Tuesday, March 7, 2017

গৃহ ব্যবস্থাপনায় কর্মজীবী নারী

বাসা-অফিস। প্রতিদিনের নাভিশ্বাস দৌড়। কর্মজীবী নারীরা হাঁপিয়ে উঠেন নিত্যকাজের রুটিনে। আবার সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়া, সাংসারিক নানা কাজের রুটিনে গৃহিণীরও মনে হয় একটু যদি সময় পেতাম! ঘরের কাজ থেকে একটু যদি রেহাই পেতাম। অজান্তে দীর্ঘশ্বাস। এই দীর্ঘশ্বাসটুকু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন আপনি যদি একটু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেন।
ডা. আলো বলেন, ‘প্রতিদিনের রান্নার ঝামেলা কমাতে কিংবা রান্নার কাজটাকে সহজ করতে কিছু কিছু খাবার হাফ ডান করেই রাখা যায়। এতে সময় বাঁচে। স্বস্তি পাওয়া যায়। যেমন ধরুন আপনি জানেন দু’দিন পর বাসায় মেহমান আসবে, তার জন্য আগে থেকেই আপনি তৈরি করে রাখতে পারেন কিছু নাশতা।  বাসায় তৈরি পুরি, সিঙাড়া, সমুচা, কাবাব, চপ, নাগেটস ইত্যাদি খাবার আগে তৈরি করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিলে মেহমান এলে ঝটপট ভেজে সসের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়। যদি ঘরে তৈরি করাটা জামেলাজনক হয় তবে সুপারশপ থেকে কিনে ডিপফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। প্রতিদিন বিকালের নাশতাটা নিয়ে ভাবতে হয়, ইচ্ছা করলে এই খাবারগুলো বিকালের নাশতায় দিতে পারেন। আবার নুডুলস, ছোলা- এগুলো আগের দিন সিদ্ধ করে ফ্রিজে রাখতে পারেন, পরিবারের সবার বিকালের নাশতার আগে কিছু সবজি মিশিয়ে পরদিন এগুলো ভেজে দিতে পারেন। এতে করে খাবার তৈরি করাটাকে আপনার বোঝা মনে হবে না, আর পরিবারের সবাই বাসায় তৈরি খাবার একসঙ্গে খেতে পেরেও খুশি হল।’ এ তো গেল নাশতার কথা। প্রতিদিনের রান্না?
এ ব্যাপারে আখতারুন্নাহার মনে করেন, কাজের ঝক্কি-কমানোর জন্য মাছ-মাংস ইচ্ছা করলেই এক-দুদিন আগে মেরিনেট করে রাখা যায়। কিছুটা হলুদ-মরিচ-লবণ দিয়ে মাংস সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিলে রান্না করার সময় শুধু তা একটু কষিয়ে কিংবা ভেজে নিলেই হয়। আগে তৈরি করে রাখতে রুচিমতো কেউ কেউ সয়াসস, ওয়েস্টার সসও ব্যবহার করেন। ভাজা কিংবা রান্নার জন্য মাছ-মাংস এভাবে নানারকম সস দিয়ে মেরিনেট করে রেখে দেয়া যায় দুই-তিনদিন। আর শাক-সবজির ক্ষেত্রে শাকগুলো কুটে-ধুয়ে লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে বাতাস ঢুকতে পারে না এমন পাত্রে রাখা যায়। রান্নার আগে নামিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে রান্না করা যায়। সবজির ক্ষেত্রেও ঠিক এমন। একটু হলুদ-লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে বাক্সভর্তি করে রাখা যায়। আবার ইচ্ছা করলে তাড়াহুড়া এড়ানোর জন্য সবজিগুলো আগের দিন রাতে কেটে বক্সে ভরে রাখা যায়। তাহলে রান্নার আগে কাটা-ধোয়ার ঝামেলা এড়ানো যায়। একটা বাক্সে কিছু পেঁয়াজ কেটে রাখতে পারেন ২-৩ দিনের জন্য। পেঁয়াজ কাটা থাকলে তাড়াহুড়ার রান্না এগিয়ে যায় অনেকখানি। এভাবে একটু বুদ্ধি করে রান্নার কাজ গুছিয়ে রাখলে প্রতিদিনের রান্নাটাকে খুব কষ্টকর মনে হবে না। খাবার খাওয়ার দু-একদিন আগে থেকে তা মোটামুটি তৈরি করে রাখা। এমনকি সবজি পর্যন্তও। এতে কি খাবারের পুষ্টিগুণ যথার্থ থাকে? এমন প্রশ্ন জাগতে পারে মনে।
তাদের সন্দেহ দূর করতে তিনি জানান- ‘যখন খাব তখন রান্না করাটা তো সবচেয়ে ভালো। তবে এখনকার নাগরিক জীবনে কিছু কিছু খাবার ইচ্ছা করলেই আমরা এরকম আগে তৈরি করে রেখে দিতে পারি। তবে আমি যে বিষয়টায় গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি তা হল, আমরা অনেকেই রান্না করে বেশিদিনের জন্য ফ্রিজে রেখে খাই। এটা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্রিজে রাখা খাবারের মান সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনদিন ভালো থাকে। এর চেয়ে যদি বেশিদিনের জন্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয় তবে আমাদের ডিপফ্রিজে রাখতে হবে তা। একটি বাটিতে অনেকগুলো তরকারি রেখে সেখান থেকে চামচ দিয়ে ভাগ ভাগ করে না উঠিয়ে আলাদা আলাদা বাটিতে রাখলে খাবারের পুষ্টিমানের কোনো সমস্যা হয় না। দু-একদিন আগে তৈরি করা খাবারের বেলায়ও ঠিক একই রকম। ভাগ ভাগ করে বাটিতে এক-দুদিন রাখলে পুষ্টিমান ঠিক থাকে। যদি সাত-আটদিন রাখতে চান তবে ডিপফ্রিজে রেখেও রান্না করা যায়। এতেও পুষ্টির কোনো হেরফের হয় না। মনে রাখতে হবে সবকিছু যদি একটু পরিকল্পনামাফিক করা যায় তবে সাংসারিক জীবন-রান্নাও ঝক্কির মনে হবে না।

No comments:

Post a Comment