১৯৯০-পরবর্তী
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে যে দুটি নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কিত ও
সমালোচিত এবং এর পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক ছিল না, সে দুটি নির্বাচন হল বিএনপি
ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায়
অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্র্বাচন। প্রথমোক্ত নির্বাচনটি আওয়ামী লীগ
নেতৃত্বাধীন জোটসহ জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বর্জন করে অপরদিকে
শেষোক্ত নির্বাচনটি বিএনপি ও তার জোটভুক্ত দলসহ জামায়াতে ইসলামী বর্জন করে।
প্রথমোক্ত নির্বাচনটি অনুষ্ঠান-পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকে নির্দলীয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে উক্ত
সংসদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অবলুপ্ত ঘোষণা
করলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের
পথ সুগম হয়।
উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান-পূর্ববর্তী দলীয় সরকারের অধীনে গঠিত
নির্বাচন কমিশন বাতিলকরত বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অবসরপ্রাপ্ত
সচিবের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। দশম সংসদ নির্বাচন
অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে নবম সংসদ বহাল থাকাকালীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান বাতিলপূর্বক সংসদ বহাল
থাকাবস্থায় দলীয় সরকারের অধীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান
প্রবর্তন করে। নবম সংসদে বিএনপি প্রধান বিরোধী দল ছিল; কিন্তু দলটি এ
বিধানটি বাতিলের বিরোধিতায় সংসদ বর্জনরত থাকায় একতরফাভাবে এটি বাতিল হয়।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন ও বাতিল উভয়ই একতরফা হলেও
বৈপরিত্য হল প্রথমোক্তটি আওয়ামী লীগ ও জনদাবির মুখে বিএনপি প্রবর্তন করে
এবং শেষোক্তটি বিএনপি ও জনদাবির বিরোধিতায় আওয়ামী লীগ বাতিল করে। দশম সংসদ
নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী জনমানুষের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল নির্বাচনটি ষষ্ঠ
সংসদ নির্বাচনের মতো অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার কারণে উক্ত সংসদ নির্বাচন
অনুষ্ঠান-পরবর্তী বিএনপি যেমন সংসদ বাতিল ঘোষণা করে অংশগ্রহণমূলক
নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল আওয়ামী লীগও অনুরূপ সংসদ বাতিল করে
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের
পূর্বে দলীয় সরকার কর্তৃক যে একাদশ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় এটি জাতির
প্রত্যাশানুযায়ী সুষ্ঠুভাবে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হওয়ায়
ব্যাপক সমালোচিত ও বিতর্কিত ছিল।
এ নির্বাচন কমিশনটি গঠন-পূর্ববর্তী
নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে নির্বাচন
কমিশন গঠন করা হয়েছে, জনমানুষের মধ্যে এরূপ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য
রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে একটি সার্চ কমিটি গঠনপূর্বক কমিশনের প্রতিটি
পদের বিপরীতে দুটি নাম সুপারিশের জন্য বলা হয়। সে নির্বাচন কমিশন গঠনবিষয়ক
সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় এ দেশের সচেতন জনমানুষ সঠিকভাবে অনুধাবন
করতে সক্ষম হয় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের মানসে সার্চ কমিটি গঠন করা হলেও
সংবিধানের বিধান সঠিকভাবে প্রতিপালনপূর্বক প্রধানমন্ত্রীর আকাক্সক্ষার
প্রতিফলনেই নির্বাচন কমিশনটি গঠিত হয়। সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী দশম
সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনও দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত
হবে। আশা করা যায় একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। একাদশ নির্বাচন
কমিশনের মেয়াদ অবসানের কারণে সম্প্রতি যে দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে
এটি গঠন পূর্ববর্তীও আগেকার মতো রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুরূপ একটু বৃহৎ
কলেবরের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশনের
সঙ্গে নিবন্ধিত ৩১টি দলের কাছে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের নিমিত্ত ৫টি করে
নাম সুপারিশের অনুরোধ করলে ২৬টি দল তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৫টি করে নাম
প্রদান করে। এ সার্চ কমিটিকে আগেকার সার্চ কমিটির মতো সরকারের মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগ সাচিবিক সহায়তা প্রদান করে। রাজনৈতিক দলগুলো সার্চ কমিটির সম্মুখে
উপস্থাপনের নিমিত্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে নামের তালিকা
হস্তান্তর-পরবর্তী গণমাধ্যম কর্মীরা কোন্ দল বিশেষত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কী
কী নাম প্রস্তাব করেছে এ বিষয়টি জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,
এটি
রাজনৈতিক দলগুলো প্রদত্ত তার কাছে আমানত এবং তিনি সে আমানতের খেয়ানত করতে
পারেন না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব তালিকা প্রকাশ না করলেও পরবর্তী সময়ে দেখা
যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তালিকার মধ্যে কী কী নাম
অন্তর্ভুক্ত সে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে
আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের মাধ্যমে নামের তালিকা হস্তান্তর-পরবর্তী রাষ্ট্রপতির
কার্যালয় থেকে নিয়োগ কার্য সমাধা করা হলেও নামগুলো প্রকাশ করা হয়নি। সে
রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং
তখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণমাধ্যম কর্র্র্মীদের অবহিত করেন কমিশনে কমিশনার
হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নারী সদস্য সাবেক জেলা জজ কবিতা খানম এবং সাবেক
অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদারকে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তালিকা
থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অপর দুজন কমিশনারকে কোন্
দলের তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া হয় সে বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন করলে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নথি পর্যালোচনা না করে তার পক্ষে তাৎক্ষণিক এটি
বলা সম্ভব নয়। প্রণিধানযোগ্য যে, নিয়োগ পূর্ববর্তী গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও
বিএনপির নামে যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল উক্ত তালিকায় উভয় দল কর্তৃক
সুপারিশকৃত হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্তৃক বিবৃত এ দুজনের নাম
অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
দ্বাদশ নির্বাচন কমিশনের নিয়োগকার্য সমাধা হলেও
অদ্যাবধি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম
বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই কোনো কিছু ব্যক্ত করা হয়নি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম
নুরুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার
শাহাদৎ হোসেনের নাম আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্তর্ভুক্ত তরিকত
ফেডারেশন প্রদত্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশে জনভিত্তি রয়েছে এমন
দুটি দল হল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এছাড়া ৯০-পরবর্তী বিভিন্ন সংসদে জাতীয়
পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলেও জামায়াতে ইসলামীর
জনভিত্তি কতটুকু দলটি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম না হলে তা
নিরূপণ দুরূহ। এ চারটি দলের বাইরে বর্তমানে এ দেশে যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে
সেগুলো বড় দুটি দলের লেজুড়ভিত্তিক দল। এসব কোনো দলের পক্ষে বড় দুটি দলের
বাইরে গিয়ে এককভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে একটি আসনেও বিজয়ের
সম্ভাবনা ক্ষীণ। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে
ইসলামীকে দেখা গেছে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতপূর্বক
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্নের উদয় হয়েছে
জনভিত্তি নেই এমন দলের তালিকা থেকে কী করে কমিশনে নিয়োগে তিনটি নাম ঠাঁই
পেল? গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে
তরিকত ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জনৈক নেতা দাবি করেন আওয়ামী লীগের নির্দেশনায়
তাদের তালিকায় এ তিনজনের নামসহ অপর দুটি নাম স্থান পায়। সার্চ কমিটি তাদের
অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দু’দফায় দেশের বিশিষ্ট ১৬
নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালীন বিশিষ্ট নাগরিকরা নিরপেক্ষ,
সৎ, দক্ষ,
যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের
ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাছাড়া সার্চ কমিটির কাছে এ দেশের উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক রাজনৈতিক দলসহ জনমানুষের প্রত্যাশা ছিল তাদের সুপারিশে দলীয়
সুবিধাভোগী, দলীয় মতাদর্শী, দুর্নীতিগ্রস্ত, অদক্ষ, অযোগ্য ও বিতকির্ত
ব্যক্তিদের যেন স্থান না হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন- দলীয় সুবিধাভোগী অথবা দলীয়
মতাদর্শী কারা? এ বিষয়ে বিজ্ঞজনের সুচিন্তিত অভিমত- সরকারের বিভিন্ন
বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে দলীয় সুবিধাভোগী হিসেবে তারা অভিহিত যাদের
অবসর-পরবর্তী বিশেষ বিবেচনায় সমমর্যাদাসম্পন্ন পদে অথবা কোনো মেয়াদি পদে
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। আর দলীয় মতাদর্শী হল তারা যারা জ্যেষ্ঠ না
হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়। তাছাড়া
দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি সত্ত্বেও যেসব কর্মকর্তা
শুধু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে অবাধে দুর্নীতি করার পরও পদপ্রাপ্তির
ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হয় না এরাও দলীয় মতাদর্শীর
অন্তর্ভুক্ত। আর বিতর্কিত হল তারা যারা সরকারের কর্মে রতথাকাকালীন
প্রকাশ্যে যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করে। সার্চ কমিটির
তালিকায় নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ,
যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে যাদের স্থান
মিলেছে এবং চূড়ান্তভাবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনে যাদের নিয়োগ
লাভ ঘটেছে এদের সঙ্গে পত্রিকায় বিভিন্ন দল কর্তৃক সুপারিশকৃত নাম
পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় সুপারিশে স্থান পাওয়া নামগুলোর চেয়ে তুলনামূলক
বিচারে সার্বিকভাবে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন এমন অনেক নাম ছিল। দ্বাদশ নির্বাচন
কমিশনে অন্তর্ভুক্ত পাঁচজনের মধ্যে একাদশ নির্বাচন কমিশনের মতো তিনজন
প্রশাসন ক্যাডারের। আমাদের দেশে যে চারটি নির্বাচন কমিশন সফল হিসেবে
বিবেচিত সে চারটি নির্বাচন কমিশন হল সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের
বিচারক মো. আবদুর রউফ নেতৃত্বাধীন পঞ্চম নির্বাচন কমিশন, অবসরপ্রাপ্ত সচিব
আবু হেনার নেতৃত্বাধীন সপ্তম নির্বাচন কমিশন, অবসরপ্রাপ্ত সচিব আবু সাঈদের
নেতৃত্বাধীন অষ্টম নির্বাচন কমিশন এবং অবসরপ্রাপ্ত সচিব শামসুল হুদার
নেতৃত্বাধীন দশম নির্বাচন কমিশন। এ চারটি নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পঞ্চম ও
অষ্টম নির্বাচন কমিশন ছিল যথাক্রমে দুই ও চার সদস্যবিশিষ্ট এবং অপর দুটি
ছিল তিন সদস্যবিশিষ্ট। নির্বাচন কমিশন একটি নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজ সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ে
উপজেলা অবধি এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনকালীন
প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন বিভাগের বিপুলসংখ্যক
কর্মকর্তা-কর্মচারী এটিকে সহায়তা প্রদান করে থাকে। এসব কাজ তত্ত্বাবধান ও
নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বোচ্চ তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিশন যথার্থ বিবেচিত হওয়ায়
এর ঊর্ধ্বের সংখ্যক সমন্বয়ে কমিশন গঠন প্রয়োজনাতিরিক্ত। কমিশনে
নিয়োগ-পরবর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের প্রকাশিত
জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা ও
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ‘তোফায়েল ক্যাডার’ খ্যাত ৭৩ ব্যাচের
বিসিএসের (প্রশাসন) সদস্য।
নারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সাবেক জেলা জজ কবিতা
খানম সামরিক আমলে ভাইভা ব্যাচের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। সে সময় সামরিক
ফরমানের মাধ্যমে নিয়োগবিধি শিথিল করে সরকারি কর্ম কমিশনের ১ হাজার ২০০
নম্বর সংবলিত লিখিত ও ২০০ নম্বর সংবলিত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের
পরিবর্তে আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের
ব্যবস্থা করা হয়। তোফায়েল ক্যাডার ও এরশাদীয় ভাইভা ক্যাডারের কর্মকর্তারা
মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগকৃত হওয়ার কারণে এদের উল্লেখযোগ্যের ব্যাপারে
যথাযথ মান নিরূপণ সম্ভব হয়নি। তাছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিষয়ে অভিযোগ
রয়েছে তিনি জনতার মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং অবসর-পরবর্তী সরকারের
দুটি লাভজনক পদে দলীয় সুবিধাভোগী বিবেচনায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন
কমিশনার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নুরুল হুদার বিষয়ে জানা যায় তাকে যুগ্ম সচিব পদ
থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হলে পরবর্তী সময়ে ভূতাপেক্ষভাবে তাকে অতিরিক্ত
সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে এ দুটি পদে তিনি কখনও
অধিষ্ঠিত থাকাকালীন কর্মসম্পাদন করেননি। সে বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনার
হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সচিব রফিকুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত
অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদারকে তার চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন মনে হয়।
ইতোপূর্বেকার প্রতিটি নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রধান নির্বাচন
কমিশনার অপরাপর নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন। এ বিষয়ে
পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত নিয়ম উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্নরা নিন্মতর
যোগ্যতাসম্পন্নদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর ব্যত্যয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান গঠন করা
হলে তা ফলপ্রদ হয় না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনে ঠাঁই পাওয়া ব্যক্তিরা একাদশ
নির্বাচন কমিশনের মতো একইভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটির বিষয়ে জনআশা আগেকার
নির্বাচন কমিশনের মতো পরাহত। এরূপ পরাহত জনআশার নির্বাচন কমিশন অবাধ,
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতটুকু পারঙ্গম তা
ভেবে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com

No comments:
Post a Comment