Wednesday, March 1, 2017

আফগানিস্তানে ‘চীনা বাহিনীর রহস্যময় উপস্থিতি’

সাম্প্রতিক সময়ে আফগান ভূখণ্ডে চীনা বাহিনীর উপস্থিতির বেশ কিছু খবরের পর তা অস্বীকার করেছে চীন। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বেইজিং জানিয়েছে, আফগান সরকারের সঙ্গে মিলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যৌথ অভিযান চালাচ্ছে তারা। তবে আফগানিস্তানের ভেতরে চীনের কোনো সেনা প্রবেশ করেনি। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চীন তার এই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে। আর এমন পরিস্থিতির মধ্যে আফগান ভূখণ্ডে চীনা বাহিনীর উপস্থিতির সংবাদ আসায় এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র রেন গিওকিয়াং গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দুই দেশের আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষের আলোচনায় যৌথ অভিযান চলছে সীমান্তে।’ তবে এর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করেছেন তিনি। এর আগে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পামির এবং কারাকোরাম অঞ্চলের মাঝে ওয়াখান করিডোরে চীনের সাঁজোয়া যানের ছবি প্রকাশ করে একটি ভারতীয় গণমাধ্যম। গত বছরের তিন নভেম্বর ওই ছবি প্রকাশের পর থেকেই চলছিল আলোচনা। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্য এশিয়ার একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়, আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে চীন। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ‘সেন্ট্রাল এশিয়া-ককেসাস অ্যানালিস্ট’। নাম না প্রকাশের শর্তে চীনের কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের একজন ওই তথ্য স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতের ফিনান্সিয়াল টাইমস। তবে তা অস্বীকার করেছে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চীনের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে নিজেদের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি অস্বীকার করা এবং একই সঙ্গে যৌথ অভিযানের কথা মেনে নেয়া- এই দুই ধরনের বক্তব্য রহস্য সৃষ্টি করেছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। একটি অংশ মনে করছে, আফগানিস্তানে চীনের কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নেই। তবে যুক্তরাজ্যের ‘রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট ইন লন্ডন’র বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ব্রোঙ্ক মনে করেন, সামরিক বাহিনী দিয়ে নয়, সামরিক কায়দায় পুলিশ দিয়েই আফগানিস্তানে অভিযান চালাচ্ছে চীন। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের মতো দেশে কোনটা পুলিশের অভিযান, আর কোনটা সামরিক অভিযান, তা বোঝা দুষ্কর।’ প্রকাশিত ছবিতে যে ধরনের যান দেখা যাচ্ছে, তা চীনা ‘ডংফেং ইকিউ ২০৫০’ সাঁজোয়া যানের মতো। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএস হামভি’র আদলে তৈরি। অথবা এগুলো ‘নরিনকো ভিপি ১১’ হতে পারে। পুলিশই এগুলো ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে মনে করেন ব্রোঙ্ক। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চাইছে চীন। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ : পাকিস্তানে কীভাবে সন্ত্রাসবাদ দমন করা যায়, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন চীনা কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বড় কথা আফগানিস্তানজুড়েই আছে চীনা বিনিয়োগ।

No comments:

Post a Comment