চিকিৎসা সামগ্রীই অকেজো।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বৈত
উদ্যোগে এটিকে জেনারেল করা হয়। কিন্তু হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
সামগ্রী, ডাক্তার, নার্স, আয়া ও বয়ের অভাবে কোনো রোগীই এখানে চিকিৎসা নিতে
আসে না। এছাড়াও হাসপাতালটিতে নেই সব বিভাগের চিকিৎসা সেবা। হাতেগোনা কয়েকটি
বিভাগ নামমাত্র চালু রয়েছে। যেগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। হাসপাতালের
সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে রেল ভবনের কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ ২৩ জানুয়ারি রোড
এক্সিডেন্ট করে এখানে ভর্তি হন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বেতন অল্প হওয়ায়
অন্য কোথাও না গিয়ে রেলওয়ে হাসপাতালেই ফ্রি চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছি।
ডাক্তার দিনে একবার এসে দেখে যান। কিন্তু দুপুরের পর আর কাউকে পাওয়া যায়
না। অনেক ধীরগতিতে তার চিকিৎসা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। রেলওয়ে
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সৈয়দ ফিরোজ আলমগীর যুগান্তরকে বলেন,
দ্বৈত শাসনে হাসপাতাল কখনও চালানো সম্ভব নয়। তাছাড়া এ হাসপাতালের জন্য কোনো
সরকারি বাজেট এবং অনুদান নেই। কয়েকজন ডাক্তার দিয়ে এতবড় হাসপাতাল চালানো
যায় না। তিনি বলেন, জেনারেল করার পর এর কোনো প্রচার-প্রসার নেই। তবে
বহির্বিভাগে রোগীর পরিমাণ বাড়ছে। এটি একটি আশানুরূপ দিক। এটি ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে দেয়া হবে- এমন একটি আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি
জানান।

No comments:
Post a Comment