পলাতক
থেকে পত্রিকা সম্পাদনা করে প্রতারণার অভিযোগে সিলেটের কথিত দানবীর, 'দৈনিক
সিলেটের ডাক'র প্রকাশক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি রাগীব আলী এবং তার ছেলে
পত্রিকাটির সাবেক সম্পাদক আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত।
বুধবার সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো
শুনানি শেষে এই মামলায় চার্জ গঠনের আদেশ দেন। মামলায় বাদী পক্ষের শুনানিতে
অংশ নেন অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান,
অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ
মুজিবুল হক ও অ্যাডভোকেট শহীদুল হক শাহীন। রাগীব আলী ও তার পুত্রের
বিরুদ্ধে মামলাটি করেন নগরীর উপশহরের বাসিন্দা ও ছাতক প্রেসক্লাবের অন্যতম
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি
মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বাদী তার আরজিতে উল্লেখ করেন,
কোনো পলাতক আসামি
আইনের সুবিধাভোগী হতে পারে না। সংবাদপত্র একটি আইনি প্রকাশনা। সিলেটের
ডাক-এর সম্পাদক প্রকাশক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে স্বীয় নাম ব্যবহার করে
পত্রিকা প্রকাশ করতে পারেন না। আইন লঙ্ঘন করে নাম ব্যবহার করে পাঠকদের
সঙ্গে ফাঁকিবাজি প্রতারণা করা হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই তাদের নাম যুক্ত করে দৈনিক সিলেটের
ডাক প্রকাশক্রমে প্রতারণার অপরাধ করে চলেছেন। পলাতক অবস্থায় সম্পাদনাজনিত
প্রতারণার জন্য আবদুল হাই ২৯টি সংখ্যা প্রকাশ করে ২৯টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ
করেছেন। অন্যদিকে রাগীব আলী প্রকাশক ও মুদ্রক হিসেবে দ্বৈত সত্ত্বায়
প্রতিদিন দুটি করে অপরাধের দায় বহন করায় অপরাধের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৮টি।
মামলায় বাদি পলাতক থেকে সম্পাদনাজনিত প্রতারণার জন্য রাগীব আলীর ৫৮ বছর ও
তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ২৯ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন। আদালত মামলাটি আমলে
নিয়ে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। সমন পাওয়ার
পর জবাব না দেয়ার পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

No comments:
Post a Comment