আট
বছর পরে বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামা একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অরুণাচল
প্রদেশে যাচ্ছেন। সেখানে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
কিরেণ রিজিজু। আর তাতেই ক্রুদ্ধ হয়েছে বেইজিং। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে
দিল্লির এই কাজে ভারত–চীন সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ৪ থেকে ১৩
এপ্রিল অরুণাচল প্রদেশ সফর করবেন দালাই লামা। আট বছর পরে অরুণাচল প্রদেশের
তাওয়াং মঠে যাবেন তিনি। আগেই সেই সফরের বিরোধিতা করেছিল চীন। ভারতের পক্ষ
থেকে বলা হয়, ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে বাস করেন দালাই লামা। তাকে দেশের কোনো
প্রান্তে ভ্রমণ থেকে বিরত করা হবে না। দালাই লামাকে বরাবরই ভয়ঙ্কর
বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে মনে করে চীন।
প্রায় ছয় দশক ধরে ভারতে নির্বাসিত রয়েছেন
এই তিব্বতি ধর্মগুরু। হিমাচলপ্রদেশের ধর্মশালায় নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা
করেছেন দলাই। চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন অনেকটাই অবনতির দিকে।
অরুণাচলকে তিব্বতের অংশ বলে মনে করে চীন। সেদিক থেকে অরুণাচলকে তাদেরই অংশ
হিসেবে চীন দেখে। আর এবার সেই স্পর্শকাতর অরুণাচলেই ভারতের কেন্দ্রীয়
মন্ত্রী বৈঠক করবেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দলাই লামার সঙ্গে। মোদি
ক্ষমতায় আসার পরে পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আগের সরকারগুলো
দালাই লামাকে কিছুটা হলেও এড়িয়ে চলত। কিন্তু চীনকে চাপে রাখতে দলাই কার্ড
খেলতে শুরু করেন মোদি। আর অরুণাচলের এমপি কিরেণ রিজিজুকে মন্ত্রী করেছেন।
অরুণাচল বিষয়ে তিনিই সরকারের মুখ। রিজিজু বলেছেন, ‘এটা ব্যবহারগত
পরিবর্তন। ভারত এখন আরও দৃঢ়। একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবেই তিনি সেখানে
যাচ্ছেন। তাকে থামানোর কোনো কারণ নেই। ভক্তরা তাকে চাইছেন। কী ক্ষতি তিনি
করতে পারেন?’

No comments:
Post a Comment