ময়মনসিংহের
ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের কালিরচালায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া
ভ্যানচালক আবুল হাসেম (৪৫) হত্যার আড়াই মাস পর তার মাথার খুলি, দুই হাত ও
দুই পায়ের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ। রোববার সন্ধ্যারাতে
হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হাশেমের শ্যালক সাইফুল ইসলামকে সাথে নিয়ে পোল্ট্রি
খামারের একটি কুপ থেকে এসব কঙ্কাল ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়। সূত্রে জানা
যায়, আঙ্গারগাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ ফকিরের ছেলে আবুল হাসেম গত ১৪
নভেম্বর/১৬ সন্ধ্যায় ধানকাটার কাজের লোকের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর
তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। ১৮ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে ওই গ্রামের
কালিরচালায় অবস্থিত স্থানীয় তারেক ও পাশের সখীপুর উপজেলার কচুয়ার গ্রামের
শাহাদত হোসেনের যৌথ মালিকানধিন পোল্ট্রি খামারের লিটারের গর্তে হাত-পা ও
মস্তকবিহীন অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
বিকেলে পুলিশ অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল
মান্নান বাদি হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় হত্যা মামলা
দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মডেল থানার এসআই মাসুদ এ
হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতে থাকার সন্দেহে নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার ও মেয়ে
মুক্তা বেগমকে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
আদালত দুইদিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করলে তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও
হত্যা রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরে মামলটি ডিবিতে হস্তান্তর করা
হলে দীর্ঘ আড়াই মাস তদন্ত শেষে মামলার অন্যতম আসামী আসমার মামাতো ভাই আবুল
হাসান ওরফে মাহাকে নরসংন্দী থেকে গ্রেফতার করে এবং তার তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩
ফেব্রুয়ারী নিহত আবুল হাসেমের শ্যালক সাইফুল ইসলামকে দিনাজপূর থেকে
গ্রেফতার করা হয়। পরে সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার মূল রহস্য উৎঘাটিত
হয় এবং ৫ ফেব্রুয়ারী রোববার সন্ধ্যারাতে ময়মনসিংহ ডিবি’র এসআই পরিমল চন্দ্র
দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাইফুলকে সাথে নিয়ে উদ্ধার হওয়া লাশের
পাশেই জনৈক জুয়েলের পোল্ট্রি খামারের কুপ থেকে হাশেমের মাথার খুলি, দুই হাত
ও দুই পায়ের কঙ্কাল উদ্ধার করে।

No comments:
Post a Comment