ঋণ
জালিয়াতি ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা
ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ জন্য চলতি বছর সরকারি ৭ ব্যাংককে নতুন শাখা
খোলার অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ৭ ব্যাংক হল : সোনালী, অগ্রণী,
রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। তবে
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্তাব্যক্তিদের দাবি- নতুন শাখা অনুমোদনে কোনো বাধা
নেই। নিজ থেকে আবেদন করা হয়নি। সময়-সুযোগ বুঝে ভবিষ্যতে নতুন শাখা খোলার
বিষয়ে আবেদন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোন
ব্যাংক কত শাখা খুলতে চায় সে বিষয়ে বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন
করতে হয়। এরপর ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, মূলধন পরিস্থিতি, খেলাপি
ঋণের হারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হয়।
ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং যত ভালো ওই ব্যাংককে তত বেশি শাখা খোলার অনুমতি
দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি ভালো
না-থাকাসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ বিবেচনায় ছাড়া এসব
ব্যাংকের শাখা খোলার কোনো আবেদনই নেয়া হচ্ছে না। সূত্র জানায়, দুর্নীতি ও
নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বেশিরভাগ সরকারি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।
২০১৬ সাল শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সোনালী, বেসিক, রূপালী ও রাজশাহী কৃষি
উন্নয়ন ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এসব
ব্যাংকের বেশিরভাগ শাখা রয়েছে লোকসানে। জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান যুগান্তরকে বলেন, লোকবল
সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে নতুন শাখা খোলার আবেদন করিনি। তবে আগে অনুমোদন
পাওয়া কিছু শাখা খোলার কার্যক্রম চলছে। সবকিছু ঠিক করে আরও নতুন শাখা খোলার
আবেদন করব। তিনি বলেন, শুধু নতুন শাখা খুললে তো হবে না, একটি শাখা
সঠিকভাবে কার্যকর ও লাভজনক রাখার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামস উল ইসলাম যুগান্তরকে
বলেন, নতুন শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছি। এখনও পাচ্ছি। তবে নতুন বছরে কী
পরিমাণ নতুন শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছেন জানতে চাইলে তা তিনি বলতে রাজি
হননি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি বছর বেসরকারি খাতের ৩৮ ব্যাংক
৩০৮টি নতুন শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে। ব্যাংকগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
বাংলাদেশ ব্যাংক এসব শাখা খোলার অনুমতি দেয়। তবে সরকারি খাতের ৭ ব্যাংককে
নতুন শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হয়নি।
এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ৪টি ও বিদেশী
খাতের ৯ ব্যাংক এবার কোনো নতুন শাখা খোলার জন্য আবেদন করেনি। বাংলাদেশ
ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত তিন বছরে ব্যাংকগুলো মোট ৯৬৯টি শাখা খোলার অনুমতি
পেয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৮ ব্যাংক খুলেছে মাত্র ১০৩টি শাখা। বাকিগুলো
খুলেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। গত বছর ব্যাংকগুলো যে ২১৯টি শাখা খুলেছে তার
মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় ৪টি শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হয়।
সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে মোট শাখার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ৬৫৪টি। এর
মধ্যে গ্রামে রয়েছে ৫ হাজার ৪৬৬টি। আর শহরে রয়েছে ৪ হাজার ১৮৮টি শাখা। এবার
যেসব শাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধু
বিডিবিএল ৪টি শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে। বাকি সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও
বেসিকসহ মোট ৭টি ব্যাংক নতুন কোনো শাখা খোলার অনুমতি পায়নি। এ ছাড়া
বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট, এক্সিম, ইবিএল ও আইসিবি ইসলামী এবং বিদেশী
মালিকানার ৯টি ব্যাংক কোনো শাখা খোলার আবেদন করেনি। ২০১৭ সালে ১০টি করে
নতুন শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে ২২টি বেসরকারি ব্যাংক। এ ছাড়া একটি বেসরকারি
ব্যাংক ৯টি শাখা, ৪টি বেসরকারি ব্যাংক ৮টি শাখা, একটি বেসরকারি ব্যাংক ৭টি
শাখা, ৩টি বেসরকারি ব্যাংক ৬টি শাখা, ২টি বেসরকারি ব্যাংক ৫টি শাখা, ২টি
বেসরকারি ৪টি করে নতুন শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময়
গ্রামের তুলনায় শহরে কয়েকগুণ বেশি শাখা খুলত ব্যাংকগুলো। তবে ২০০৬ সালে এক
নির্দেশনায় বেসরকারি ব্যাংকের শহরাঞ্চলে চারটি শাখার বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে
অন্তত একটি শাখা খোলার বিধান করা হয়। পরে ২০১২ সাল থেকে গ্রামে একটির
বিপরীতে শহরে একটি শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment