বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রবেশ করা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীদের মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পার্কের ইজারাদার এবং শ্রীপুর
থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও থানা কৃষকলীগের সভাপতিসহ কয়েকজনের
বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শ্রীপুর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, শনিবার
রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড.
সৈয়দ আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শ্রীপুর থানার
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সফিকুর রহমান ও শ্রীপুর থানা কৃষকলীগের
সভাপতি মো. কবির হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরো ৮-১০ জনকে আসামি করা
হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আব্দুল লতিফ (৩৫), খবির হোসেন (৩৬),
মোস্তফা (৩২),
সাইফুল (৩৮) ও হেলেনা (৪৮)। মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য
অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ জানান, বন অধিদফতর
থেকে ১৮৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ছাড় প্যাকেজ নিয়ে শনিবার দুপুরে
শিক্ষার্থীরা পার্কে ঢুকছিল। এসময় শিক্ষার্থীদের কাছে পার্কের গেটের
ইজারাদাররা আইডিকার্ড দেখতে চায়। প্রথম বর্ষবাদে অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা
আইডি কার্ড দেখালে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম
বর্ষের শিক্ষার্থীদের এখনও কোনো আইডিকার্ড ইস্যু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা
তাদের ভর্তির রশিদ ও লাইব্রেরি কার্ড দেখালেও তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়া
হয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। এ নিয়ে ইজারাদারের লোকজন ও শিক্ষার্থীদের
মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শ্রীপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি
ও গেইটের ইজারাদার সফিকুর রহমান এবং শ্রীপুর থানা কৃষকলীগের সভাপতি মো.
কবির হোসেন নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কমপক্ষে
২০জনের শিক্ষার্থী কম-বেশি আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের কাছ
থেকে ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মাস্টার্স ২য় সেমিস্টারের ছাত্র মো. আনিসুর রহমান
জানান, বন বিভাগের অনুমতি ও পরিচয়ের বৈধ কাগজ-পত্র থাকার পরও সফিক ও কবির
তাদের লোকজন নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের ইনস্টিটিউটের দুই
ছাত্রীসহ ২০জনকে লাঠিপেটা করে।

No comments:
Post a Comment