আশির
দশকের বাংলা চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র কথা মনে আছে? ঈদের ১১ দিনের ছুটি
হলে সবার অজান্তে স্কুলের বাথরুমে আটকা পড়ে ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র ১২
বছরের খোকন। পানি, বই-খাতা, কাগজ ও টাকা খেয়ে প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ
চেষ্টা করে সে। দশম দিনে শেষ হয়ে যায় পানিও। ১২তম দিনে স্কুল খুললে বাথরুম
পরিষ্কার করতে গিয়ে ঝাড়ুদার আঙ্গুরী দেখতে পান খোকনের নিথর দেহ। মৃত্যুর
দায় কাঁধে নিয়ে স্বেচ্ছায় জেলে যান স্কুলে তার অতিপ্রিয় ‘দফতরি চাচা’
আব্বাস। বৃহস্পতিবার যেন তেমনটিই ঘটতে যাচ্ছিল সাতক্ষীরায়। কালীগঞ্জ
উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাথরুমে
আটকা পড়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র লিয়ন দাস। শুক্রবার ছিল ছুটি। তবে তার
সৌভাগ্য, খোকনের মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়নি তাকে। সাড়ে সাত ঘণ্টা পর
গ্রামবাসী প্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন লিয়নকে। লিয়ন দাস বলে, ‘কাল ছিল
বৃহস্পতিবার। স্কুল ছুটির ঘণ্টা পড়ে দুপুর আড়াইটায়। ক্লাসের সব ছেলেমেয়ে
বাড়ির দিকে রওনা হলেও আমি বই নিয়ে বাথরুমে ঢুকেছিলাম। সেখানে সময়ও লেগেছে
খানিকটা। এর মধ্যে কখন যে স্যাররা বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন তা বুঝতে
পারিনি।এরপর চেষ্টা করেও বের হতে পারিনি। ডাকাডাকি করেছি, কারও কোনো জবাবও
পাইনি।’
ছেলে বাড়ি না ফিরলে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবার। লিয়নের বাবা অরবিন্দ
দাস জানান, ছেলের খোঁজে প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানিসহ অন্যান্য শিক্ষক,
স্কুলের দফতরি আবদুল হাই ও তার সহপাঠীদের কাছে খোঁজ নেন। কিন্তু কেউ তার
সন্ধান দিতে পারেনি। খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন গ্রামের বিভিন্ন স্থানেও।
আস্তে আস্তে সময় বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে টেনশনও। অবশেষে রাত ১০টায়
গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্কুলের চাবি নিয়ে আসেন। বিভিন্ন কক্ষ
খুলে দেখেন। সবশেষে বাথরুম খুলে দেখা যায় খানিকটা চেতনাহীনভাবে পড়ে রয়েছে
লিয়ন। দ্রুত তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময় পর সে স্বাভাবিক
অবস্থায় ফেরে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানি দুঃখ
প্রকাশ করে বলেন, ‘এমনটি ঘটবে বুঝতেই পারিনি। পিয়ন বাথরুমের দরজা লাগানোর
সময় নিশ্চয় সতর্ক ছিল না। তবু এ ব্যাপারে শনিবার (আজ) স্কুল খুললে
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ঘটনা জানাজানি হলে
শুক্রবার স্কুলে আসেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, এটি
একটি দুর্ঘটনা। তবে এর জন্য প্রধান শিক্ষক ও দফতরির দায়িত্বে অবহেলার দায়
রয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে
কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment