
‘মিউনিখ
সিকিউরিটি কনফারেন্স’-এ অংশ নিতে আগামীকাল ৪ দিনের সফরে জার্মানি যাচ্ছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মানির মিউনিখ শহরে শুক্রবার থেকে তিনদিনের এ
সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট,
প্রধানমন্ত্রীসহ পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া,
সফরকালে আগামী শনিবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ
মাহমুদ আলী ও সচিব মো. শহীদুল হকসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য
মতে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইটে
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ছেড়ে যাবেন। আবুধাবি হয়ে পরদিন সকালে তিনি মিউনিখ
পৌঁছাবেন। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর, মিউনিখ
সিকিউরিটি কনফারেন্সে যোগদান এবং দেশটির কার্যকর নেতা অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের
সঙ্গে বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন ঢাকার কর্মকর্তারা। এছাড়া,
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নেতৃত্ব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার
(বেক্সিট) প্রশ্নে গণরায়, ইউরোপসহ সারাবিশ্বের অভিবাসন সংকট প্রকট হওয়াসহ
অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে মিউনিখ সিকিউরিটি সম্মেলন এবং সেখানে
হাসিনা-মার্কেল প্রস্তাবিত বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা
হচ্ছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগেও
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার মার্কেলের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এবারের বিশ্ব
প্রেক্ষাপট ভিন্ন।’ তিনি বলেন, ‘জার্মানি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম
রপ্তানি বাজার। সেখানে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের বাংলাদেশি পণ্য
রপ্তানি হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ প্রায় এক বিলিয়ন ইউরোর মতো পণ্য জার্মানি থেকে
আমদানি করে। বার্লিন আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেয়। জার্মানির
সঙ্গে বাংলাদেশের কণ্টকপূর্ণ কোনো ইস্যু নেই। সে কারণে চ্যান্সেলর ও
প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার আলোচনার পরিধি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হওয়ার
সম্ভাবনাই বেশি।’ আসন্ন মিউনিখ সম্মেলনের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এবারে
সেখানে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট
মোহাম্মাদ আশরাফ ঘানি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ,
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও
গুটারেজসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে
শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় হবে। সেখানে বাংলাদেশের
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবেন শেখ
হাসিনা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিতে বাংলাদেশ কিভাবে তার
ভূমিকা আরো বাড়াতে পারে সেটিও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘টুয়ার্ডস
মিউচুয়াল সিকিউরিটি’ স্লোগানে অনুষ্ঠেয় মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স একটি
স্বাধীন ফোরাম হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৬৩ সালে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত
বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় এবং বিতর্কের মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তোলার
লক্ষ্যে কাজ করছে এ ফোরাম। কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিবছরই সম্মেলনটি হয়ে
আসছে। এবারের সম্মেলনে অভিবাসন সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব
পাবে বলে জানা গেছে।
>>>মানবজমিন
No comments:
Post a Comment