চট্টগ্রামের
অন্যতম কৃষি প্রধান জনপদ মিরসরাইয়ে এবার মৌসুমী সবজির মধ্যে টমেটোর ভালো
ফলন হয়েছে । কিন্তু ন্যায্য মূল পাচ্ছেন না এখানকার কৃষকরা। তাদের থেকে হাত
বদল হলেই তিনগুণ দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভালো লাভের আশায় এবার আগের থেকে বেশি টমেটো চাষাবাদ করেছেন উপজেলার কৃষকরা।
কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার
গুলোতে এখন শেষের দিকে জমি ভেঙ্গে টুরি ভর্তি করে টমেটো তুলে বাজারে নিয়ে
আসছে পাইকারদের কাছে। কিন্তু পাইকাররা কেজি ৭ টাকার বেশি দিয়ে কৃষকদের
দিচ্ছেন না। এ যেন বিক্রি না হলে ফেলেই দিতে হবে। খুচরা হাটে এখনো ২০-২৫
টাকার কমে নেই কোন টমেটোই। সেক্ষেত্রে ঠকে যাচ্ছে শুধু কৃষকরাই। মিরসরাই
সদর বড়তাকিয়া, বড়দারোগারহাট, মিঠাছরা,
জোরারগঞ্জ, কমলদহ এলাকায় ঘুরে এমন
দৃশ্য দেখা গেছে। অথচ চাষাবাদ খরচ, জমিতে দেয়া সার কীটনাশক বদলা সহ নানান
খরচ কোথা থেকে তুলবে কৃষক ? খবর নিয়ে জানা গেছে, কিছু পাইকার সিন্ডিকেট
করেই কৃষকদের এমন অল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ অনেকের ।
কৃষি কর্মকতাও স্বীকার করেছেন বিষয়টি। তিনি আরো স্বীকার করেন একটি হিমাগার
থাকলে আর এমন দশা ও হয়না। কৃষকরা অন্তঃত পাইকার সিন্ডিকেটের হাত থেকে
বাঁচে। নিজেরাই যদি কোল্ড ষ্টোরেজ এ রেখে দিয়ে দু-এক মাস পরে বিক্রি করবে
তখন দাম পাবে ন্যূন্যতম ৫ গুন। উপজেলার বড় দারোগাহাট বাজারে গিয়ে মধ্যম
ওয়াহেদপুর এলাকায় কৃষক জাহাঙ্গীর আলম ২৫৫ কেজি টমেটো প্রতি কেজি ৭ টাকা করে
বিক্রি করেছেন বাজারের পাইকারী ক্রেতা অজি উল্লা মিয়ার কাছে। ২ ঘন্টা পরে
পাইকারী ব্যবসায়ীর কাছে টমেটো ক্রয় করতে গেলে ২০ টাকা ধরে সে বিক্রি করছে
বলে জানান। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে আপনি কিছুক্ষণ আগে কৃষকের কাছে ৭ টাকা করে
ক্রয় করেছেন এখন বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ২০ টাকা এ কেমন কথা। উত্তরে সে
বললো বাজারের টোল দিতে হয়, শ্রমিকদের খরচ আছে আরো বিভিন্ন খরচ আছে তাই ২০
টাকা ধরে বিক্রি করছি। এখন তো টমেটো মাত্র ২০ টাকা। আমি ২২০ টাকা পর্যন্ত
টমেটো বিক্রি করেছি। একই এলাকার কৃষক শাহদাত হোসেন বলেন, মাথার ঘাম পায়ে
ফেলে কঠোর পরিশ্রম করে উৎপাদন করি আমরা। অথচ লাভবান হয় মধ্যস্বতভোগীরা।
আমাদের এখানে যদি হিমাগার থাকতো তাহলে যখন দাম বাড়বে তখন বিক্রি করতে
পারতাম। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে টমেটো চাষ করা হলেও বেশি চাষ
করা হয়েছে ওয়াহেদপুর, খৈয়াছড়া, সাহেরখালী, করেরহাট, দুর্গাপুর ইউনিয়নে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, এবার উপজেলার ৪৫ হেক্টর
জমিতে টমেটো উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতি হেক্টরে ১০ টন টমেটো উৎপাদন হয়। আর
এবার উৎপাদন হয়েছে ৪৫০ টন টমেটো। তিনি বলেন আর মাত্র দু এক মাস পরই টমেটোর
দাম হবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এই অঞ্চলে একটি হিমাগার থাকলেই কৃষকরা ও লাভবান
হতো।
পাশাপাশি আমাদের চট্টগ্রামের উৎপাদিত উৎকৃষ্টমানের কৃষি পন্য আমরাই
খেতে পারতাম। উত্তর বঙ্গের অতিমাত্রায় হাইব্রীড সবজির উপর নির্ভর করতে হতো
না আমাদের। জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশ সহ বিভিন্ন উঁচু জমিতে শুস্ক
মৌসুমে ও টমেটো ফলনের জন্য উপযোগী। আর তাই এখানে সারা বছরের জন্য টমেটো
চাষের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে মন্থব্য করেন কয়েকজন সচেতন ভোক্তা সাধারন।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি সৃপারভাইজার নুরুল আলম বলেন, টমেটো, সিম, সীমের বিচি,
ফুলকপি, বাধাকপি সহ মৌসুমী সবজির পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি পন্য সংরক্ষনের
উদ্যোগ এখন কৃষকদের প্রাণের দাবী। বিশেষ করে কিছু সুবিধাবাদি মধ্যস্বত্ব
ভোগিদের হাত থেকে কৃষকদের ন্যায্য মজুরী পাবার জন্য এই অঞ্চলে সরকারি বা
বেসরকারিভাবে একটি হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ যে কোন মূল্যে নেয়া উচিত। তিনি
বলেন, গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর কাছে ও এই
অঞ্চলের কৃষকরা দাবী জানাতে পারে। এতে তিনি এই বিষয়ে অবশ্যই এই বিষয়ে
সহযোগীতার হাত প্রসারিত করবেন। এ ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলার পরিষদের প্যানেল
চেয়ারম্যান-২ ইয়াছমিন শাহিন কাকলী বলেন, এবারের উপজেলা সমন্বয় সভায়
হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি আলোচনা করা হবে। মাননীয় গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী
বিষয়টি অবহিত করবো।

No comments:
Post a Comment