Thursday, February 9, 2017

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবার সহযোগিতা চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সশস্ত্র বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সরকার চায় না, দেশে এমন কিছু ঘটুক যাতে চলমান উন্নয়নে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধিশালী, শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
কাজেই আমরা চাই না, এমন কিছু ঘটুক যাতে আমাদের চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ২০১৬-২০১৭ কোর্সের গ্র্যাজুয়েশন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। সকালে মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসির শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয়, এখন বিশ্বব্যাপীই একটি উদ্বেগজনক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে তার সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে সরকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এই গণসচেতনতা সৃষ্টির কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীরও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সমাজের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহবান জানান, তারা যেন নিজ নিজ সন্তান-সন্ততির দিকে ঠিকমতো খেয়াল রাখেন, যাতে করে কেউ আর এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তির পথে পা বাড়াতে না পারে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিএসসি’র কমানডেন্ট মেজর জেনারেল মো. শফিউল আবেদীন স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। দেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাইকে এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, দেশের ভৌগোলিক অবস্থানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদেরই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে।
সবাইকে এ প্রসঙ্গে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ায় ব্রতী হওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেন মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের আত্মা শান্তি পায়। এ সময় আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আর কেউ যেন কখনও অবহেলা করতে না পারে। ‘যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে তাকে অব্যাহত রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যাতে বিশ্বসভায় আমরা মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারি’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেই বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা সব সময় মাথা উঁচু করে চলব, মাথা নিচু করে নয়। কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে নবীন অফিসারদের। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৬৬ সালেই তার ঐতিহাসিক ‘৬ দফায়’ পূর্ববাংলায় নৌবাহিনীর সদও দফতর স্থাপনের দাবি উত্থাপন করেন। আমাদের জলসীমায় ‘ব্ল– ইকোনমি’র সম্ভাবনা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় জয়লাভ করে বিশাল সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উন্মোচিত হয়েছে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাময় দুয়ার।’ ‘আমরা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছি’, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও আমাদের নৌবাহিনীর সাবমেরিন ছিল না। সাম্প্রতিক অত্যাধুনিক সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়ে আমাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। আন্তরিকভাবেই বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় আমরা একইভাবে সেনা ও বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ এবং চৌকস ও পেশাদারভাবে গড়ে তুলছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ডিএনসিএসসি’র ২০১৬-১৭ কোর্সের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। এ বছর ২৮০ জন কর্মকর্তা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। যার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫৮ জন, নৌবাহিনীর ২৭ জন, বিমান বাহিনীর ২৪ জন এবং ৭১ জন বিদেশ থেকে আগত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

No comments:

Post a Comment