Sunday, February 12, 2017

বালিয়াকান্দিতে ব্রীজের মাঝে বড় গর্ত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামে একটি ব্রীজের মাঝে বড় গর্ত ও এক পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল নিয়ে ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীন। জানাগেছে, বালিয়াকান্দি মধুখালী সড়কের যদুপুর মোড় থেকে বালিয়াকান্দি সড়কের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এ সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার।
এ সড়কের যদুপুর খালের উপর ১৯৭০ সালে ব্রীজটি নির্মান করা হয়। ব্রীজের এক পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। মাঝে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় ব্রীজটি দিয়ে পায়ে হেটে বা বাইসাইকেল ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিনই ওই এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সড়কটি দিয়ে ব্রীজের একপাশে আড়কান্দি, বাজার বেতেঙ্গা, মাতলাখালী, চরগুয়াদাহ, পাটুরিয়া, বারুগ্রাম, স্বর্পবেতেঙ্গা এবং অপর পাশে তেঁতুলিয়া, ভররামদিয়া, খোর্দ্দরামদিয়া, কুবদী ও পারকুল গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। তাছাড়া বহরপুর ইউনিয়নসহ জেলা শহরে যাওয়ার জন্য এ এলাকার মানুষ সংযোগ সড়ক হিসাবে ব্যবহার করে। এতে করে দুরত্ব কম হওয়ায় যাতায়াতের সময় ও টাকা সাশ্রয় হয়। কিন্তু ব্রীজটির মাঝখানে বড় গর্ত ও পাশের রেলিং ভেঙ্গে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কয়েকদিন পরপর রাতে সেতুতে দুঘর্টনা ঘটে। বেশি দুঘর্টনায় পড়েন মোটর সাইকেল চালকরা। ব্রীজটি দিয়ে ভ্যান, ইজিবাইক চলাচলের জন্য বাড়ী থেকে তক্তা এনে পেতে পাড় হতে হয়। তবে দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় গর্তটি বড় হতে থাকে। এখন ওই ব্রীজটি দিয়ে সম্পুর্ন রুপে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত মেরামতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে, ব্রীজটির মাঝখানে বড় একটি গর্ত।
এখন একপাশ দিয়ে পায়ে হেটে ছাড়া চলাচল করা দুষ্কর। ব্রীজটির পাশের রেলিংও ভাঙ্গা। ঝুকিপুর্ণ ব্রীজটি এখন ১২টি গ্রামের মানুষের গলার কাটায় পরিনত হয়েছে। বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু অনেকদিন ধরে ব্রীজটির মাঝখানে গর্ত হয়ে রয়েছে। উপজেলা এলজিইডি থেকে ব্রীজটির সংস্কার করার কথা থাকলেও কাজ শুরু হচ্ছে না। চলাচল নির্বিঘœ করতে দ্রুত কাজ করা প্রয়োজন। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, ব্রীজটির বেহাল অবস্থার কথা শুনেছি। তবে সংস্কারের বিষয়ে অফিসের পদক্ষেপের কথা জানি না। খোঁজখবর নিয়ে বলতে পারবো। এলজিইডি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণে এলাকার সাধারন মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুত এ ব্রীজটি সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment