দিন
১৫ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই
পূর্বসুরিদের টপকে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ক’দিনে তিনি আহামরি কিছু করে
ফেলেছেন এমন ভাবার কারণ নেই। বরং শপথগ্রহণের পর মাত্র ১২ দিনে তার
বিরুদ্ধে ৫২টি মামলা দায়ের হয়েছে। মার্কিন ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কোনো
প্রেসিডেন্টের নেই। সেখানকার প্রশাসনিক দপ্তর সূত্রে খবর, ২০ জানুয়ারি
শপথগ্রহণের পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি
প্রদেশে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৫২টি মামলা দায়ের হয়েছে। যা তার পূর্বসুরিদের
চেয়ে ঢের বেশি। ক্ষমতায় আসার ১২ দিনের মধ্যে ৩টি মামলায় বারাক ওবামার নাম
উল্লেখ ছিল। জর্জ বুশ এবং বিল ক্লিন্টনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ছিল ৪। সেই
নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত ট্রাম্প। তবে
ক্ষমতায় আসার পরও এতটুকু বদলাননি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার
সাত দিন পরই সাতটি মুসলিম দেশ থেকে আসা মানুষের আমেরিকায় প্রবেশ সাময়িক
বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। সিরিয়ার শরণার্থী প্রবেশও আগামী ১২০ দিনের জন্য
বন্ধ রাখা হয়েছে।
যার জেরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন দেশের
সাধারণ মানুষ। মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
মামলা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের অধিকার সংক্রান্ত আইনি
‘কেয়ার।’ ভিসা নিয়ে ঝামেলার জেরে দেশের ওয়াশিংটনের ডলাস বিমানবন্দরে আটকে
পড়েছেন বহু মানুষ। তাদের তরফেও মামলা দায়ের হয়েছে। ওয়াশিংটনের
দায়িত্বশীলতা এবং মূল্যবোধ-সংক্রান্ত নাগরিক সংস্থা ‘দ্য সিটিজেন্স ফর
রেসপনসিবিলিটিস অ্যান্ড এথিক্স ইন ওয়াশিংটন’–ও নয়া প্রেসিডেন্টের
বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্টে পদে বসার পর বিদেশি
রাষ্ট্রনেতাদের থেকে মূল্যবান উপহার নেয়া যাবে না বলে মার্কিন সংবিধানে সাফ
লেখে রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প সেই নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। পারিবারিক ব্যবসার
খাতিরে প্রভাব–প্রতিপত্তি খাটিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে ইতিমধ্যেই বেশ
কিছু চুক্তি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ব্যবসায়ী ভাবমূর্তি মার্কিন
ভাবমূর্তিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে, আরো একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

No comments:
Post a Comment