প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা এপ্রিলের শুরুর দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন। ঢাকা ও দিল্লির
বিভিন্ন সূত্রে এ আভাস পাওয়া গেছে। কয়েক দফায় পেছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর
ভারত সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা
সোমবার পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। এ বৈঠকে সফরের
প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা
গেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যাওয়ার জন্য একাধিকবার
তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। যদিও এসব সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা যায়নি। সর্বশেষ গত বছরের ১৮
ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর স্থগিত হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে
যাওয়ার আগ্রহ দেখান শেখ হাসিনা। কিন্তু এ সময় ভারতের পার্লামেন্টে বাজেট
অধিবেশন এবং বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন থাকায় মোদি খুবই ব্যস্ত থাকবেন।
ভারতের বাজেট অধিবেশন মার্চের শুরুতে শেষ হয়ে যাবে। ফলে মোদির হাতে সময়
থাকবে। শেখ হাসিনা তখন ভারত সফরে গেলে মোদি সর্বক্ষণিকভাবে তার জন্য সময়
বরাদ্দ রাখতে পারবেন বলে ভারতের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। জানতে চাইলে
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সময়ের
নোটিশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর আয়োজন করা সম্ভব হবে।
কেননা এ
সফরের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেয়া আছে।’ তিনি অবশ্য কবে নাগাদ শেখ হাসিনার
ভারত সফর অনুষ্ঠিত হবে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দেননি। তবে ঢাকার এক
কর্মকর্তা রোববার যুগান্তরকে বলেছেন, ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের জন্মদিন রয়েছে। তাছাড়া, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর খুব ব্যস্ততা থাকবে। ফলে শেষ পর্যন্ত
এপ্রিলের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে প্রায় ৩০টি চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে
বাংলাদেশের বহুপ্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এখনও অনিশ্চিত।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে এ চুক্তি
অনিশ্চিত রয়েছে।

No comments:
Post a Comment