মার্কিন
প্রশাসনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা জানিয়েছে চীন। দুই দেশের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতামূলক
সম্পর্কের বার্তা দেয়া হয়। শুক্রবার জি-২০ভুক্ত দেশগুলোর
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং জি ও
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প শপথ নেয়ার পর এটাই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর
‘এক চীন’ নীতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললে বেইজিং
ক্ষুব্ধ হয়। ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সমর্থনের অর্থ হল তাইওয়ানকে চীনের
অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে স্বীকার করা। তবে গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি
জিনপিংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প আপসমূলক কথাবার্তা বলেন। শুক্রবার
জার্মানির বন শহরে রেক্স টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকের পর ওয়াং জি বলেন,
প্রেসিডেন্ট শি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
তা বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের সম্পর্কে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নয়, বরং
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান সহযোগিতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের আমলে দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্কের ব্যাপক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং উভয়পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও
সহযোগিতা বাড়ানো উচিত।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়,
‘টিলারসনকে ওয়াং বলেন, এ ব্যাপারে ঐকমত্য দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক
ইস্যুগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।’ ওয়াং
বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধি জোরদারের
বিষয়টি নিজেদের কাঁধে নিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বিরোধের চেয়ে অভিন্ন অনেক
স্বার্থ রয়েছে। ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক চাই- মার্কিন অর্থমন্ত্রী
: চীনের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক চায় যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়াংইয়ং ও অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে
টেলিফোনে আলাপকালে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, মুচিন চীনের অর্থমন্ত্রী জিয়াও জে,
অর্থনীতিকবিষয়ক মন্ত্রী লিউ হে ও পিপলস ব্যাংকের গভর্নর ঝৌ জিয়াওচৌহানের
সঙ্গেও টেলিফোনে আলাপ করেন। টেলিফোনে আলাপকালে মুচিন তার আমলে
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ওয়াশিংটন ও
বেইজিংয়ের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন,
গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও
চীনই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। মার্কিন মন্ত্রী বলেন, তিনি
অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে
চীনের সঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

No comments:
Post a Comment