স্বর্ণ
আমদানিকে উৎসাহিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এজন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) থেকে
অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করে
সংশ্লিষ্ট ১৪টি মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহ
প্রকাশ করেছেন। বাজুসের পক্ষ থেকে বৈধপথে স্বর্ণ আমদানি করতে তিনটি
প্রস্তাব দেয়া হয়। নীতিমালা প্রণয়নসহ ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন ও ন্যূনতম কর
নির্ধারণসাপেক্ষে কমপক্ষে ১০ কেজি স্বর্ণ আমদানি অনুমতির দাবি এর মধ্যে
অন্যতম। যদিও বর্তমানে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ আমদানি করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে
ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) তিন হাজার টাকা এবং ৪ শতাংশ ট্রেড ভ্যাট দিতে হয়।
প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা
স্বর্ণ আমদানি করতে পারেননি। এছাড়া আমদানিতে উচ্চ শুল্কের কারণে বৈধপথে
স্বর্ণ আমদানি নিরুৎসাহিত হচ্ছে। চোরাচালান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে
সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
অন্যদিকে শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
পড়ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এলসির মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি একটি জটিল প্রক্রিয়া।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে এলসির মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি অসম্ভব। কাগজে-কলমে
বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ব্যবসায়ীরা কাঠখড় পুড়িয়েও
তা আমদানি করতে পারছেন না। এ জন্য দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের
সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। বাজুসের প্রস্তাবগুলোকে সময়োপযোগী মনে
করেন অর্থমন্ত্রী। রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘স্বর্ণ বাস্তবে নানাভাবে এ দেশে আসে এবং
ব্যাপকভাবে তা ভারতে পাচার হয়। এ ব্যবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। আমি
ভাবছিলাম, বাস্তবতা স্বীকার করে স্বর্ণ আমদানিকে আইনি স্বীকৃতি দেব।’ এ
বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর
অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত
সচিব, এফবিসিসিআই সভাপতি, বাংলাদেশ ওমেন চেম্বারের সভাপতি, জুয়েলারি সমিতির
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের
চেয়ারম্যান,
শামসুন নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও
রোকেয়া হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা
করার ইচ্ছাপোষণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে, দেশে বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি মানুষ জুয়েলারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত, যা
বিভিন্নভাবে ৫ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে। ভারতে জুয়েলারি শিল্প সরকারের
পৃষ্ঠপোষকতা পেলেও বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত নীতিমালা করা হয়নি, যার কারণে
বিশ্বের ৭৫ ভাগ জুয়েলারি ব্যবসা ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জুয়েলারি ভারতের
রফতানি আয়ের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া,
হংকংসহ বিশ্বের সব দেশে ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য। শিল্পের বিকাশে ভারতে
জুয়েলারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত
বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানিতে সঠিক নীতিমালা নেই, যার কারণে চোরাচালান বাড়ছে।
এতে সরকার শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজুসের
সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হলেও
স্বর্ণ আমদানিতে কোনো নীতিমালা করা হয়নি। বিসিটিতে অন্যান্য পণ্যের মতো
স্বর্ণ আমদানির এইচএস কোড রয়েছে।
সে কোড দিয়ে ব্যাংকে এলসি করতে গেলে
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি
চাইতে গেলে নানা ধরনের হয়রানি হতে হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্য
দেশে সরকার অথবা তার মনোনীত কোনো সংস্থা স্বর্ণ আমদানি করে ব্যবসায়ীদের
সরবরাহ করে থাকে। অথচ বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই, যার কারণে
চোরাচালান বাড়ছে। তিনি বলেন, শুল্ক গোয়েন্দাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সময়ে
সময়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণ আটক করে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত
রাখছে। এসব স্বর্ণ ব্যাংকের ভল্টেই পড়ে থাকছে বছরের পর বছর। গত ৫ বছরে
স্বর্ণের নিলাম হচ্ছে না। ফলে স্বর্ণগুলো উপযোগিতা হারাচ্ছে। অবিলম্বে
নিলামের মাধ্যমে এগুলো স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দিয়ে দেয়া উচিত। স্বর্ণ
ব্যবসায়ীদের ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ইকোনমিক জোনে স্থান বরাদ্দ দেয়ার দাবি
জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গার্মেন্টস, চামড়া ও
পাটের পরেই জুয়েলারি শিল্প রফতানিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।

No comments:
Post a Comment