Tuesday, March 7, 2017

দক্ষিণ চীন সাগরে টহলে নামছে তাইওয়ান

দক্ষিণ চীন সাগরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সামরিক মহড়ার পদক্ষেপ নিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন চীনের সঙ্গে সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন ঝুঁকি হিসেবে দক্ষিণ চীন সাগরে রণতরী নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাইওয়ানের এ কর্মকাণ্ডে বেইজিং ক্ষুব্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে তাইপে পার্লামেন্টে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেং শিহ কুয়ান বলেছেন, ‘৩৫ লাখ বর্গ কিলোমিটারের সমুদ্র সীমানার দক্ষিণ চীন সাগরে চীন সামরিক শক্তি বাড়ানোয় তাইওয়ানের নৌবাহিনীও তাদের সামরিক প্রহরা বাড়াবে।’ তাইওয়ানের নৌবাহিনী দেশটির বিমানবাহিনীকেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবে বলেও জানান তিনি। কুয়ান আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে নিয়মিত সামরিক মহড়া, মানবিক উদ্ধার তৎপরতার প্রশিক্ষণ এবং তাইওয়ানের মাছধরা নৌকাগুলোকে সুরক্ষায় দেশটির নৌবাহিনী প্রহরা আরও বাড়াবে। ইতিমধ্যে সাগরে তাইওয়ানের মাছধরা নৌকাগুলোর নিরাপত্তায় একটি মাঝারি রণতরী পাঠানো হয়েছে।
তাইওয়ানের এ ধরনের তৎপরতায় চীন আরও বেপরোয়া হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। তাইপেভিত্তিক মার্কিন বিশ্লেষক রস ফেইনগোল্ড বলেন, জোরপূর্বক তাইওয়ানের তাইপিং দ্বীপে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে চীন। যদিও দক্ষিণ চীন সাগর দ্বন্দ্বের সঙ্গে এ দ্বীপ সম্পর্কিত নয়। তাইওয়ানভিত্তিক দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ক থিংক ট্যাংক জনাথন স্প্যাংলার বলেন, সমুদ্রে অন্য দেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেইজিং হস্তক্ষেপ বাড়াতে পারে, যা তাইওয়ানের স্বার্থে বিপর্যয় বয়ে আনবে। চীনের তৎপরতার বিষয়ে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে চীনের বিমানবাহী রণতরী তাইওয়ানের আশপাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। গত সপ্তাহেও জাপানের প্রত্যন্ত এলাকার দ্বীপ ও তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় পানিসীমায় সামরিক রণতরী পাঠায় বেইজিং। দক্ষিণ চীন সাগরের ৯৫ শতাংশ মালিকানা দাবি করে চীন। এছাড়া তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেইও এ সমুদ্র এলাকার মালিকানা দাবি করে আসছে। তাইওয়ান ২০১০ সাল থেকে এ সমুদ্র এলাকার অবাসযোগ্য দ্বীপের মালিকানা পেতে সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলে চীন। কিন্তু তাইওয়ানকে তাদের দেশের অংশ মনে করে বেইজিং। প্রায় ৭ দশক ধরে চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাইওয়ান। এমনকি এশিয়ার সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই দেশটির।

No comments:

Post a Comment