কুমিল্লায়
একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোপত্র দাখিলকে
‘সরকারের প্রভুদের নীলনকশা’র অংশ বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অবিলম্বে এ
মামলা ও তার অভিযোগপত্র প্রত্যাহারের দাবিও জানায় দলটি। সোমবার রাতে
নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম
মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিপর্যস্ত করার জন্য হীন
ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের নিরবচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর
বিরুদ্ধে কুমিল্লায় ডাহা মিথ্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এ সরকার ও
তাদের প্রভুদের নীলনকশার অংশ হল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায়
অভিযোগপত্র দাখিল। এদিন দুপুরে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ৫ নম্বর
আমলি আদালতে চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমায় আটজন নিহতের ঘটনায় পুলিশ খালেদা
জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য একটা পরিকল্পনা নিয়ে এ
ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব
খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুস সালাম আজাদ,
তাইফুল ইসলাম টিপু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ
সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামান
উপস্থিত ছিলেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল কারামুক্তির পর
ফের তাকে গ্রেফতার করার নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, উচ্চতর আদালত থেকে
জামিন পেয়ে সোহেল কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর সাদা পোশাকের নিরাপত্তা
বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নেয়। আমাদের কিছু সতীর্থ এবং সোহেলের সতীর্থরা
সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মিন্টু রোড ডিবি অফিসে সেই গাড়িটি গেছে। সাদা
পোশাকধারীরা যে কাউকে তুলে নিতে পারে, অদৃশ্য করে দিতে পারে, অপহরণ করতে
পারে অথবা এর চেয়েও ভয়াবহ কিছু করতে পারে। তাকে ঠিক কী উদ্দেশ্যে তারা নিয়ে
গেছেন, আমরা জানি না। এক অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে সোহেলকে আবার তুলে নেয়া হয়েছে
বলে জানান তিনি। অবিলম্বে সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন,
আমরা জানি, গোয়েন্দা পুলিশ অফিসে তাকে নিয়ে কী করা হচ্ছে। আমি হুশিয়ারি করে
বলতে চাই, তার ওপর যেন বর্বরোচিত আচরণ না করা হয়। একজন সাবেক ছাত্রনেতার
প্রতি যদি কোনো অন্যায় ও বর্বর আচরণ হয়, তার প্রতিটি হিসাব কিন্তু রাখা
হবে।

No comments:
Post a Comment