রাজশাহী
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ‘নূন্যতম ৩৩ ক্রেডিট’ প্রথা
বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে নিজ কার্যালয়ে রাত
কাটিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগসহ অন্তত ২৫ শিক্ষক। শনিবার
বিকাল থেকে ক্রেডিট প্রথা বাতিল দাবিতে আন্দোলনরতরা ভিসি কার্যালয়ে সামনে
অবস্থান নিলে তিনিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায়
ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে
ঘটনাস্থল ও ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে সংকট
নিরসনে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা ডেকেছেন ভিসি।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, টানা ১৫ ঘন্টা আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা
ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে ভিসি কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে আছেন। অনেকে
অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, সেখানে কেউ কেউ একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। তবে ভেতর থেকে
কোনো শিক্ষক বা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিকে বের হতে দিচ্ছেন না তারা। স্লোগান
দিয়ে দাবির কথা জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, তারা রক্ত
ঢেলে দাবি আদায়ে কর্মসূচি দিয়েছেন। সেই রক্ত মাড়িয়ে স্যাররা ভিসির
কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন।
তারা আমাদের অভিভাবক, তবুও এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র
তাদের মন গলেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
দেন তারা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মততা ঘোষণা করে সেখানে অবস্থান নিয়েছে
রুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। শিক্ষকদের সঙ্গে তারা কয়েক দফা কথা বললেও
কোনো সমঝোতা হয়নি। রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান
তপু যুগান্তরকে বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি দু'পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার।
কিন্তু দু'পক্ষ অনড়, ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহমত
জানিয়েছি। রাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের অবস্থানের কারণ ক্যাম্পাসে যাতে
এ সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কোনো বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে। জানা
গেছে, ‘নূন্যতম ৩৩ ক্রেডিট’ প্রথায় রুয়েট শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে
উত্তীর্ণ হতে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন
করতে হয়। ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ প্রথা চালু করে রুয়েট প্রশাসন। এর
আগে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম
ক্রেডিট অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও পরবর্তী বর্ষে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারতো।

No comments:
Post a Comment