যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের এক মাস পূর্তিতে দেশটির
অর্ধশতাধিক শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মার্কিন চেতনা আর মূল্যবোধের পরিপন্থী
কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে আমেরিকানরা রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এ সময়
তাদের ব্যানারে লেখা ছিল ‘নট মাই প্রেসিডেন্ট’ (ট্রাম্প আমাদের প্রেসিডেন্ট
নয়)। এদিকে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটেনের সব
দলের এমপি। এ সংক্রান্ত এক পিটিশনে অন্তত ২০ লাখ ব্রিটিশের স্বাক্ষরের পর এ
দাবি জানান এমপিরা। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল
‘প্রেসিডেন্ট ডে’। গত মাসের ২০ তারিখে শপথ গ্রহণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই
দিনটি উপলক্ষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অনাস্থা জানাতে লাখো আমেরিকান
রাজপথে নামেন। নিউইয়র্কসহ ৫০টির বেশি শহরে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প
টাওয়ারের সামনে প্রধান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনেকের হাতেই ছিল ট্রাম্পকে
অভিশংসনের পোস্টার। আগের দিন রোববার নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ারে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে
অভিনব আরেকটি কর্মসূচি পালিত হয় ‘টু-ডে আই অ্যাম মুসলিম টু’ (আজ আমিও
মুসলমান) ব্যানারে। সমস্বরে স্লোগান উচ্চারিত হয়, ‘এভরি ডে আই অ্যাম
মুসলিম-টুডে উই আর অল মুসলিমস’,
‘আই হ্যাভ ড্রিম অব এ সেইফ ওয়ার্ল্ড ফর
ডাইভার্সিটি’, ‘স্প্রেড লাভ ইটস দ্য মুসলিম ডে’ ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ঘোষিত এ কর্মসূচিতে সব ধর্ম-বর্ণ আর জাতিগোষ্ঠীর আমেরিকানরা জড়ো
হয়ে মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দৃপ্ত প্রত্যয়ে উচ্চারণ করেন, ‘এ
দেশ ইহুদি-খ্রিস্টান-মুসলমানের। আমরা সকলেই এদেশকে ভালোবাসি। কেউ আমাদের
তাড়াতে পারবে না।’ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করতে যোগ দিয়েছিলেন সাবেক
প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কন্যা চেলসি ক্লিনটন। সঙ্গে ছিল দুই বছর বয়সী
কন্যা শার্লটি। এ সমাবেশ-মঞ্চের পাশেই দাঁড়িয়ে সাম্প্রতিক সময়ে
ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত ‘উই দ্য পিপল’ পোস্টারের বিখ্যাত
ছবি বাংলাদেশী মুনিরা আহমেদের মা নারগিস আহমেদ এবং বাবা মোস্তাক আহমেদ।
তাদের হাতেও শোভা পাচ্ছিল সেই পোস্টার। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনেকের
হাতেই ছিল পোস্টারটি।
ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর বাতিলের দাবি সব দলের এমপির : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটেনের সব দলের এমপি। সোমবার ব্রিটিশ সংসদের ওয়েস্টমিনিস্টার হলে এক বিতর্কে এ দাবি জানিয়েছেন তারা। ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলের এক পিটিশনে প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে সংসদে বিতর্ক চলাকালে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের কাছে ট্রাম্পের সফর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দ্য ইন্ডিপেডেন্ট এ খবর দিয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তাকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান তেরেসা মে। ওই সময় ট্রাম্প বিতর্কিত এক নির্বাহী আদেশে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপরই যুক্তরাজ্যজুড়ে ট্রাম্পের সফর বাতিলের দাবি ওঠে। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনও এ দাবি জানান। সর্বশেষ লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলকে সমর্থন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মানুষদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলে ২০ লাখ আবেদন পড়লেও বিপরীতে সফরের পক্ষেও ৩ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ফলে সফরের পক্ষেও বিতর্কে অংশ নেন ব্রিটিশ এমপিরা।
ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর বাতিলের দাবি সব দলের এমপির : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটেনের সব দলের এমপি। সোমবার ব্রিটিশ সংসদের ওয়েস্টমিনিস্টার হলে এক বিতর্কে এ দাবি জানিয়েছেন তারা। ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলের এক পিটিশনে প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে সংসদে বিতর্ক চলাকালে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের কাছে ট্রাম্পের সফর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দ্য ইন্ডিপেডেন্ট এ খবর দিয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তাকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান তেরেসা মে। ওই সময় ট্রাম্প বিতর্কিত এক নির্বাহী আদেশে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপরই যুক্তরাজ্যজুড়ে ট্রাম্পের সফর বাতিলের দাবি ওঠে। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনও এ দাবি জানান। সর্বশেষ লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলকে সমর্থন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মানুষদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বাতিলে ২০ লাখ আবেদন পড়লেও বিপরীতে সফরের পক্ষেও ৩ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ফলে সফরের পক্ষেও বিতর্কে অংশ নেন ব্রিটিশ এমপিরা।
সোমবার
পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বর্ণিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে বিক্ষোভ
করেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ‘ট্রাম্প ও ব্রেক্সিটকে বিতাড়িত করো’, ‘নো
ট্রাম্প নো ব্রেক্সিট’, ‘নো রেসিস্ট ইইউ এক্সিট’- স্লোগানে মুখরিত ছিল
তারা। এদিকে সংসদে লেবার পার্টির এমপি ডন বাটলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের
একজন বিপজ্জনক ভাইরাস রয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, ওই ভাইরাসকে ব্রিটেনের
মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে দেয়া যাবে না।’ বাটলারের বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী
তেরেসাকে ‘হতাশ ও শংকিত’ হতে দেখেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি
অ্যালিস্টার কারমাইকেল। পরে তেরেসাকে কটাক্ষ করে এসএনপি পার্টির এমপি
অ্যালেক্স স্যালমন্ড বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পরিচালিত বাণিজ্যিক
ভবিষ্যৎ নিয়েই শংকিত তেরেসা। সংসদে লেবার পার্টির এমপিদের একাংশ ট্রাম্পের
ব্রিটেন সফর বাতিলের পরামর্শ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্ক উন্নয়নের খাতিরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের পক্ষে যুক্তি দেন
কনজারভেটিভ সদস্যরা। ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির বিজ্ঞ এমপি
অ্যাডওয়ার্ড লেইঘ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাত মুসলিম দেশের ওপর
নিষেধাজ্ঞা বর্ণবাদের ইঙ্গিত বহন করে না। আমি মনে করি না যে, এ নিষেধাজ্ঞা
বর্ণবাদের প্রমাণ বহন করে।’ সর্বশেষ পরিচালিত একটি জনমত জরিপ অনুসারে,
ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর সমর্থনকারী ব্রিটিশদের সংখ্যাই বেশি। জরিপে অংশ
নেয়া ব্রিটিশদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ সফরের পক্ষে আর বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪২
শতাংশ ব্রিটিশ।

No comments:
Post a Comment