Thursday, February 9, 2017

গুলশানে বাড়ির দেড় ফুট ভেতরে ফুটপাত নির্মাণ

রাজধানীর গুলশানে একটি বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে প্রায় দেড় ফুট ভেতরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক ফুটপাত নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে গুলশান-২ এর ৪৫ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বিপরীত পাশের একটি বেসরকারি হোটেলের কিছু অংশ রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে তৈরি করা হয়েছে। পাশেই তাদের পার্কিং ভবনও তৈরি হচ্ছে রাস্তার কিছু অংশে।
ডিএনসিসির সার্ভেয়াররা প্রায় ৫ মাস আগে মাপজোখ করে লালকালির দাগ দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাতের সীমানা চিহ্নিত করে। সম্প্রতি লালকালির স্থলে হলুদ কালির দাগ দেয়া হয়। ওই হোটেলের অংশে ফুটপাত দখলমুক্ত না করে বিপরীত পাশে (উত্তর পাশে) ৩৩ নম্বর বাড়িতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডসহ কিছু অংশ ভেঙে দেয়া হয়। সামনের দেয়ালের কিছু অংশও ভেঙে ফেলা হয়। কয়েক দিন আগে সেখানে ড্রেন ও ফুটপাত তৈরির কাজ শুরু হয়। এ সময় প্রায় দেড় ফুট ভেতরের দিকে ফুটপাত তৈরির চেষ্টা করছে সিটি কর্পোরেশন। এতে বেশ কিছু জমি তাদের হাতছাড়া হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ৩৩ নম্বর বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের দাবি তাদের বাড়িটি রাজউকের লে-আউট ও নকশা মেনে ১৯৮৫ সালে তৈরি করা। রাস্তার ওপর তাদের কোনো স্থাপনা নেই। আশপাশের বাড়িগুলোর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় ডিএনসিসি তাদের ক্ষেত্রে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছে। এ সময় তারা কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধা নেয়ারও অভিযোগ করেন। তারা বলেন, রহস্যজনকভাবে হোটেল বা অন্যবাড়ির মধ্যে থাকা রাস্তার জমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে না। অথচ ৩৩ নম্বর বাড়ির দিকে রাস্তা ও ফুটপাত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, কোনো বাড়ির জমি সিটি কর্পোরেশন নেয়নি। বরং রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) প্ল্যান ও নকশা অনুযায়ী যেভাবে আছে সেভাবেই ফুটপাত ও ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। গুলশান-২ এর ৪৫ নম্বর সড়কসহ গুলশান এভিনিউ এলাকার নকশা ও প্ল্যান তৈরি করে রাজউক। এ এলাকায় রাজউকের লে-আউট নকশা রয়েছে। ওই সড়কে প্রথমে ডিএনসিসির সার্ভেয়াররা মাপজোখ করেছিল। ওই সময় প্রাথমিকভাবে লালকালির দাগ দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। পরববর্তীতে রাজউককে সঙ্গে নিয়ে সড়কের প্রশস্ততা নিশ্চিত করা হয়। ডিএনসিসি পুনরায় রাজউক কর্মকর্তাদের উপস্থিতে মাপজোখ করে সম্প্রতি হলুদকালির দাগ দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করেছে। হলুদকালি দিয়ে চিহ্নিত সীমানা চিহ্নই চূড়ান্ত সীমানা চিহ্ন বলে জানান তিনি। রাস্তার ওপর বা ফুটপাতে থাকা যে কোনো স্থাপনা ভেঙে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা জানান, রাজউকের কাছে গুলশান এলাকার প্রতিটি সড়ক, প্লট ও উন্মুক্ত জায়গা লে-আউট নকশা আছে। কোনো সড়ক বা প্লটের জায়গা নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

No comments:

Post a Comment