ভারতের
বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলা নতুন করে সচল হচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এ
মামলার যৌথ বিচার বিভাগীয় তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ফেঁসে যেতে পারেন
বিজেপির তিন শীর্ষ নেতা ও এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের
মামলায় চার্জশিটে নাম থাকতে পারে বিজেপির ‘লৌহপুরুষ’ লালকৃষ্ণ আদভানি,
বিজেপির শীর্ষ নেতা মুরলি মনোহর যোশী এবং কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী উমা
ভারতীর। আগামী ২২ মার্চ এ মামলার পুনরুজ্জীবন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
জানাবেন সুপ্রিমকোর্ট। খবর এনডিটিভির।
সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা
সংস্থা সিবিআইকে সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল গ্রাউন্ডে লালকৃষ্ণ
আদভানিকে ছেড়ে দেয়া হোক, এটা কখনোই মেনে নেয়া হবে না। যেটার অনুমতি দেয়া
যেতে পারে, ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়া
হোক এবং সেখানে অবশ্যই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি রাখা হোক। আমরা ট্রায়াল
কোর্টের কাছে বিষয়টি রাখব এবং যৌথ তদন্তের বিষয়টি উল্লেখ করব। আদভানি,
যোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিংসহ বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা ও ভিএইচপি নেতার
বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এলাহাবাদ হাইকোর্ট খারিজ
করে দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই শীর্ষ আদালতে আবেদন করে। সুপ্রিমকোর্ট
ইঙ্গিত দিয়েছে, এ মামলা শুরু করতে পারে তারা।
বিচারপতি পিসি ঘোষ ও আরএস
নরিম্যানের বেঞ্চ এ নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৯৯২ সালে যখন বাবরি মসজিদ ধ্বংস
হয়, কল্যাণ সিং তখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। হিন্দু সংগঠনগুলো
দাবি করে এসেছে, ওই মসজিদের নিচে রামচন্দ্রের জন্মস্থান রয়েছে। বিজেপির
নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোয় অযোধ্যার ওই ভূমিতে বিতর্কিত রামমন্দির গঠনের
প্রতিশ্রুতি আছে। এদিকে সুপ্রিমকোর্টের এ নির্দেশনা উত্তরপ্রদেশের
নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি এবং
কংগ্রেস এখন বিজেপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে পারবে।

No comments:
Post a Comment