সিলেট
নগরীর উপশহর এলাকায় শুক্রবার রাতে পুলিশ ও ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের
ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০
পরিবহন শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। তবে আহত ও আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।
সংঘর্ষের পর রাত ৯টার দিকে শাহজালাল ব্রিজ থেকে নগরীর একাংশের সড়ক অবরোধ
করে রাখে পরিবহন শ্রমিকরা। সংঘর্ষের ব্যাপারে ডিবি পুলিশ ও পরিবহন
শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের
কয়েক শ্রমিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের মারধর ও গাড়ি
ভাংচুর করা হয়। আর ডিবি পুলিশের দাবি, শ্রমিকরা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে হামলা
চালিয়েছে। খবর পেয়ে সাবেক সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও মহানগর
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকনউদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। জসিম উদ্দিন নামে এক ট্রাক শ্রমিক জানান,
সন্ধ্যায় নগরীর মহাজনপট্টি থেকে পাঁচজন শ্রমিককে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।
খবর পেয়ে ৮/১০ জন শ্রমিক উপশহরে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে আটককৃতদের
মুক্তি দাবি করলে তাদের মারধোর করা হয়। পরে উপশহরে রেজভিউ হোটেলের সামনে
এসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে তাদেরকে মারধোর এবং কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে
পুলিশ। আক্তার হোসেন নামে এক পিকআপ চালক বলেন, আমরা ডিবি অফিসে গিয়ে
অন্যদের আটকের কারণ জানতে চাইলে- পুলিশ বলে, তাদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে।
তাদের ছেড়ে দেয়ার জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি
জানিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশ মারধর করে। পরে উপশহরে শাহজালাল সেতুর পাশে এসে
ডিবি পুলিশ শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাংচুর করে। এতে কয়েকজন আহত হন। মহানগর
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকনউদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ৪ লিটার মদসহ দুইজন
শ্রমিককে গ্রেফতারের পর ডিবি অফিসে হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় আরো
পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে আবার তারা রাস্তায় গাড়ি আটকে ভাংচুর করতে থাকলে
আরো তিনজন পরিবহন শ্রমিককে আটক করা হয়। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় পুলিশ-শ্রমিক
উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

No comments:
Post a Comment