রাজশাহী
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্রেডিট প্রথা বাতিলের দাবিতে
ভিসি অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগকে নিজ কার্যালয়ে মধ্যরাতেও অবরুদ্ধ করে
রেখে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাত দেড়টারও দিকে এ প্রতিবেদন
লেখা পর্যন্ত ভিসি ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষক অবরুদ্ধ
ছিলেন। আর ভিসির কার্যালয়ের বাইরে বারান্দায় অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ে
স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তবে প্রশাসন ও শিক্ষার্থী দু’পক্ষ
অনড়।
দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেয়ায় বের
হতে পারেননি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। ফলে ভিসির কার্যালয়ে রাত কাটাবেন
তারা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত
পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা
হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাতে যুগান্তরকে জানান, দাবি আদায় না হওয়া
পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ভিসি স্যার তখনি বের হতে পারবেন, যখন
আমাদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেবেন। অন্যথায় স্যারকে বের হতে দেয়া হবে না।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত জানিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগ নেতারা
শিক্ষকদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বললেও কোনো সমঝোতা হয়নি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে
রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু যুগান্তরকে
বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার। কিন্তু দু’পক্ষ
অনড়, ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহমত জানিয়েছি। তবে
রাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের অবস্থানের কারণ ক্যাম্পাসে যাতে এ সুযোগে
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কোনো বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে। এর আগে ক্রেডিট
প্রথা বাতিলের দাবিতে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে দিনভর আন্দোলন করেছেন
শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের রক্ত দিয়ে ‘৩৩ ক্রেডিট
প্রথা বাতিল চাই’ লিখে দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিকালের দিকে প্রশাসন ভবনে ঢুকে ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে
স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে ৫টায় সংকট নিরসনে
আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন
কর্তারা মীমাংসা বৈঠকে বসতে চাইলেও তাতে রাজি হননি শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস
সূত্র জানায়, দাবি আদায়ে সকাল ১০টায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার
চত্বরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে কয়েক
দফা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে
অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বেলা আড়াইটার দিকে তারা স্লোগান দিতে দিতে
প্রশাসন ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভিসি অধ্যাপক মোহা.
রফিকুল আলম বেগের কার্যালয়ের সামনে বারান্দায় বসে স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে রুয়েট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তারা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের
সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে বসার আহ্বান জানান। তবে তাতে কর্ণপাত করেননি
শিক্ষার্থীরা। ফলে বিকাল ৪টায় অফিস সময় শেষ হলেও কার্যালয় থেকে বের হতে
পারেননি ভিসি। এতে গোটা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে রুয়েট
ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীর থেকে
ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নিচ্ছেন। রক্ত দিয়ে ক্রেডিট প্রথা বাতিল
দাবিতে নানা স্লোগান প্রশাসন ভবনের সামনে, ভবনের সিঁড়িতে, প্রধান ফটকসহ
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে লিখছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, ২৮ জানুয়ারি থেকে
তারা ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। তাদের রক্ত মাড়িয়ে শিক্ষকরা আজ
একাডেমিক কমিটির সভায় যোগ দিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন
অব্যাহত রাখবেন। প্রশাসনের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে বসতে রাজি না হওয়ার বিষয়ে
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এর আগে ৩০ জানুয়ারি আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা প্রশাসনের
কর্তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। তাদের মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আর
আলোচনা নয়, ৩৩ ক্রেডিট প্রথা বাতিল চাই।’ সার্বিক বিষয়ে জানতে রুয়েট ভিসি
অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ বলেন, একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের
সঙ্গে বসে সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মীমাংসা বৈঠকে
ডাকা হলেও আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তারা প্রশাসন ভবন অবরুদ্ধ করে
রেখেছে। ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা
হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিক্ষার্থীদের দাবি অযৌক্তিক
এটুকু বলে মোবাইলে কল কেটে দেন।

No comments:
Post a Comment