আজ
৬৬তম শহীদ দিবস। ১৯৫২-এর এই দিনে মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম
রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন সালাম, বরকত,
রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। শুরুর দিকে ভাষা আন্দোলন ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গে
বাংলা ভাষাকে যুক্ত করার আন্দোলন। প্রায় দুই দশক সময়ের মধ্যে এই আন্দোলন
পরিণত হল ভাষার সঙ্গে রাষ্ট্রকে যুক্ত করার আন্দোলন। কী করে মাত্র বিশ
বছরের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের আন্দোলন পরিণত হল রাষ্ট্রীয়
আত্মনিয়ন্ত্রণের যুদ্ধে, সেটি এক পরম বিস্ময়। যদি একটি রাষ্ট্রে বিভিন্ন
নৃ-গোষ্ঠী, জাতিগোষ্ঠী অথবা ধর্মীয় গোষ্ঠী থাকে এবং তারা যদি সংখ্যালঘিষ্ঠ
হয়; আবার আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে দৃঢ়চিত্ত হয় তাহলে তাদের প্রচেষ্টা থাকে
রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পরিচয়টি যোগ করতে। রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রবলগোষ্ঠী
যখন এই অধিকারের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, তখন সংঘাত ও হানাহানি অনিবার্য হয়ে
ওঠে। এমনকি এই সংঘাত পরিণত হতে পারে গৃহযুদ্ধে। ফিলিপাইনের মিন্দনাও
প্রদেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু সমগ্র ফিলিপাইনে তারা একটি
সংখ্যালঘিষ্ঠ গোষ্ঠী। দীর্ঘদিন ধরে তারা ফিলিপাইনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর
মধ্যে তাদের অবস্থানের স্বীকৃতির জন্য লড়াই করছে এবং সে লড়াই সশস্ত্র
যুদ্ধেও পরিণত হয়েছে। এরা ‘মারো’ বিদ্রোহী নামে পরিচিত। আফ্রিকার কোনো কোনো
দেশে একই ধরনের সংঘাত গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয়
কাঠামোতে বাঙালিরা সংখ্যালঘিষ্ঠ ছিল না। সমগ্র পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬
শতাংশ পূর্ববাংলায় বাস করত এবং তাদের মাতৃভাষা বাংলা।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা
সত্ত্বেও বাংলা ভাষাভাষীদের তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিতে
সংগ্রাম শুরু করতে হয়েছে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা
হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবিতে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলা ভাষাকে যুক্ত
করাই ছিল ভাষা আন্দোলনের মূল দাবি। যারা ভাষা আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন,
তারা চেয়েছিলেন উর্দুর পাশাপাশি পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা।
এ থেকেই বোঝা যায় ভাষা আন্দোলন নিঃসন্দেহে উগ্র জাত্যাভিমানের আন্দোলন ছিল
না। ভাষার প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানের বাস্তবতা ছিল একেবারেই আলাদা।
সাধারণ পশ্চিম পাকিস্তানিদের কারোরই মাতৃভাষা উর্দু ছিল না। সিন্ধু,
পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (বর্তমানের
খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশ) মূল বাসিন্দারা কেউই উর্দুভাষী নয়। কেবল ভারত
থেকে আসা মহাজেররা উর্দুতে কথা বলত। এ বাস্তবতার নিরিখে পশ্চিম পাকিস্তানের
বিপুল জনগোষ্ঠীর ভাষা নয় এমন একটি ভাষাকে তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল।
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকরা ভেবেছিল, পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে
হলে একটি লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কার প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ এমন একটি ভাষা, যেটি চালু
হলে পাকিস্তানের সব জনগোষ্ঠী একে অপরের কথা বুঝতে পারবে। ভাষা হিসেবে
উর্দুর জন্ম হয়েছিল মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে। এই ভাষাকে তাঁবুর ভাষা বলা
হতো। মোগল সম্রাটদের সৈনিকরা হিন্দুস্তানের বিভিন্ন জনপদের মানুষ ছিল।
তাদের ভাষাও ছিল ভিন্ন। তারা যাতে একে অপরের কথা বুঝতে পারে তার জন্য
খিচুড়ির মতো হিন্দুস্তানের বিভিন্ন ভাষার মিশ্রণ ঘটিয়ে উর্দুর জন্ম দেয়া
হয়েছিল। সেখান থেকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ধারণা করেছিল উর্দুকে সবার
‘বোধগম্য’ ভাষা হিসেবে চালিয়ে দেয়া যাবে। এই ভাবনা ছিল অবাস্তব। কারণ বাংলা
ভাষা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আপন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একটি সমৃদ্ধ ভাষায়
পরিণত হয়েছিল। সন্দেহ নেই, এই ভাষা অত্যন্ত সার্থকভাবে অন্য ভাষা থেকে
শব্দসমষ্টি তার নিজের মধ্যে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধারণ করতে পেরেছিল। অন্য
যেসব ভাষা থেকে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে
আরবি, ফার্সি,
ইংরেজি, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষা।
বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে বাঙালিদের ভাবের আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে
ওদের ভাষারও কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় এমন করে স্থান করে নিয়েছে যে, এগুলোকে
আর বাংলা থেকে আলাদা করা যায় না। কিন্তু যখনই জবরদস্তি করে রাজনৈতিক
উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য বাংলা ভাষায় উর্দু কিংবা আরবি শব্দের
অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তখন একদিকে যেমন জনগণ একে প্রতিহত
করেছে, অন্যদিকে অগ্রহণযোগ্য শব্দ হিসেবে বাংলা ভাষাও এগুলোকে অপরিচিত অঙ্গ
হিসেবে পরিত্যাগ করেছে। এভাবেই বাংলা ভাষা একদিকে যেমন তার স্বকীয়তা রক্ষা
করেছে, অন্যদিকে তেমনি হয়েছে পরিপুষ্ট ও সমৃদ্ধ। রাষ্ট্র হিসেবে
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর আমাদের সবার অলক্ষ্যে বাংলাদেশের বাংলা ভাষা
অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে। বহু দাফতরিক পরিভাষার উদ্ভব হয়েছে,
বিজ্ঞানের নানা শাখায় অনেক পরিভাষা সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি
স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও অনেক শ্রুতিমধুর প্রতিশব্দের উদ্ভব ঘটেছে।
এসব পরিভাষা ও প্রতিশব্দ সৃষ্টিতে বিশেষজ্ঞ মহলের অবদান অনস্বীকার্য। তবুও
অনেকে মনে করেন, কিছু কিছু ইংরেজি পরিভাষা বজায় রাখলে বাংলা ভাষার সৌন্দর্য
বিনষ্ট হতো না বরং ভাষাটি এই ক্ষেত্রে সহজবোধ্য থাকত। যেমন অক্সিজেনের
বাংলা করা হয়েছে অম্লজান। এটি একটি খাঁটি বাংলা প্রতিশব্দ হলেও বাংলা ভাষা
যেন এটিকে মেনে নিতে চায়নি। হাসপাতালে রোগীর যখন অক্সিজেন প্রয়োজন, তখন
ডাক্তার, নার্স কিংবা রোগীর আত্মীয়স্বজন কেউই বলেন না রোগীকে অম্লজান দিতে
হবে। বরং অক্সিজেন শব্দটিই সর্বজনগ্রাহ্যতা পেয়েছে। এরকমভাবে সব ধরনের
শব্দকে বাংলায় রূপান্তরিত করতে চাওয়া বাংলা ভাষার প্রতি কতটা সুবিচার হবে
সেটা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। ইদানীংকালে বাংলা ভাষার জন্য নতুন ধরনের আপদ
সৃষ্টি হয়েছে।
এফএম রেডিওর এবং বেশকিছু প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যবহৃত
উপস্থাপনার ভাষা, এমনকি আলোচনার ভাষা নিয়েও প্রচুর আপত্তি আছে। একটি পুরো
বাক্যের মধ্যে যদি ৫০ শতাংশ বাংলার সঙ্গে ৫০ শতাংশ ইংরেজি মিশিয়ে ফেলা হয়,
তাহলে তাকে আমরা কোন্ ভাষা বলব? এমনকি বাংলা শব্দগুলোর উচ্চারণ এতই
বিকৃতভাবে করা হয় যে এগুলো বাংলা শব্দ রূপে চেনা দুষ্কর হয়ে ওঠে। তাই
বাংলায় কথা বলার জন্য, বিশেষ করে আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা
উচ্চারণের দাবি উঠেছে। বাংলা ভাষাকে যতটা প্রমিত রূপ দেয়া যায়, আমাদের
জাতীয় সংহতির জন্য ততোটাই মূল্যবান। কিন্তু এক্ষেত্রেও জবরদস্তি কিংবা
বাড়াবাড়ির অবকাশ নেই। ইংরেজি ভাষা বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বিশাল আন্তর্জাতিক
ভাষার রূপ নিয়েছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ইংরেজি বেশিরভাগ
জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও এই তিন দেশে ইংরেজির বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ
এক রকম নয়। ভাষাবিদরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, প্রতি ১৩ মাইলে উচ্চারণ বদলে
যায়। এর বড় প্রমাণ তো আমরা আমাদের বাংলাদেশেই দেখি। সিলেট, নোয়াখালী ও
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কথ্য ভাষার মধ্যে প্রচুর ব্যবধান রয়েছে। শুধু এই তিনটি
সাবেক বৃহত্তর জেলা নয়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য সাবেক জেলার
বাংলা বলাতেও পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য প্রকৃতিজাত। তবে শিক্ষার বিস্তার
এবং রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা ও সঙ্গীতে অর্থাৎ অডিও-ভিডিও প্রচার মাধ্যমে
যদি প্রমিত বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়,
তাহলে উচ্চারণগত পার্থক্য
অনেকটাই কমে আসবে। এই পার্থক্য কমানোর উদ্দেশ্য কেবল ভাষার শৌকর্যবৃদ্ধি
নয়, এর উদ্দেশ্য প্রধানত নিহিত আছে রাষ্ট্রীয় সংহতির শক্তিকে আরও বৃদ্ধি
করার মধ্যে। চীনের এক সময়কার প্রধানমন্ত্রী জৌয়েন লাই বিশ্ব কূটনীতির মঞ্চে
শ্রেষ্ঠ আসন দখল করেছিলেন। তার মাতৃভাষা ছিল মেন্দারিন চাইনিজ। চীনা ভাষার
মধ্যে এই ডায়লেক্টটি আভিজাত্য অর্জন করেছে। তিনি চমৎকার ফরাসি ভাষাও
জানতেন। ইংরেজিও বুঝতেন; কিন্তু কখনও কূটনৈতিক সংলাপে মাতৃভাষা ছাড়া অন্য
কোনো ভাষা ব্যবহার করতেন না। অধিকাংশ চীনা নেতারা এই অভ্যাসেই অভ্যস্ত।
অন্য বিদেশীদের তাদের কথা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য অনুবাদক ব্যবহার করা হয়। চীনা
ঐতিহ্য ও ভাষার প্রতি দায়বদ্ধ চীনা নেতারা এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের
বিচরণ অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়া সত্ত্বেও এখনও তারা গর্বভরে চীনা ভাষাই ব্যবহার
করেন। তবে জৌয়েন লাই সাংবাদিক ফিলিক্স গ্রিনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,
এমন একদিন আসবে যখন পৃথিবীর সব মানুষ এক ভাষায় কথা বলবে। বিশ্বায়নের একটি
অমোঘ পরিণতি হয়তো তাই। তাহলে কি পৃথিবীর অনেক সমৃদ্ধ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে
যাবে? এই ভাষাগুলো কি কেবল মিউজিয়াম ও গ্রন্থাগারে ঠাঁই পাবে? আমরা এখন
দুঃখ করি, পৃথিবী থেকে ছয়শ’রও অধিক ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ফলে অনেক নৃ-গোষ্ঠীর
ভাষা এখন বিলুপ্তির পথে। অনেক ভাষা আছে যেগুলোর নিজস্ব কোনো হরফ বা অক্ষর
নেই। এসব বিলুপ্তপ্রায় ভাষাকে টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা চলছে, কথা
হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কতদূর কী হবে বলা যায় না। ভাষার বিলুপ্তি মানবজাতির
জন্য সমূহ ক্ষতিই।
কারণ প্রত্যেক ভাষাতেই প্রাণবৈচিত্র্যের অমূল্য ভাণ্ডার
নিহিত আছে। বিভিন্ন ভাষায় পশুপাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী ও গাছ-গাছড়ার বৈচিত্র্য
সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। বর্তমানে বিদ্যমান প্রাণী ও বৃক্ষকুলের সঙ্গে
বিভিন্ন ভাষায় প্রাপ্ত প্রাণী ও বৃক্ষকুলের পরিচয় তুলনা করলে আমরা বুঝতে
পারি কোন প্রাণীটি কিংবা কোন বৃক্ষ ও গুল্মলতাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই
বিলুপ্তি নিছক কোনো প্রাণী বা বৃক্ষ ও লতা-পাতার বিলুপ্তি নয়। এটি
মানবকুলের আয়ু দীর্ঘ করার ওষুধের উপাদানেরও বিলুপ্তি। নানা বিবেচনায়
প্রতিটি মাতৃভাষা মানবজাতির জন্য অফুরন্ত আশা-ভরসার উৎস, ইতিহাস-ঐতিহ্যের
স্মারক। এ কারণেই সব মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখা ও সমৃদ্ধ করা মানবজাতির
দায়িত্ব। জীব ও জড়ের মতো ভাষাও দ্বান্দ্বিকতার সংঘাতের মধ্যে পড়েছে। একদিকে
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে কোনো একটি ভাষাকে বিশাল শক্তিতে
শক্তি জোগাচ্ছে। এর পাশাপাশি অন্যসব ভাষার অস্তিত্ব দিনে দিনে দুর্বল হয়ে
উঠছে। অথচ মানবজাতিরই জ্ঞান সাধনার সঙ্গে সব ভাষার অস্তিত্ব অপরিহার্য।
ইউনেস্কো এমন কথাই বলছে। বাংলাদেশ বাংলা ভাষার রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ভৌগোলিক
সীমান্তের বাইরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় বিপুলসংখ্যক বাংলাভাষী
মানুষ বাস করছে।
একমাত্র আসাম ছাড়া বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো বাংলা
ভাষাভাষী অঞ্চলে মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলন হয়নি। রাষ্ট্রীয় ভিন্নতার কারণে
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার গল্প, উপন্যাস ও কবিতার ভাষা অনেকটাই ভিন্নতর হয়ে
গেছে। উপমা ও বিশেষণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
পশ্চিম বাংলার দৈনন্দিন ভাষায় হিন্দির অনুপ্রবেশ ঘটছে। বাংলাদেশও যে পৃথক
সার্বভৌম সত্তার শক্তিতে হিন্দির আগ্রাসন পুরোটা ঠেকিয়ে রাখতে পারছে এমন
নয়। দোষ দিতে হয় আকাশ সংস্কৃতিকে, দোষ দিতে হয় বিশ্বায়নের ঝড়ো হাওয়াকে, দোষ
দিতে হয় রাষ্ট্রীয় নীতিকেও। বৈশ্বিক ধারা প্রবল শক্তিতে প্রতিটি
মাতৃভাষাকে কম-বেশি আঘাত হানছে। তবে সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ল্যাসিকাল
উপনিবেশবাদের ভাষাকে অর্থাৎ ইংরেজিকে ঘায়েল করতে পারেনি। জ্ঞানের প্রয়োজনে,
বিশ্বকে জানার প্রয়োজনে এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনে আমাদের ইংরেজি ভাষা
করায়ত্ত করতে হবে। তবে কিছুতেই মাতৃভাষা বাংলার বিনিময়ে নয়। একুশ
ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষার এই স্বীকৃতি বিশ্ববাসীকে
বলে দেয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা কোনোক্রমেই অবহেলার হতে পারে না।
সব মাতৃভাষাকেই রক্ষা করতে হবে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায়।
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

No comments:
Post a Comment