Monday, February 13, 2017

মিরপুরে খোঁড়াখুঁড়িতে পথ চলতে নাভিশ্বাস

বিশাল বিশাল খানাখন্দক আর প্রধান সড়কের দুই পাশই কেটে রাখায় মিরপুরের সড়কগুলোর এখন বেহাল দশা। মহানগরীর অন্য যে কোনো এলাকা থেকে মিরপুরের সড়কগুলো সব সময়ই ছিল ভালো অবস্থায়। কিন্তু খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এসব সড়কে এখন সবসময় যানজট লেগে থাকে। এতে পথচারীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। পথ চলতে তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মিরপুরের প্রধান সড়ক ও এর আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ সড়কেই চলছে খোঁড়াখুঁড়ি- যার প্রায় অর্ধেকই এখন চলাচলের একেবারেই অযোগ্য। মিরপুর ১০নং গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১২নং, ১০নং থেকে আগারগাঁও ও ১৪নম্বর, মিরপুর ১১নং থেকে প্রশিকা মোড় হয়ে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ এর আশপাশের প্রধান ও সংযোগ সড়কজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। সড়কের দুই পাশ বন্ধ করে কাজ চলছে।
সড়কজুড়ে রেখে দেয়া আছে সুয়ারেজ লাইনের বোল্ডার, ইউটিলিটি সংযোগের পাইপ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। মেট্রো রেল প্রকল্পের জন্য ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি সংযোগ স্থাপন, সুয়ারেজ লাইন স্থাপন ছাড়াও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইনের কাজের জন্য খোঁড়া হচ্ছে এসব সড়ক। এতে নাভিশ্বাস বৃহত্তর মিরপুর এলাকার বাসিন্দাদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। মিরপুর ১২নং বাসস্ট্যান্ড থেকে আগারগাঁও তালতলা পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশেই মাইলের পর মাইল খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পিক টাইমে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। এ যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশের। মিরপুর ১০নং গোল চত্বরে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মোখলেসুর রহমান জানান, ‘সড়ক কমে হয়ে গেছে অর্ধেক। কিন্তু যাত্রী আর গাড়ি তো কমেনি। তাই জ্যাম লেগেই থাকে। আমরা চেষ্টা করি যতটুকু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।’ এছাড়াও যাত্রীদের গণপরিবহনে উঠার জন্য সড়কের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়- যা খুবই বিপজ্জনক। একটু এদিক-সেদিক হলেই পড়তে হবে গর্তে। সড়কের দু’পাশেই নেই পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ। তাই যাত্রী ওঠা-নামা করার সময় স্থবির হয়ে পড়ে গাড়ির চাকা। অফিগামী চাকরিজীবী আর স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তির মুখে। উপরন্তু রাতের বেলা এসব খানাখন্দক গাড়িচালকদের চোখে ধরা পড়ে না। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া এসব খোঁড়াখুঁড়ি করতে থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর নিজেদের মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়।
যে যার মতো কাজ করেই চলেছে। একটি সড়কের কাজ এক সংস্থা করে গেলে আবার আরেকটি সংস্থা এসে শুরু করে। খোঁড়াখুঁড়ির পর তৈরি হচ্ছে ধুলাবালি। ইট-মাটির কণা আর ধুলাবালি মিলে শ্বাস নেয়াই কষ্টকর হয়ে যায় এসব সড়কে। সড়কের এমন বেহাল দশার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। মিরপুর ১০নং থেকে তালতলা পর্যন্ত সড়কের দু’দিকেই রয়েছে ফার্নিচারের বিশাল সমারোহ। দেশী ও বিদেশী নানা ব্রান্ডের ফার্নিচারের শোরুম থাকায় এখানে বেচাকেনা থাকে সবসময়ই জমজমাট। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল দশার পর থেকেই ঘাটতি পড়ছে প্রতিদিনকার মুনাফায়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়া, পার্কিং সুবিধা না থাকা এবং তীব্র যানজটের কারণে এদিকে আসতে চান না ক্রেতারা। শেওড়াপাড়া বেগম রোকেয়া সরণিতে থাকা প্রাইম টাচ ফার্নিচারের ব্যবস্থাপক সোহাগ জানান, ‘এখন বিয়ের মৌসুম। আশা ছিল প্রতিবছরের মতো বিক্রি ভালো হবে। কিন্তু সড়কের এ অবস্থায় ক্রেতাদের শোরুমে ঢুকতেই বেগ পেতে হয়। তাই লেনদেন কমে গেছে প্রায় ৪০ ভাগ।’ এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মঞ্জুর-ই-মাওলার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘বৃহত্তর মিরপুর ও এর আশপাশে এ মুহূর্তে আমাদের বড় ধরনের কোনো কার্যক্রম চলছে না। তবে মেট্রো রেল প্রকল্প, ওয়াসা, তিতাস ও ডেসকো তাদের কাজ করছে। তাদের কাজ শেষ হলে আমরা সড়কগুলো মেরামতের কাজ করব।’

No comments:

Post a Comment