Thursday, February 16, 2017

পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার জন্মবার্ষিকী আজ

দেশবরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে পীরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগ, মহাজোটের শরিকসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তার কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, স্মৃতিচারণ, ফাতেহা পাঠ ও মিলাদ মাহফিল। প্রয়াত বিজ্ঞানীর বাসভবন লালদীঘির ফতেহপুর মিয়াবাড়িতে কোরআনখানিসহ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ওই বিজ্ঞানী ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লালদীঘির ফতেহপুরে আবদুল কাদের মিয়া ও ময়জান্নেছার ঘরে জন্ম নেন। তিনি চার ছেলে ও তিন কন্যার মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। ২০০৯ সালের ৯ মে তিনি ইন্তেকাল করেন। বঙ্গবন্ধুর জামাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ১৯৫২ সালে রংপুর শহরের সরকারি জিলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ১৯৬১-৬২ শিক্ষা বছরের জন্য হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করেন। ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনের চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সাত বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

No comments:

Post a Comment