রাজধানীতে
তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে বুধবার রাত
১০টার মধ্যে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে পল্লবীতে বাবার চোখের সামনে
ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। দুপুরে বনশ্রীতে বাইসাইকেল চুরির
অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় মঙ্গলবার
রাতে দুর্বৃত্তদের চাপাতির কোপে আহত কিশোর বুধবার সকালে মারা গেছে।
পল্লবীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহতের নাম সাইফুল ইসলাম (৩৫)। তার বাবা
সামসুর রহমান পল্লবীর সেকশন-১২ এর ই-ব্লকের পানির ট্যাংকের সামনে
কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তিনি জানান, সাইফুল ইসলাম মিরপুর বেনারসি পল্লীতে
একটি শাড়ির কারখানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। বুধবার সন্ধ্যা
সাড়ে ৭টার দিকে সাইফুল কর্মস্থল থেকে বের হয়ে তার কাঁচামালের দোকানের সামনে
যান। এ সময় সেখানে সাইফুলকে দুই যুবক এসে চরথাপ্পড় মারে। এ সময় সামসুর
রহমান এগিয়ে গেলে এক যুবক সাইফুলের বুকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ধাওয়া খেয়ে
দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর সাইফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়
ক্লিনিক ও পরে রাত ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার
চিকিৎসকরা সাইফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। সাইফুর রহমান জানান, যারা তার ছেলেকে
হত্যা করেছে তাদের নাম তিনি জানেন না। তবে দেখলে চিনতে পারবেন। কি কারণে
সাইফুলকে হত্যা করা হয়েছে তাও তিনি বুঝতে পারছেন না। নিহতের গ্রামের বাড়ি
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আটারবাড়ি গ্রামে।
পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘাতকদের
গ্রেফতার করা হবে। একইদিন দুপুরে বনশ্রীতে বাইসাইকেল চুরির অভিযোগে মানিক
মিয়া নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খিলগাঁও থানার এসআই মনির
হোসাইন জানান, বনশ্রীর ই-ব্লকের ৯/৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের
ছেলে শাহনেওয়াজ রিমনের একটি বাইসাইকেল ২০-২৫ দিন আগে চুরি হয়। এরপর থেকে সে
মানিককে সন্দেহ করত। বুধবার বেলা ১১টার দিকে মানিককে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে
বাড়ির গ্যারেজে ঢুকিয়ে বেদম মারধর করে শাহনেওয়াজ রিমন ও তার বন্ধু সফিকুল
ইসলামসহ অন্য সহযোগীরা। এতে সে গুরুতর আহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে মুগদা
জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায়
শাহনেওয়াজ রিমন ও সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত মানিক বরগুনা
সদরের খাকবুনিয়া গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে
দক্ষিণ বনশ্রীর এ-ব্লকের একটি বাড়িতে থাকতেন। শেওড়াপাড়ায় দুর্বৃত্তদের
চাপাতির কোপে আহত কিশোর সজীব মিয়া (১৬) বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে মারা গেছে। নিহত সজীব কিশোরগঞ্জের দরবারপুর গ্রামের আবদুর রশিদের
ছেলে। সে ১৭৮/১ পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ৬ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় বোনের বাসায়
থাকত। তার ভগ্নিপতি আল মাহমুদ বাবু জানান, সজীব নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া
করে। গত কিছুদিন ধরে চাকরি খুঁজছিল। সে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সৌরভ ও রুবেলের
সঙ্গে মিশত। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের গলিতে সৌরভ
তাকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সৌরভ সজীবকে ধরে রাখে আর রুবেল তার ঘাড়ে,
পিঠে
ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে তারা সজীবকে রাস্তায় ফেলে
পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
ভর্তি করা হলে বুধবার সকাল ৮টায় মারা যায় সজীব। সজীবকে কেন হত্যা করা হল,
সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তার ভগ্নিপতি বাবু। মিরপুর থানার এসআই
জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রুবেলকে থানায় আনা হয়েছে।
বোটানিক্যাল গার্ডেনে যুবকের ঝুলন্ত লাশ : একইদিন মিরপুরের বোটানিক্যাল
গার্ডেনের একটি হিজল গাছ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তার নাম মো. আকাশ (২০)। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। দারুসসালাম থানার
এএসআই খোকন চন্দ্র দেব জানান, বোটানিক্যাল গার্ডেনের একটি হিজল গাছের ডালের
সঙ্গে লাশ ঝুলতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে
বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। আকাশের বাবার নাম মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি পিডব্লিউডির কর্মচারী। তারা পিডব্লিউডির স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন।
আনোয়ার জানান, মঙ্গলবার বিকালে মায়ের সঙ্গে আকাশের সর্বশেষ কথা হয়েছে। সে
রাতে ঘরে ফিরবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকেই তার মোবাইল ফোন
বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তার কোনো শত্রু ছিল না।

No comments:
Post a Comment